/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/12/modi-mamata-2025-10-12-09-22-48.jpg)
Mamata Banerjee & Narendra Modi: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদী।
মোদীর সভার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রবিবারের সভার জবাব দিতে আগামীকাল অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরেই পাল্টা সভা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শাসকদল সূত্রে খবর, ওই দিন প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি একটি জনসভাও করতে পারেন নেত্রী।
মোদীর সভার 'কাউন্টার' কর্মসূচি
সম্প্রতি টাটার সেই বিতর্কিত ন্যানো কারখানার জমিতে দাঁড়িয়েই সভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু একদা রাজ্য রাজনীতির ভরকেন্দ্র সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে শিল্প বা বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে মোদীর ‘নীরবতা’ অবাক করেছে অনেককেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, মোদীর সভা বিজেপি কর্মীদের মধ্যেও সেভাবে উদ্দীপনা জাগাতে পারেনি। তবুও, ভোটের মুখে বিজেপিকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ মমতা। তাই ২৮ তারিখের কর্মসূচিকে মোদীর সভার সরাসরি ‘কাউন্টার’ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতার কথায়, "প্রধানমন্ত্রীর সভা জমাতে পারেনি বিজেপি, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো আত্মতুষ্টির জায়গা রাখতে চান না। নির্বাচন কমিশন বা আমাদের ভাষায় 'নির্যাতন কমিশন'-এর তত্ত্বাবধানে রাজ্যে যে এসআইআর (SIR) বিতর্ক চলছে, তার মাঝেই বিজেপিকে কড়া জবাব দিতে চান নেত্রী।"
আরও পড়ুন- Akhilesh Yadav: “ইডি পারেনি, বিজেপিও পারবে না! বাংলায় ফের দিদিই ফিরছেন”, ভবিষ্যদ্বাণী অখিলেশের
কী হতে পারে ২৮ তারিখের কর্মসূচিতে?
নবান্ন এবং দলীয় সূত্রে খবর, ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রী ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের কিস্তি ছাড়ার ঘোষণা করতে পারেন। প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকের (Review Meeting) সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সভা সরকারি বা রাজনৈতিক, ফরম্যাট যাই হোক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝাঁঝালো রাজনৈতিক বার্তা যে থাকবেই, তা একপ্রকার নিশ্চিত। হুগলি জেলা তৃণমূল নেতৃত্বও চাইছিল জানুয়ারির শেষেই মমতা বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা দিয়ে মোদীর সভার রাজনৈতিক জবাব দেওয়া হোক।
সিঙ্গুর আবেগ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সিঙ্গুর নিছক একটি জনপদ নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম মাইলফলক। বাম জমানায় টাটা মোটরসের কারখানার জন্য জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে তাঁর আন্দোলনই ২০১১ সালে পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করেছিল। যদিও সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর ২০১৬ সালে জমি চাষিদের ফিরিয়ে দিলেও, অধিগৃহীত সেই হাজার একর জমিতে এখনও সেভাবে চাষবাস শুরু হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী একসময় সর্ষে বীজ ছড়িয়ে প্রতীকী চাষ করলেও, সিঙ্গুরের সেই জমির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।
বিজেপির কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর নিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই কটাক্ষ করেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ব্যঙ্গ করে বলেন, "২০১৬ সালে উনি সর্ষে বীজ ছড়িয়েছিলেন। ২০২৬-এ হয়তো রজনীগন্ধার চারা পুঁতবেন। আর কী বা করার আছে!"সব মিলিয়ে, বিধানসভা ভোটের আগে ফের একবার সরগরম সিঙ্গুর। মোদী বনাম মমতার এই দ্বৈরথ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন কী মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us