/indian-express-bangla/media/media_files/2025/07/13/mayoori-actress-suicide-2025-07-13-18-12-14.jpg)
কে ছিলেন এই অভিনেত্রী?
মালায়ালাম ইন্ডাস্ট্রি ভূতের ছবি বানাতে ভীষণ ভালোবাসে। শুধু ভালোবাসা বললে ভুল হবে, এর উপর ভিত্তি করে বহু বছর ধরে এই ধরনের ছবি বানিয়ে আসছে। বিশেষ করে যক্ষী, অর্থাৎ এমন কিছু মহিলার ভূত, যারা কোন না কোন ভাবে প্রতারিত হয়েছেন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই ধরনের কনটেন্ট এর উপর ছবি বানানো বহাল রেখেছিলেন তারা। কিন্তু ১৯৯৯ সালের আকাশগঙ্গা ছবিটি, পরিচালনা করেছিলেন ভিনায়ন, সেই ছবির রেকর্ড করেছিল মালায়ালাম ইন্ডাস্ট্রিতে। ছবি দেখে নাকি গায়ের রোম খাড়া হয়ে উঠতো দর্শকদের।
সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ময়ূরী। চরিত্রের নাম ছিল গঙ্গা। এক দাসী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এক জমিদার বাড়ির রাজপুত্রের সঙ্গে প্রেম দানা বাঁধতে তাকে খুন করা হয়। এবং তিনি দক্ষিণ হিসেবে তার মৃত্যুর বদলা নিতে আসেন সেই পরিবারের কাছে। এই ছবিতে ময়ূরের অভিনয় দর্শক এত পছন্দ করেছিলেন, আজও তাঁকে মনে রেখেছেন তারা। কিন্তু এই ময়ূরীর জীবন ছিল প্রচন্ড গ্ল্যামারে ঠাসা।
১৯৮৩ সালে কলকাতায় এক তামিল দম্পতির ঘরে জন্ম নেওয়া ময়ূরী অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় সিনেমায় পা রাখেন। তিনি তার প্রথম ছবিতে পান্ডিয়ারাজনের বিপরীতে প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সবেমাত্র কিশোরী হওয়া সত্ত্বেও, নার্স হিসাবে তার পরিপক্ক অভিনয় এবং তার আকর্ষণীয় সৌন্দর্য শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিল এবং সুযোগের লাইন লাগিয়ে দিয়েছিল। একই বছর, তিনি সিবি মালায়িলের ব্লকবাস্টার রোমান্টিক কমেডি সামার ইন বেথলেহেম (১৯৯৮)-এ পাঁচটি কেন্দ্রীয় মহিলা চরিত্রের একজন হিসাবে মালয়ালম ছবিতে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। এতে সুরেশ গোপী, মঞ্জু ওয়ারিয়র এবং জয়রাম অভিনয় করেছিলেন। সিনেমায় অনেক মূল চরিত্র থাকা সত্ত্বেও, ময়ূরী অনায়াসে একটি স্থায়ী ছাপ রেখে গিয়েছিলেন। যার ফলে আরও মালায়ালাম ছবিতে সুযোগ এসেছিল।
পরবর্তী দুই বছর ধরে, তিনি একচেটিয়াভাবে মালয়ালম চলচ্চিত্রে কাজ করেছিলেন, বেশ কয়েকটি বড় সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। 'আকাশ গঙ্গা' এবং 'ভারিয়া ভেট্টিল পরমাসুখম' (১৯৯৯) ছাড়াও তিনি তৎকালীন হার্টথ্রব কুনচাকো বোবানের বিপরীতে 'চান্দামামা' (১৯৯৯) এবং 'প্রেম পূজারি' (১৯৯৯) ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। যদিও তিনি কোনওটিতেই লিড নায়িকা ছিলেন না। কিন্তু তাঁর এক্সপ্রেশন দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন সকলেই।
তারপরে তিনি তামিলের দিকে মনোনিবেশ করার আগে কন্নড় চলচ্চিত্র নীলা (২০০১)-এ একটি ছোট চরিত্রে কাজ করেছিলেন। সেলভারাঘবনের ৭জি রেইনবো কলোনি (২০০৪)-এ, তিনি "নাম ভায়াথুক্কু ভান্ধোম" গানে ক্যামিও করেছিলেন। পরবর্তীকালে, তিনি সিলামবারাসান টিআর-এর 'মনমাধন' (২০০৪) এবং শরৎকুমারের 'আই' (২০০৪) ছবিতে অভিনয় করেছিলেন, তবে কোনও ছবিই সত্যি অর্থে তার অভিনয় নিয়ে বেশি কিছু দেখাতে পারেনি।
একই বছর, তিনি সুপারস্টার শিবরাজকুমারের সাথে কন্নড় ছবি সর্বভূমিমা (২০০৪)-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এই ছবিতে তিনি ছোট এবং বয়স্ক উভয় গেটআপেই দৃঢ় অভিনয় করেছিলেন। ২০০৫ সালে, তিনি কে ভি আনন্দের তামিল সিনেমা 'কানা কান্দান'-এ একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের সাথে স্ক্রিন ভাগ করে নিয়েছিলেন, যা দুর্ভাগ্যক্রমে তার শেষ কাজ ছিল। ছবিটি মুক্তির পরপরই, ২০০৫ সালের ১৬ জুন তাকে তার আন্না নগরের বাসভবনে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি আত্মহত্যা করেন।
যদিও তার সিদ্ধান্তের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। এমন খবর পাওয়া গিয়েছিল, যে পেটের ক্যানসারের কারণেই তিনি দিনের পর দিন হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। সেই কারণেই নাকি এই কাণ্ড ঘটান। তবে পরিবারের কোনও সদস্য কখনোই এই বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। বরং তাঁর স্বেচ্ছামৃত্যুর আগে একটি চিঠি লিখেছিলেন তিনি। বিদেশে ভাইয়ের কাছে পাঠিয়েছিলেন তিনি। লিখেছিলেন, "আমার মৃত্যুতে কারও কোনও ভূমিকা নেই। আমি চলে যাচ্ছি কারণ, আমি জীবনের আশা হারিয়ে ফেলেছি।"