/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/21/ingur-land-industry-promise-samik-bhattacharya-bjp-modi-silence-2026-01-21-09-36-54.jpg)
সিঙ্গুর নিয়ে মোদীর নীরবতায় অস্বস্তিতে বিজেপি, এবার বাংলায় শিল্পের বড় আশ্বাস শমীকের
ভোটযুদ্ধে সিঙ্গুরকেই হাতিয়ার বঙ্গ বিজেপি, শিল্পের বড় আশ্বাস শমিকের, মোদীর নীরবতায় অস্বস্তিতে বিজেপি
সিঙ্গুরের সেই বিতর্কিত জমিতেই ফের শিল্প গড়ে তোলার আশ্বাস দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। এক জনসভায় তিনি বলেন, একসময় টাটাদের ক্ষুদ্র গাড়ি কারখানার জন্য অধিগৃহীত সিঙ্গুরের জমিতে নতুন একটি অটোমোবাইল শিল্প স্থাপন করা হবে। তাঁর দাবি, সেখানে আন্তর্জাতিক মানের একটি অটোমোবাইল হাব গড়ে তোলার স্বপ্ন বিজেপির বহুদিনের।
শমিক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য এসেছে সিঙ্গুরেই প্রধানমন্ত্রীর পরপরই। রবিবার সিঙ্গুরে জনসভায় ভাষণ দিলেও শিল্পায়ন বা ওই জমির পুনর্ব্যবহার নিয়ে কোনও স্পষ্ট আশ্বাস দেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বক্তব্যে মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া বাংলায় শিল্প বা বিনিয়োগ সম্ভব নয়, এই কথাই উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রীর এই নীরবতায় অস্বস্তিতে পড়ে বিজেপি, বিশেষ করে যখন সভার আগে থেকেই দলের তরফে টাটাদের ফেরানোর বার্তা দেওয়া হচ্ছিল।
আরও পড়ুন- সুপ্রিম ধাক্কার পর কমিশনের উপর আরও চাপ বাড়ালো তৃণমূল, ভোটের আগেই খেলা শুরু অভিষেকের
উল্লেখ্য, রাজ্য বিজেপির শীর্ষ তিন নেতা শমিক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সকলেই প্রকাশ্যে টাটাদের প্রত্যাবর্তনের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন এবং সিঙ্গুর থেকে টাটাদের বিদায়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সিঙ্গুর জমির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা না থাকায় হতাশ সভায় উপস্থিত একটা বড় অংশ। সভা শেষে এনিয়ে একাধিক কৃষক প্রকাশ্যে অসন্তোষও জানান। দিল্লি রওনা হওয়ার আগে শমিক ভট্টাচার্য বলেন, “সিঙ্গুরের মানুষ হতাশ এই ধরনের একটি বয়ান তৈরি করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সিঙ্গুরের মানুষের সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার করে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে শিল্প বা বিনিয়োগ আসতে পারে না। পাশাপাশি তিনি মানুষকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছেন।”দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকেও শমিক বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সিঙ্গুরে উপস্থিত থাকাটাই শিল্পায়নের বার্তা। কিছু বিষয় আলাদা করে বলার প্রয়োজন হয় না, তা বুঝে নিতে হয়।”
আরও পড়ুন- বাংলাদেশে মেধাবী হিন্দু কলেজ পড়ুয়ার রহস্য মৃত্যু, অবশেষে বিরাট পদক্ষেপ নিয়েই নিল ভারত
তবে রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সভায় উপস্থিত বহু সিঙ্গুর কৃষকই সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কৃষি জমি রক্ষা কমিটির প্রাক্তন নেতা ও কৃষক দুধকুমার ধারা বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি কোনও আশ্বাস আশা করেছিলাম। কিন্তু তিনি রাজনৈতিক নেতার মতো ভাষণ দিলেন। শিল্পের কথা বলতে তাঁর কী সমস্যা ছিল? আমাদের মনে হয়েছে, তিনি এখনও নিজের দলের ক্ষমতায় আসা নিয়ে নিশ্চিত নন।”
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সভার পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে সোমবার সিঙ্গুরের রতনপুরে উদয় সংঘ মাঠে পাল্টা সমাবেশ করে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী, রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী ও সিঙ্গুরের বিধায়ক বেচারাম মান্না সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
তৃণমূলের দাবি, বিজেপি শিল্পায়ন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “বাংলা ইতিমধ্যেই ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে দেশের শীর্ষে। তা সত্ত্বেও মোদী কীভাবে বাংলায় শিল্প নেই একথা বলেন? ২০২৫ সালের জুলাইয়ে টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অটোমোবাইল শিল্প গড়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। টাটা গোষ্ঠীর একাধিক শিল্প ইতিমধ্যেই বাংলায় এসেছে।”
আরও পড়ুন- SIR নিয়ে তোলপাড় বাংলা, তড়িঘড়ি বিরাট সিদ্ধান্ত নিল কমিশন


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us