/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/20/adhir-2026-01-20-16-17-03.jpg)
WB Assembly Election 2026: ছাব্বিশে বহরমপুরে 'কাঁটে কি টক্কর'!
Berhampore Constituency: বাংলার মসনদ কি ফের তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকবে? নাকি ২০১১ এর পর ফের পরিবর্তনের হাওয়া বইবে? দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী আবহ তৈরি হয়ে গিয়েছে। দিল্লি থেকে ছুটে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ BJP-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বেশ কয়েকবার ছুটে গিয়েছেন উত্তরবঙ্গে, এখন উত্তর থেকে দক্ষিণে একের পর এক জনসভা করছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার রাজনৈতিক মহলের বিশেষ নজর রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার দিকে।
মুর্শিদাবাদে ২২টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে গিয়েছিল ২০টি ও বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ২টি আসন। প্রথমবার এই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় এত বেশি আসনে জয়লাভ করেছে ঘাসফুল শিবির। কংগ্রেস ও বাম জোটের এই জেলায় আসন পাওয়া কিয়দ সম্ভাবনা থাকলেও তা একুশের নির্বাচনে জোটেনি। যদিও পরবর্তীতে সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেস ও বাম জোটের প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস জয় পেয়েছিলেন। কিন্তু এই কংগ্রেস বিধায়ক প্রথমবার বিধানসভায় প্রবেশের আগেই দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন। তবে এই কয়েকবছরে ভাগীরথী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পরিমন্ডলের বদল চোখে পড়ার মতো।
ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর জনতা উন্নয়ন পার্টির সূচনা করেছেন। মুসলিমদের বঞ্চনা নিয়ে লাগাতার তৃণমূল সরকারকে বিঁধে চলেছেন। এই জেলাতেই AIMIM তাদের সংগঠন বিস্তার করতে তৎপর হয়েছে। আবার এখানে নওশাদ সিদ্দিকীর ISF-ও পকেটে পকেটে সংগঠন গড়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েক বছর আগেও কংগ্রেসের অন্যতম ঘাঁটি ছিল মুর্শিদাবাদ। কিন্তু গত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর লোকসভা আসনে তৃণমূলের কাছে পরাজিত হন দাপুটে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তাঁর খাসতালুক বহরমপুরে ভোট প্রাপ্তির ভাঁড়ার ছিল খুব কম। এবার এই বহরমপুর আসনের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
বহরমপুর শহর গত তিন দশক ধরে ছিল কংগ্রেসের দুর্জেয় দুর্গ। বাম আমলেও এখানে পুরসভা থেকে বিধানসভা, এমনকী লোকসভা নির্বাচনে অনায়সে জয় পেতে হাত শিবির। কিন্তু ২০২১ সালে এখানে কংগ্রেস তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। এই কেন্দ্রে জয় পায় বিজেপি প্রার্থী ডা: সুব্রত মৈত্র। তিনি পান ৪৫.২১ শতাংশ ভোট। তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় পেয়েছিলেন ৩১.৬২ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তীর জোটে মাত্র ২০.৩৩ শতাংশ ভোট। তিনি ছিলেন এই কেন্দ্রে টানা তিনবারের বিধায়ক। এই বিধানসভা কেন্দ্রে বিগত কয়েকদশকে কোনও ভোটেই এত কম ভোট পায়নি অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে কংগ্রেস।
আরও পড়ুন-Bhangar Violence: ভাঙড়ে ফের বোমাবাজি! তৃণমূল সদস্যের ভাইকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ, কাঠগড়ায় আইএসএফ
২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তী ৬৯.২০ শতাংশ ভোট পেয়ে কয়েক যোজন পিছনে ফেলছিলেন বিজেপি ও তৃণমূল প্রার্থীকে। ওই ভোটে বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট হয়েছিল কংগ্রেসের। ওই নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী মালা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছিলেন মাত্র ১০.২০ শতাংশ ভোট। তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছিলেন ১৯.২০ শতাংশ ভোট। ২০১১ রাজ্যে পরিবর্তনের নির্বাচনে কংগ্রেস ও তৃণমূল জোট হয়েছিল রাজ্যে। বাম শাসনের অবসান ঘটেছিল বাংলায়। বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ২০১১ নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তী ৫৪.৯০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন।
১৯৯১ সাল থেকে এই বিধানসভা কেন্দ্রে টানা জয় পেয়ে এসেছে কংগ্রেস। ২০০৬ সালে মনোজ চক্রবর্তী নির্দল প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বহরমপুর কেন্দ্র থেকে। এই নির্দল প্রার্থীকে সমর্থন করেছিলেন অধীর চৌধুরী। অফিসিয়াল কংগ্রেস প্রার্থী মায়ারানী পাল পরাজিত হয়েছিলেন। যদিও মনোজ চক্রবর্তী কংগ্রেসেই থেকে যান। কংগ্রেসের এই শক্ত ঘাঁটি শেষমেশ হারাতে হয়েছে বিজেপির কাছে। মুর্শিদাবাদ জেলা মুসলিম অধ্যুষিত হলেও বহরমপুর কেন্দ্রে হিন্দু আধিক্য বেশি। অধীরের এই গড়ে এবার কি ঘটবে তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে।
আরও পড়ুন- Nitin Nabin: মাত্র ৪৫-এই বিজেপির সুপ্রিমো! কে এই নীতিন নবীন?
মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন কবীরের জেইউপি, মিম ও আইএসএফ কিছুটা হলেও শক্তি বৃদ্ধি ঘটিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। কিছু জন আবার তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে ফিরেছেন। কিন্তু বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র কি অধীর চৌধুরী বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবেন? তৃণমূলই বা কি রণকৌশল নিতে চলেছে? তবে ২০২১-এর নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর জয়েব ব্যবধার ছিল ২৬,৮৫২। তৃণমূলের সঙ্গে শতাংশ হিসাবে ভোট পার্থক্য ছিল ১৪ শতাংশ। এদিকে বিজেপি নিজেদের জয়ী আসন ধরে রাখতে মরিয়া।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us