মাত্র চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকশনের অনুমতি কেন? প্রশ্ন যাদবপুরের

"এই তালিকায় শুধুমাত্র চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলা হয়েছে। আন্দোলনে অগ্রগতি হলেও এটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। বাকি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কেন বাদ গেল তা এখনও স্পষ্ট নয়।"

By: Kolkata  Published: October 18, 2019, 6:13:02 PM

ঘুড়িকে আকাশে উড়তে দিলেও, লাটাই ধরে রেখেছে রাজ্য সরকার, দিনের শেষে রাজ্যের চারটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে এমনটাই মত অভিজ্ঞ মহলের। বৃহস্পতিবার একেবারে চমকে দিয়ে রাজ্যের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্টুডেন্ট ইউনিয়ন বা স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য নির্দেশ দেয় রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর। যে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ভোট করানোর জন্য বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনটির অধীনে অবশ্য কোনও কলেজ নেই। বিজ্ঞপ্তিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডায়মন্ডহারবার উইমেন্স ইউনিভার্সিটিতে ভোট করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এই সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্র-বিরোধী বলে মনে করছেন যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। যাদবপুরের এফএএস সমর্থক হিমন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলাকে বলেন, “আড়াই বছর ধরে চলছে স্টুডেন্টস ইউনিয়ন গড়ার আন্দোলন। এই বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য সরকার কোনোরকম দায়িত্ব না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।

“সাধারণভাবে যা দেখা গিয়েছে, যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের প্রতিবাদের ভাষা দৃঢ়তর। ডায়মন্ড হারবার উইমেন্স বিশ্ববিদ্যালয় বা রবীন্দ্রভারতীতে সেই ছবিটা কোনোদিন দেখা যায় নি। সুতরাং কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন, তাহলে খুব সহজেই এই দুই জায়গায় স্টুডেন্টস কাউন্সিল চাপিয়ে দিতে পারেন। সেই পথ খোলা রেখেছে রাজ্য সরকার। কানাঘুষোয় জানতে পেরেছি আমরা, যে রাজ্যের বাকি কলেজগুলোতে স্টুডেন্ট কাউন্সিল করানো হবে। সুতরাং আমাদের আন্দোলনের সার্বিক জয় হয় নি। তবে এটা বলতে পারি, এই সুযোগ পরবর্তীকালের আন্দোলনকে আরও জোরালো করবে। আমার মনে হয়, ২০২১-এ ফিরে আসতে চাইলে এই ধরনের কর্মসূচি ওঁদের গ্রহণ করতেই হবে, খোলা রাখতে হবে ট্রেড ইউনিয়ন বা স্টুডেন্টস ইউনিয়নের রাস্তা। কাজেই এমন মনে করার কারণ নেই যে রাজ্য সরকার দয়া করে এই সুযোগ ফিরিয়ে দিল।”

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে শেষবারের মতো রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। তারপর রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের মতো কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন সংসদ চালাবে। সেই থেকে রাজ্য সরকার কোনও কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন করানোর কোনও ব্যবস্থা নেয় নি। ছাত্র সংসদের নির্বাচন না করানোর ব্যাপারে কার্যত অনড়ই ছিল সরকার।

এসএফআই ছাত্র সংগঠনের সদস্য দেবরাজ দেবনাথ বলেন, “এটা একটা চাল। এই তালিকায় শুধুমাত্র চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলা হয়েছে। আন্দোলনে অগ্রগতি হলেও এটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। বাকি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কেন বাদ গেল তা এখনও স্পষ্ট নয়।”

অন্যদিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য সঞ্জীব রায় বলেন, “বৃহস্পতিবার আমরা মাননীয় শিক্ষমন্ত্রী পার্থ চট্টপাধ্যায়ের কাছে যাই যাদবপুরের তৃনমূল ছাত্র পরিষদের তরফ থেকে। সেখানে গিয়ে আমরা প্রস্তাব রাখি যে আমরা সংসদ নির্বাচন চাই। এই দাবি তিনি মেনে নেন এবং চারটি হোম ইউনিভার্সিটিতে স্টুডেন্টস কাউন্সিল অথবা স্টুডেন্টস ইলেকশনের অনুমতি দেন।”

উল্লেখ্য, আগামী স্টুডেন্টস ইউনিয়ন গঠনের নির্ধারিত সময় জানুয়ারি মাসের শেষ অথবা ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু।

Get all the Latest Bengali News and West Bengal News at Indian Express Bangla. You can also catch all the Education News in Bangla by following us on Twitter and Facebook

Web Title:

Elections in four bengal universities opinion of students of jadavpur presidency

The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com.
Advertisement

ট্রেন্ডিং
রাশিফল
X