/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/22/humayun-2026-01-22-19-06-04.jpg)
WB Assembly Election 2026: নতুন দল গড়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর থেকে লড়বেন হুমায়ুন কবীর। ছবি: অংশুমান মাইতি।
WB Assembly Election 2026: নতুন দল গড়ে নির্বাচনে জয়লাভ করে টানা তিনবার ক্ষমতায় থেকে রেকর্ড করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেস ভেঙে হয়েছিল তৃণমূল। এখন চতুর্থবারে জন্য ক্ষমতায় বসার লক্ষ্যে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় কংগ্রেস ভেঙে সমাজবাদী কংগ্রেস গঠন করে রাজ্যব্যাপী গোহারা হেরেছিলেন। যদিও পরে তিনি কংগ্রেসে ফিরে আসেন। এর আগে একাধিকবার দল বদলেছেন, এবার তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হয়ে হুমায়ুন কবীর জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেছেন। তিনিও রাজ্যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন।
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও বেলডাঙ্গা কেন্দ্রে প্রার্থী হবেন বলে শুধু ঘোষণা করেননি ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন বলে আগাম জানিয়ে দিয়েছেন হুমায়ুন। এই রেজিনগর কেন্দ্রে এর আগে বিধানসভা ভোটে বিধায়ক হয়েছেন, আবার তিনি হেরেও ছিলেন। ২০১১ রাজ্যে পরিবর্তনের নির্বাচনে রেজিনগর কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন হুমায়ুন। ওই নির্বাচনে তৃণমূল ও কংগ্রেস জোট করে বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। রাজ্যে তখন প্রবল পরিবর্তনের হাওয়া। সেই সময় মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। ২০১১ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন- Saraswati Puja: বদলছে সময়, বদলছে সুর! বাঙালির বাগদেবীর আরাধনার সেকাল ও একাল
২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে হুমায়ুন কবির পেয়েছিলেন ৪৯.৭৪ শতাংশ ভোট। আরএসপি প্রার্থী সিরাজুল্ ইসলাম মন্ডলের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৪৪.১২%। বিজেপি প্রার্থীর ভাড়ারে জুটেছিল মাত্র ৪.৩২ শতাংশ ভোট। তখন বিজেপি এরাজ্যে টিম টিম করে জ্বলছে। পরবর্তীতে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের জোট ভেঙে যায়। হুমায়ুন কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁকে মন্ত্রীও করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়ক পদ ছেড়ে ফের রেজিনগর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে লড়াইয়ে নেমে পড়েন হুমায়ুন। এবার জেতা তো দূরের কথা একেবারে তৃতীয় স্থানে চলে যান হুমায়ুন কবীর। দলবদলের পরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হওয়ার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হন তিনি।
২০১৩ উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী ৩৯.০৮ শতাংশ ভোট পেয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন। আরএসপি প্রার্থী সিরাজুল্ ইসলাম মন্ডলের প্রাপ্ত ভোট কমে হয় ৩২.২৩%। এই প্রেস্টিজ ফাইটে হুমায়ুন পান মাত্র ২৩.৯% ভোট। বিজেপি প্রার্থীরও ভোট ২.১৭ শতাংশে গিয়ে ঠেকে। ২০১১ থেকে অর্ধেক কমে যায় গেরুয়া প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তি। রেজিনগর শূন্য হাতে শুধু ফেরায়নি হুমায়ুনকে তৃতীয় করে ছাড়ে।
আরও পড়ুন-SIR শুনানি-কেন্দ্রে ভাঙচুর, দাপুটে তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে FIR
২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে এবার আর কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রার্থী হননি হুমায়ুন কবীর। তিনি এবার নির্দল প্রার্থী হিসাবে কংগ্রেস, তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন। ওই নির্বাচনে জোরদার ফাইট হয়। ৪৩.১২% ভোট পেয়ে ফের কংগ্রেস প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী জয় পান। হুমায়ুন পান ৪০.১২ শতাংশ ভোট। তৃণমূল কংগ্রেস(৭.৯১%) তৃতীয় স্থানে থেকে যায়। বিজেপি যথারীতি চতুর্থ স্থান (৫.৮২%)পায়। তবে কিছুটা ভোট বাড়ে পদ্মশিবিরের।
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে ফের ভায়া বিজেপি হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে গিয়ে ভরতপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হন হুমায়ুন কবির। তিনি জয়ী হন। কিন্তু তাঁর পুরনো কেন্দ্র রেজিনগরে ২০২১ নির্বাচনে কংগ্রেস বিধায়াক রবিউল আলম চৌধুরী দলবদলে ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী হন। তিনি ৫৬.৩১শতাংশ ভোট পেয়ে ফের বিধানসভা যাওয়ার ছাড়পত্র পান। ওই ভোটে এই কেন্দ্রে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। ২৩.৮৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজেপি প্রার্থী অরবিন্দ বিশ্বাস দ্বিতীয় স্থান পায়। কংগ্রেস প্রার্থী ১৭.৭২ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে যায়।
আরও পড়ুন-West Bengal SIR 2025: দিল্লি থেকে এসে গেল বড় নির্দেশ, SIR নিয়ে সাফ ঘোষণা কমিশনের
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ৫০ হাজার ভোটে জয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। রেজিনগরের মাটি তিনি বিলক্ষণ চেনেন। হার-জিতের অভিজ্ঞতা রয়েছে সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়কের। কিন্তু সেই সহজ কতটা সহজ হবে সেই প্রশ্ন রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে নির্দল প্রার্থী হিসাবে রেজিনগর কেন্দ্রে তাঁর লড়াইয়ের রেকর্ড চোখে লাগার মতো। রেজিনগর তাঁকে ফের সসম্মানে মর্যাদার লড়াইয়ে জয়ী করে কিনা সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us