/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/23/mamata-banerjee-attacks-centre-on-netaji-jayanti-sir-issue-2026-01-23-20-54-40.jpg)
'ইতিহাসের বিকৃতি', কেন্দ্রের 'একনায়কতন্ত্র...'-এর বিরুদ্ধে নেতাজির জন্মবার্ষিকীতে আওয়াজ তুললেন মমতা
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকীর গৌরবময় অনুষ্ঠানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকার ও বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। এই উপলক্ষে আয়োজিত সভা থেকে তিনি দেশের সাংস্কৃতিকে অবমাননা এবং ইতিহাস বদলের চেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দেশে ক্রমশ অসহিষ্ণুতা ও অকৃতজ্ঞতার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে মহাত্মা গান্ধীর মতো মহান ব্যক্তিত্বদেরও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবেই ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা চলছে এবং ভারতের অতীরের গৌরবময় স্মৃতি মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
২৬ জানুয়ারি দেশকে 'আতঙ্কিত' করার বড়সড় ষড়যন্ত্র, সীমান্ত এলাকায় বাড়ানো হল নিরাপত্তা
একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তোলেন। বইমেলার উদ্বোধন থেকে শুরু করে এই অনুষ্ঠানেও তিনি বলেন, ভোটার তালিকায় তথাকথিত ‘অমিল’-এর অজুহাতে প্রায় দুই কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সরাসরি গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর আঘাত। মুখ্যমন্ত্রী আবেগপ্রবণ হয়ে জানান, অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা ৯০ বছরের এক বৃদ্ধাকেও শুনানি কেন্দ্রে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, “এটাই কি সেই স্বাধীনতা, যার স্বপ্ন নেতাজি দেখেছিলেন?”
বাংলার বিরুদ্ধে ‘দিল্লির ষড়যন্ত্র’-এর অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের পরিচয় ও সংস্কৃতিকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চলছে। নেতাজির জন্মদিনকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা না করার প্রসঙ্গ টেনে এনে কেন্দ্রের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার শুধু ইতিহাসকেই কলুষিত করছে না, বরং মানুষের ব্যক্তিগত জীবনেও হস্তক্ষেপ করছে।
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ আদৌ অংশ নেবে ভারত? কোন কোন বিষয়ে অস্বস্তি নয়াদিল্লির?
ভাষণে যুব, ছাত্র ও বুদ্ধিজীবীদের উদ্দেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, নেতাজি রক্ত চেয়েছিলেন, আর তিনি আজ প্রাণ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামার ডাক দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় এবং যারা আজ মানুষের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছে, ভবিষ্যতে তাদেরও জবাব দিতে হবে।
ভাষণের শেষে মুখ্যমন্ত্রী আবারও “দিল্লি চলো” স্লোগান উচ্চারণ করেন এবং অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে মানবতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us