একতরফা নিয়োগ, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে এবার বিরাট আবেদন রাজ্যের

তালিকায় রয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা, সঞ্জয় বনশল, পি মোহন গান্ধি, অবনীন্দ্র সিং, পিবি সেলিম, সৌমিত্র মোহন, শুভাঞ্জন দাস, রচনা ভগত এবং পি উল্গানাথন ।

তালিকায় রয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা, সঞ্জয় বনশল, পি মোহন গান্ধি, অবনীন্দ্র সিং, পিবি সেলিম, সৌমিত্র মোহন, শুভাঞ্জন দাস, রচনা ভগত এবং পি উল্গানাথন ।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল রিপোর্ট কার্ড, পশ্চিমবঙ্গ চাকরি সৃষ্টি, দুয়ারে রেশন, খাদ্য সাথী প্রকল্প, লক্ষ্মী ভান্ডার সুবিধা, Bengal development report, Mamata Banerjee 14 years, 2 crore jobs in Bengal, TMC government achievements, West Bengal employment, Bengal health budget rise, MGNREGA Bengal top, Rural housing Bengal

একতরফা নিয়োগ, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে এবার বিরাট আবেদন রাজ্যের

বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগকে ঘিরে কেন্দ্র–রাজ্য টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি পাঠিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ মোট নয়জন আইএএস অফিসারকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। এই কর্মকর্তাদের অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য 'পর্যবেক্ষক' হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই ভোট হওয়ার কথা।

রাজ্য সরকার কমিশনকে জানিয়েছে, যাঁদের অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে তাঁদের বদলে নয়জন বিকল্প আধিকারিকের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন চারটি রাজ্যের নির্বাচনের জন্য মোট ১৫ জন আইএএস এবং ১০ জন আইপিএস অফিসারকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করে। তাঁদের আগামী ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে একটি ব্রিফিং বৈঠকে যোগ দিতে বলা হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, ওই বৈঠকে হাজির না হলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আধিকারিকদের বেছে নিয়ে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে, যা নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষস্তরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রসচিব জে পি মীনা, সংখ্যালঘু বিষয়ক সচিব পি বি সেলিম এবং পঞ্চায়েত সচিব পি উলাগানাথনের মতো শীর্ষ আধিকারিকদের পর্যবেক্ষক করা নিয়ে আপত্তি তুলেছে রাজ্য। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সাধারণত অপেক্ষাকৃত জুনিয়র আধিকারিকদেরই নির্বাচন পর্যবেক্ষক করা হয়, যাতে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কাজকর্ম ব্যাহত না হয়।

আরও পড়ুন- রাজীব বিদায়! কে হবেন রাজ্যের পরবর্তী ডিজিপি? তুঙ্গে চর্চা   

একজন শীর্ষ আমলা জানান, “নির্বাচন কমিশন এলোমেলোভাবে বিভিন্ন দপ্তরের সচিবদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে। এর ফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কার্যত থমকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনপূর্ব সময়ে যদি স্বরাষ্ট্রসচিবকে অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়, তাহলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাবে কে এই প্রশ্ন উঠছে। সেই কারণেই রাজ্য সরকার স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ নয়জন সিনিয়র অফিসারকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছে।”

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা একতরফাভাবে এই নিয়োগ করতে বাধ্য হয়েছিল, কারণ রাজ্য সরকার বারবার চিঠি পাঠানোর পরও পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো যেতে পারে এমন আধিকারিকদের তালিকা দেয়নি। সূত্রের দাবি, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অন্তত তিনবার নবান্নকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু কোনও উত্তর না পাওয়ায় কমিশন রাজ্য ক্যাডার থেকেই অফিসার বেছে নিতে বাধ্য হয়।

আরও পড়ুন- অর্থমন্ত্রী কি মধ্যবিত্তদের প্রত্যাশা পূরণ করবেন? কর ছাড়ের সীমা আরও বাড়বে? বাজেটের আগে জোর জল্পনা 

সূত্র অনুযায়ী, রাজ্য সরকার স্বরাষ্ট্রসচিব, সংখ্যালঘু বিষয়ক সচিব, পঞ্চায়েত সচিব এবং পরিবহণ সচিব-সহ মোট নয়জন সিনিয়র আধিকারিককে অব্যাহতির অনুরোধ জানিয়েছে। এদিকে দুই আইপিএস অফিসার ভারত লাল মীনা এবং হৃষিকেশ মীনা ব্যক্তিগত কারণ ও চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আলাদা করে নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের দাবি, অতীতেও বিভিন্ন রাজ্যের অনুরোধে নির্বাচন কমিশন কিছু আধিকারিককে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে ছাড় দিয়েছে। এক সূত্রের কথায়, “এবার কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে রাজ্য সরকার যেহেতু বিকল্প নয়জন অফিসারের নাম পাঠিয়েছে, তাই তাদের আবেদন গ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।”

আরও পড়ুন- ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট অধিবেশনে এই ৫ বড় ঘোষণা? ব্রেকিং আপডেট সামনে আসতেই মধ্যবিত্ত শ্রেণির মুখে চওড়া হাসি

Advertisment
election commission mamata