Naushad Siddique: ভোটের আগে 'বিরাট খেলা' নওশাদের, বাংলায় বিজেপিকে রুখে তৃণমূলকে পরাস্ত করার 'ব্লুপ্রিন্ট' সাজালেন ISF প্রধান

Naushad Siddique: সামনেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এই আবহে অবিলম্বে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ও আইএসএফের জোট গঠনের দাবি জানালেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী।

Naushad Siddique: সামনেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এই আবহে অবিলম্বে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ও আইএসএফের জোট গঠনের দাবি জানালেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
ISF, Indian Secular Front, Naushad Siddique, নওশাদ সিদ্দিকি, Bhangar MLA, ভাঙড় বিধায়ক, Left Congress alliance, বাম-কংগ্রেস জোট, TMC BJP binary politics, তৃণমূল বিজেপি রাজনীতি, West Bengal politics, Bengal opposition unity, SIR issue, voter list revision, minority issues Bengal, OBC reservation, SC ST certificate controversy

ভোটের আগে বিরাট খেলা নওশাদের

Naushad Siddique: সামনেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এই আবহে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলে অবিলম্বে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ও আইএসএফের জোট গঠনের দাবি জানালেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর চেয়ারম্যান ও ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। বুধবার আইএসএফের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যে গণতন্ত্রকে বাঁচাতে এই তিন শক্তির ঐক্যই একমাত্র বিকল্প।

Advertisment

আরও পড়ুন- সরকারি অফিস ভাংচুরের ঘটনায় তৃণমূল কর্মীদের জামিন মিলতেই মিলল বীরের মর্যাদা, তুঙ্গে বিতর্ক!

নওশাদ সিদ্দিকি জানান, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে এবং চলতি মাসের মধ্যেই জোট চূড়ান্ত হওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, “বাম, কংগ্রেস ও আইএসএফ একজোট হলে তৃণমূল ও বিজেপিকে রাজ্যে রোখা সম্ভব হবে।” তাঁর এই আহ্বানের সুরে সুর মিলিয়ে কংগ্রেসের জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি ও তৃণমূলের বাইরে থাকা সমস্ত রাজনৈতিক শক্তির একজোট হওয়া জরুরি। তাঁদের অভিযোগ, ধর্মকে কেন্দ্র করে মন্দির-মসজিদ রাজনীতির মাধ্যমে রাজ্যে মেরুকরণ বাড়াচ্ছে দুই দলই, যা গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর।

আরও পড়ুন- রাজ্যের উদাসীনতায় মুখ্য সচিবকে কড়া চিঠি, নবান্ন-কমিশন সংঘাত ফের সপ্তমে?

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেও তীব্র আক্রমণ করেন নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর অভিযোগ, সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন নিয়ে সরকার মোটেও আন্তরিক নয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ইস্যুতে তিনি অভিযোগ করেন, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত নাগরিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। নওশাদের দাবি, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাজ্যে বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের উপরই এই প্রক্রিয়ার প্রভাব বেশি পড়ছে।

নওশাদ বলেন, “SIR-এর নামে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করা হচ্ছে। আমরা সংশোধনের বিরোধী নই, কিন্তু বিজেপির ইঙ্গিতে নির্বাচন কমিশন যেভাবে তড়িঘড়ি ও অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে এই প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, তাতে মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হচ্ছে।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন, হয়রানি বন্ধ না হলে আইএসএফ আন্দোলনে নামবে।

আরও পড়ুন- ভোটের আগে বিরাট ফাঁপরে শাসকশিবির, নিয়োগ দুর্নীতিতে তৃণমূল বিধায়কের কোটি কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ইডির

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলে নওশাদ বলেন, সংখ্যালঘু ও দলিত কল্যাণ নিয়ে সরকার মুখে এক কথা বললেও বাস্তবে সব দলিত মানুষ সংরক্ষণের সুবিধা পাননি। তাঁর দাবি, শাসকদলের আমলে ভুয়ো এসসি/এসটি শংসাপত্র বিলি করা হয়েছে। আইএসএফ কখনও শাসনক্ষমতায় এলে প্রকৃত যোগ্যদের সংরক্ষণের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান। রাজ্যে এক কোটির বেশি আদিবাসী থাকা সত্ত্বেও ১.৬ কোটির বেশি এসসি/এসটি শংসাপত্র বিলি হওয়ায় বহু প্রকৃত আদিবাসী বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়াও, অনগ্রসর মুসলিমদের ওবিসি তালিকাভুক্ত করার দাবি জানান নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর প্রস্তাব, যোগ্য অনগ্রসর মুসলিমদের মধ্যে অন্তত ১০ শতাংশকে ওবিসি আওতায় আনা হোক। ২০১২ সালের আইনে ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্তি বাতিল সংক্রান্ত কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও বিচারাধীন থাকায় সংশোধিত রাজ্য তালিকা বহাল রয়েছে।

আরও পড়ুন- করাচির শপিং মলে বিধ্বংসী অগ্নিকান্ড, ঝলসে মৃত্যু কমপক্ষে ৫০, স্বজন হারিয়ে শোকের পাথর পরিবার

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলা ভাষাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের, বিশেষ করে মুসলিমদের উপর হামলার অভিযোগও তোলেন আইএসএফ প্রধান। এই ধরনের ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন বাতিলের দাবিও তোলেন নওশাদ। দলের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভাঙড়-সহ বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের উসকানিতে পা না দিয়ে সংযত থাকতে হবে।

naushad siddiqui ISF CPIM CONGRESS