Rehman Dakait real story: অক্ষয় খান্নার 'রেহমান ডাকাইত': যাঁর জীবন সিনেমাকেও হার মানায়

বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে করাচির লিয়ারি এলাকায় জন্ম রেহমান ডাকাইতের। লিয়ারি পাকিস্তানের অন্যতম দরিদ্র ও অপরাধপ্রবণ এলাকা, যেখানে গ্যাং ও পুলিশ-রাজনীতির যোগসাজশে অপরাধ বেড়ে উঠেছিল।

বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে করাচির লিয়ারি এলাকায় জন্ম রেহমান ডাকাইতের। লিয়ারি পাকিস্তানের অন্যতম দরিদ্র ও অপরাধপ্রবণ এলাকা, যেখানে গ্যাং ও পুলিশ-রাজনীতির যোগসাজশে অপরাধ বেড়ে উঠেছিল।

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
rehman-dakait-real-and-reel-akshaye-from-Dhurandhar-k

কে ছিলেন এই রহমান?

রণবীর সিং অভিনীত আদিত্য ধরের স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর’, বক্স অফিসে একের পর এক রেকর্ড ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে, দর্শকদের বিশেষ নজর কেড়েছে, ছবির খলনায়ক রেহমান ডাকাইতের চরিত্রটি। এই চরিত্রে অক্ষয় খান্নার অভিনয় এতটাই শক্তিশালী যে, পর্দায় তাঁর উপস্থিতিতে দর্শকরা হুইসেল ও করতালিতে ফেটে পড়েছেন। সাধারণত কোনও নেতিবাচক, তাও আবার একজন পাকিস্তানি গ্যাংস্টারের ক্ষেত্রে এ ধরণের দৃশ্য বিরল ঘটনা। তবে, বাস্তবে রেহমান ডাকাইতের জীবন ছিল আরও অন্ধকার ও হিংস্র, যা ছবির চিত্রণকেও ছাপিয়ে যায়।

Advertisment

বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে করাচির লিয়ারি এলাকায় জন্ম রেহমান দাকাইতের। লিয়ারি পাকিস্তানের অন্যতম দরিদ্র ও অপরাধপ্রবণ এলাকা, যেখানে গ্যাং ও পুলিশ-রাজনীতির যোগসাজশে অপরাধ বেড়ে উঠেছিল। রেহমানের বাবা মোহাম্মদ, মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংয়ের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তেন। এই পরিবেশে, ছোটবেলা থেকেই অপরাধের জগতে পা রাখেন রেহমান।

Messi Kolkata Chaos: মেসি-ঝড় কলকাতায়, ছবি পোস্ট করতেই ক্ষুব্ধ ভক্তদের নিশানায় শুভশ্রীর আপ্ত সহায়ক

মাত্র ১৩ বছর বয়সে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে সে অপরাধজগতে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়। এরপর কিশোর বয়সেই, দু’জন প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক ব্যবসায়ীকে হত্যা করে সে। ১৯৯৫ সালে পুলিশের হাত থেকে পালানোর পর সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। নিজের বাড়িতেই সে তার মা খাদিজাকে গুলি করে হত্যা করে! পুলিশের কাছে সে দাবি করেছিল, তার মা নাকি পুলিশকে তথ্য দিচ্ছিলেন, যদিও অনেকের মতে পারিবারিক সন্দেহ ও ব্যক্তিগত ঈর্ষাই ছিল আসল কারণ।

একই বছরে অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে গ্রেফতার হলেও আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে পালিয়ে যায় রেহমান। বেলুচিস্তানে গা ঢাকা দিয়ে সে আবার শক্তি সঞ্চয় করে। ২০০৬ সালের মধ্যে লিয়ারিতে সে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে সে। তিনটি বিয়ে, ১৩টি সন্তান, বিপুল সম্পত্তি এবং ইরান পর্যন্ত ছড়ানো তার প্রভাবের কথা শোনা যায়।

Zubeen Garg Death: জুবিন গর্গ কেসে নতুন অধ্যায়, এসআইটির চার্জশিটে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

রেহমানের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে লিয়ারি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হাজি লালু ও আরশাদ পাপ্পুর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে গ্যাং যুদ্ধে, প্রায় ৩৫০০ মানুষের মৃত্যু হয় বলে অনুমান। এই সময়েই তার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা জন্ম নেয় এবং, সে ‘পিপলস আমান কমিটি’ গঠন করে নিজেকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

Dhurandhar box office: দ্বিতীয় শনিবারেই ৫০ কোটির রেকর্ড! ‘পুষ্পা ২’ ও ‘ছাভা’-কে টপকে গেল রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর’

এই সহিংসতা দমনে ২০০৬ সালে, চৌধুরী আসলামের নেতৃত্বে গঠিত হয় লিয়ারি টাস্ক ফোর্স। একাধিকবার হাতছাড়া হওয়ার পর ২০০৯ সালে রেহমান ডাকাইত ও তার তিন সহযোগী পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হন। যদিও পুলিশ জানায়, সে হত্যা ও অপহরণসহ ৮০টির বেশি মামলায় ওয়ান্টেড ছিল, কিন্তু এনকাউন্টার নিয়ে বিতর্ক থামেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পরিবারের অভিযোগে, একে ভুয়া এনকাউন্টার বলা হয়। 

রেহমান দাকাইতের মৃত্যুর পর লিয়ারিতে ইতিহাসের অন্যতম বড় জানাজা হয়। এই ঘটনাতেই শেষ হয় ‘ধুরন্ধর’-এর প্রথম ভাগ। আগামী বছর মুক্তি পাওয়ার কথা  ‘ধুরন্ধর ২’-এ রেহমান ডাকাইতের মৃত্যুর পরবর্তী প্রভাব, ও লিয়ারির পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।

bollywood Entertainment News Today Bollywood Actor