/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/07/suresh-kumar-2026-01-07-15-53-27.webp)
কী হয়েছিল তাঁর...
প্রবীণ অভিনেতা সুরেশ কুমারের আকস্মিক প্রয়াণে টলিউডসহ সমগ্র দক্ষিণী চলচ্চিত্রজগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনা যেন, তাঁর সহ-শিল্পী, অনুসারী এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে একটি বড় ধাক্কা। যদিও সুরেশ কুমারকে প্রায়শই পার্শ্বচরিত্রে দেখা গেছে। তবুও তাঁর অসামান্য স্বাভাবিক অভিনয়শৈলী দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলেছিল। ‘সীতাম্মা ভাকিতলো সিরিমাল্লে চেট্টু’, ‘মহানাটি’, ‘গোলকোন্ডা হাই স্কুল’, এবং ‘এনটিআর: কাথানায়াকুড়ু’-র মতো উল্লেখযোগ্য তেলুগু ছবিতে, তাঁর অভিনেতা জীবনের উপস্থিতি ছিল নিঃশব্দ অথচ শক্তিশালী। সীমিত স্ক্রিন টাইমেও কীভাবে চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলা যায়, সুরেশ কুমার তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।
চলচ্চিত্রে আসার আগে তাঁর জীবনের যাত্রাপথ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রায় তিন দশক তিনি ব্যাংকিং সেক্টরে কাজ করেছেন এবং একাধিক নামী- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহুজাতিক ব্যাংকে উঁচু পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁর পেশাগত জীবনে কঠোর শৃঙ্খলা, কর্মদক্ষতা ও দায়িত্ববোধের জন্য তিনি সহকর্মীদের মধ্যে অত্যন্ত সম্মান অর্জন করেছিলেন। কর্পোরেট চাকরির পাশাপাশি, অভিনয়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ধরে রাখা এবং অবসরে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া তাঁর জীবনের বড় অধ্যায়।
অভিনয়-জগতে প্রবেশ করার পর সুরেশ কুমার বহু ভাষায় কাজ করেছেন- হিন্দি, তেলুগু, তামিল এবং মারাঠি। ভাষার বাধা কখনও তাঁকে আটকাতে পারেনি। তিনি সহজাত দক্ষতায়, প্রতিটি চরিত্রের ভেতরে মিশে যেতে পারতেন। নিজের অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শকদের অনুভব করাতে পারতেন সেই চরিত্রের আবেগ, সংগ্রাম ও মানসিকতা। বিশেষত তেলুগু চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান, আজও স্মরণীয় এবং আগামী দিনেও প্রাসঙ্গিক থাকবে।
তাঁর মতো বহুমুখী, কর্মঠ এবং স্বপ্নসন্ধানী ব্যক্তিত্ব খুব কমই দেখা যায়। কর্পোরেট দুনিয়া থেকে, চলচ্চিত্রের পর্দায় উঠে এসে নিজের জায়গা তৈরি করা সত্যিই বিরল এক সাফল্যের গল্প। সুরেশ কুমারের মৃত্যু শুধু একটি প্রতিভাবান অভিনেতার প্রস্থান নয়, বরং একজন অনুপ্রেরণাদায়ক মানুষের হারিয়ে যাওয়া, যিনি প্রমাণ করেছিলেন- স্বপ্ন দেখার কোনো বয়স হয় না।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us