/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/25/ajay-2026-01-25-14-43-55.jpg)
চলে গেলেন সুরকার
ওড়িয়া চলচ্চিত্র জগতের আকাশে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। রবিবার সকালে ভুবনেশ্বরে প্রয়াত, প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক অভিজিৎ মজুমদার। তাঁর মৃত্যুর খবরে অলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা ও বেদনার আবহ। যাঁর সুরে বেড়ে উঠেছে একাধিক প্রজন্ম, সেই সৃষ্টিশীল প্রতিভার বিদায়ে স্তব্ধ ভক্ত, সহকর্মী ও শিল্পীমহল।
৫৪ বছর বয়সে, ভুবনেশ্বরের এইমসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিজিৎ মজুমদার। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। উচ্চ রক্তচাপ, হাইপোথাইরয়েডিজম এবং দীর্ঘস্থায়ী লিভারের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে, ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে, তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। রবিবার সকালে শেষ পর্যন্ত সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি চলে যান না-ফেরার দেশে।
ফুচকা, খিচুড়ি আর আড্ডা: অনুরাগ বসুর সরস্বতী পুজোয় বাঙালি ছোঁয়ায় মুম্বই মাতাল
মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী রঞ্জিতা মজুমদার ও তাঁদের একমাত্র পুত্রকে। তাঁর অকালপ্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে, ওড়িয়া চলচ্চিত্র জগতে। সহকর্মীদের মতে, তিনি ছিলেন তাঁর প্রজন্মের অন্যতম প্রভাবশালী ও সৃষ্টিশীল সুরকার। ১৯৯১ সালে সম্বলপুরী শিল্পে সংগীতযাত্রা শুরু করেছিলেন অভিজিৎ। ২০০০ সালের পর থেকে অলিউডে তিনি হয়ে ওঠেন এক পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য নাম। চলচ্চিত্র, অ্যালবাম ও স্বতন্ত্র প্রকল্প মিলিয়ে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৭০০-রও বেশি গান। তাঁর সুরে আবেগ, প্রেম, বেদনা ও উৎসব- সব অনুভূতিরই নিখুঁত প্রকাশ ঘটেছে।
তাঁর স্মরণীয় কাজের তালিকায় রয়েছে ‘লাভ স্টোরি’, ‘সিস্টার শ্রীদেবী’, ‘গোলমাল লাভ’, ‘মিস্টার মজনু’, ‘শ্রীমান সুরদাস’ এবং ‘সুন্দরগড় রা সালমান খান’। সুরকার হিসেবে তাঁর শেষ কাজ শোনা যাবে আসন্ন ছবি ‘পোগলু’-তে, যা চলতি বছরের শেষ দিকে মুক্তি পাওয়ার কথা। মজুমদারের অসুস্থতার খোঁজ দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত রাখছিলেন তাঁর অনুরাগীরা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বেশ কিছুদিন ভেন্টিলেটর সাপোর্টেও ছিলেন তিনি। বছরের শেষে সামান্য সুস্থতার ইঙ্গিত মিললেও ফের অবস্থার অবনতি ঘটে।
তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। প্রাক্তন অভিনেতা ও ওড়িশার বিধায়ক আকাশ দাস নায়েক এক্স-এ লিখেছেন, “অভিজিৎ মজুমদারের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।” সুরের এই নীরব বিদায় ওড়িয়া চলচ্চিত্র জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করল।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us