scorecardresearch

General Election 2019: ভোটে কী করবে বাংলার নকশালরা?

2019 General Election: নকশালপন্থী আন্দোলনের ধাত্রীভূমি পশ্চিমবঙ্গে এ আন্দোলন তুলনায় স্তিমিতই। তবু ভোটের সময়ে নকশাল সংগঠনগুলি কম বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে, সাধ্যানুসারে। এবারের ভোটে তাদের ভূমিকা কী?

General Election 2019: ভোটে কী করবে বাংলার নকশালরা?
নকশালবাড়িতে শহিদ স্মারক (ফাইল ফোটো- পার্থ পাল)

General Election 2019: নির্বাচনের সঙ্গে নকশাল শব্দটির সম্পর্ক, চালু ধারণায় বিপরীতার্থক। সাধারণ গল্পে উপন্যাসে সিনেমায় দেখা যায়, নকশালরা ভোট বয়কট করে থাকে, ভোটের প্রস্তুতির সময়ে নকশাল অধ্যুষিত এলাকায়অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হয়, ভোটের দিনগুলিতে তো বটেই। এসব যে কেবল গল্পকথা মাত্র, তাও নয়। কিন্তু এ ছবিটা খণ্ড, সম্পূর্ণ নয়। ভারতে তথা পশ্চিমবঙ্গে নকশালপন্থীরা বহুধাবিভক্ত। এদের মধ্যে একাংশ ভোটে অংশগ্রহণ করে, নির্বাচনী রণকৌশল হিসেবে কাউকে সমর্থনের কথা বলে, কাউকে পরাস্ত করতে বলে, অধুনা সংযোজিত অপশন নোটাতে বোতাম টেপার আহ্বানও দিয়ে থাকছে কেউ কেউ।

এ রাজ্যের কয়েকটি নকশালপন্থী দল তাদের ভোট প্রচার শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিড আন্দোলন করে প্রচারে আসা সিপিআইএমএল রেড স্টার যাদবপুরে সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে সমর্থনের কথা বলে অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আবার সিপিআইএমএল লিবারেশন শুরুতে সিপিএমের পক্ষে থাকলেও পরে তারা আলাদা প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।

এ রাজ্যের কয়েকটি নকশালপন্থী সংগঠনের ভোট নিয়ে অবস্থান কী, একবার দেখে নেওয়া যাক।

সিপিআইএমএল লিবারেশন

এম এল গোষ্ঠীগুলির মধ্যে অন্যতম বড় দল লিবারেশন। এদের সংগঠন দেশের বিভিন্ন জায়গায়। বিশেষ করে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন পকেটে সিপিআইএমএল লিবারেশন (স্থানীয় ভাবে মালে)-এর আধিপত্য দীর্ঘদিনের। সংগঠনের মুখপাত্র পার্থ ঘোষ জানালেন, বিজেপিকে হঠানোই তাঁদের দলের মুখ্য উদ্দেশ্য। “আরএসএস-বিজেপি বাহিনী ২০২৫ সালের মধ্যে সাংবিধানিক ভাবে এ দেশকে সেকুলার থেকে পরিবর্তন করে হিন্দু রাষ্ট্র বানাতে চায়। ভারতের সেকুলারিজম ওরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে তো আক্রান্ত হচ্ছিলই, এবার ওদের লক্ষ্য সংবিধান।” লিবারেশন বিহার ও ঝাড়খণ্ডে প্রার্থী দিচ্ছে। এ রাজ্যে শুরুতে সিপিএমের সঙ্গে সমঝোতা করেই ভোটে লড়ার কথা ছিল এদের। পার্থ ঘোষ জানালেন, “সিপিএমের সঙ্গে আমাদের সংসদীয় স্তরে সমঝোতা নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়েছে ২০১৪ সালে। এবার শুরুতে কথা ছিল, আমাদের জন্য কৃষ্ণনগর আসন ছেড়ে দেবে ওরা।” শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা ঘটেনি। লিবারেশন প্রার্থী দিচ্ছে হুগলি এবং কৃষ্ণনগর আসনে। রাজ্যের অন্য জায়গায় বাম শক্তি হিসেবে সিপিএমকে সমর্থন করবে লিবারেশন। কিন্তু এ রাজ্যেরই অন্য আরও কয়েকটি আসনে অন্য নকশালপন্থীরা যে ভোটে দাঁড়াচ্ছেন? পার্থবাবুর সাফ জবাব, “কেউ আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে আসেনি, আমাদের ভোট সিপিএমেই যাবে।”

সিপিআইএমএল রেড স্টার

বেশ কয়েক বছর ধরে রাজ্যের কয়েকটি জেলায় ট্রেড ইউনিয়ন ও কৃষক আন্দোলন চালিয়ে আসছে বলে দাবি এই নকশালপন্থী সংগঠনের। ভাঙড়ে পাওয়ারগ্রিড আন্দোলনের সুবাদে গত দুয়েক বছরে সংবাদশিরোনামে উঠে এসেছে এই দল। ভাঙড় অঞ্চলে এই সংগঠনের নেতা অলিক চক্রবর্তীর ভিন রাজ্যে পুলিশের হাতে ধরা পড়া, ছাড়া পাওয়া এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসে পাওয়ার গ্রিড সম্পর্কিত সরকারি পলিসিতে বদল আনা নিয়ে নানা রকম কথা উঠেছে। ভাঙড় অঞ্চলে তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামকে দলের মধ্যে থেকে দমিয়ে রাখা হয়েছে এই অলিকের সৌজন্যেই। কয়েকদিন আগেই অলিক চক্রবর্তী সাংবাদিক সম্মেলন করে যাদবপুর কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী বিকাশ ভট্টাচার্যকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন। তবে অলিকের দল রাজ্যের অন্য জায়গায় এই অবস্থান নেয়নি। রেড স্টার প্রার্থী দিচ্ছে ৬টি আসনে। দলের তরফ থেকে শংকর দাস জানালেন, বালুরঘাট, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, ব্যারাকপুর, দমদম ও বারাসাত কেন্দ্রে প্রার্থী দিচ্ছেন তাঁরা। তিনি বললেন, “আমরা প্রথমত বিজেপি-বিরোধী। তবে একই সঙ্গে আমরা মনে করি, বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস কোনও বিকল্প নয়। বিকল্পহীনতাই এখনকার রাজনীতিতে বড় সমস্যা। আমরা সব জায়গাতেই বিজেপির বিরুদ্ধে সৎ ও গণতান্ত্রিক প্রার্থী খুঁজছি।”

Naxals in 2015 General Election
নকশালবাড়ি রেল স্টেশন (ফাইল ফোটো- পার্থ পাল)

মজদুর ক্রান্তি পরিষদ

এমকেপি নামেও পরিচিত এই সংগঠনটি বেশ কিছু বছর ধরে ট্রেড ইউনিয়নের কাজ করে আসছে বলে দাবি সংগঠনের। সিঙ্গুরে কৃষি জমি রক্ষা কমিটি গঠনে এদের অন্যতম ভূমিকা ছিল বলেও তথ্যভিজ্ঞ মহলের মত, যে সংগঠনের আন্দোলনের রাশ পরে চলে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। সিঙ্গুর থেকেই সিপিএমের ৩৪ বছরের জমানার শেষের শুরু বলে জনপ্রিয় মত। এবারের ভোটে এমকেপি অন্তত তিনটি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে। বসিরহাট, শ্রীরামপুর এবং বহরমপুরে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা পাকা হয়ে আছে। সংগঠনের তরফ থেকে অমিতাভ ভট্টাচার্য বললেন, “ভারতীয় গণতন্ত্রের পয়লা নম্বর শত্রু বিজেপি। তবে মনে রাখতে হবে নয়া উদারবাদী আগ্রাসন চালিয়েছে কংগ্রেসও। বাস্তবত, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সংগঠনগুলি কেউই মানুষের বন্ধু নয়।” তবে তাঁরা যে ভোটে জিতবেন না, সে কথা জেনেই রণকৌশল ঠিক করেছে এমকেপি। এরা বাম বিকল্পের কথা বলবে। “তেমন বিকল্প যেখানে নেই, সেখানে আমরা বলব বিজেপি-কে ভোট দেবেন না।”

সিপিআইএমএল নিউ ডেমোক্রেসি

বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে এঁদের প্রার্থী দেওয়া পাকা। এখানে তাঁরা অন্য নকশালপন্থী সংগঠন সিপিআই(এমএল) রেড স্টারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন। দু পক্ষের কথা শুনে যা বোঝা গেল, কেউ কাউকে জমি ছাড়তে নারাজ। অর্থাৎ এখানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই শিবিরের মধ্যে লড়াই আদৌ বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। নিউ ডেমোক্রেসির পক্ষ থেকে দলের রাজ্য কমিটির মুখপাত্র চন্দন প্রামাণিক বললেন, “নির্বাচনে অন্যত্র যেখানে সমমনস্ক দল প্রার্থী দিচ্ছে, তাদের সমর্থন করা হবে। তবে আমরা সিপিআইএমএল লিবারেশনকে সমর্থন করব না। বিজেপি বিরোধিতার নামে, মানুষ কংগ্রেস-সিপিএমকে ভোট দিন এমনটাও আমরা চাই না। এ ক্ষেত্রে আমরা নোটায় ভোট দিতে বলব।”

সিপিআই (মাওবাদী)- 

“সরকার কোনও একটা পক্ষের হয়, কোনও একটা শ্রেণির। সবার সরকার হয় না।” বলছিলেন, সিপিআই মাওবাদী-র মুখপাত্র গৌর চক্রবর্তী। তাঁর স্পষ্ট কথা, “আমরা নিপীড়িত মানুষের সরকারের পক্ষে। এখন যারা ভোটে লড়ছে পরস্পরের বিরুদ্ধে, তারা সকলেই শাসকশ্রেণির প্রতিভূ। এখানে আমাদের ক্ষমতা নেই, তাই সক্রিয় বয়কট করতে পারব না। আমরা যারা আছি, তারা বয়কট করব। মানে ভোট দিতে যাব না। যেখানে সংগঠনের ক্ষমতা আছে, সেখানে বয়কট হবে।”

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Election news download Indian Express Bengali App.

Web Title: General election 2019 and positions of naxal and maoists in west bengal