/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/03/amal-2026-02-03-14-21-07.png)
কার ওপর ভরসা ছিল তাঁর?
কার্তিক আরিয়ান, বিদ্যা বালান ও তৃপ্তি ডিমরি অভিনীত ভুল ভুলাইয়া ৩ ছবির গান ‘মেরে ঢোলনা 3.0’ মুক্তির পর থেকেই, দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে আলাদা করে নজর কেড়েছে। পুরনো স্মৃতি আর নতুন সুরের মেলবন্ধনে তৈরি এই গানটি, ছবির অন্যতম হাইলাইট হলেও, এর নেপথ্যে ছিল একাধিক চ্যালেঞ্জ ও টানাপোড়েন। সম্প্রতি সেই অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন সুরকার অমল মল্লিক।
পিঙ্কভিলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অমল জানান, গানটির জন্য কিংবদন্তি গায়ক সোনু নিগমকে বেছে নেওয়া নিয়ে, শুরুতেই ইন্ডাস্ট্রির একাংশের মধ্যে প্রবল সংশয় ছিল। তাঁর কথায়, “অনেকে চাইছিলেন না যে সোনু নিগম ‘মেরে ঢোলনা 3.0’ গাইুক। সবাই নিশ্চিত ছিল না, সোনুর মতো একজনকে নেওয়া ঠিক হবে কিনা। আজ দেখুন, তিনি সর্বত্র। একটা গান সবকিছু বদলে দিতে পারে। এমনকি সোনু নিগমের মতো কিংবদন্তিকেও প্রমাণ দিতে হয়!”
‘আমি জানি কেন আরিজিৎ সিং প্লেব্যাক ছাড়ছেন’, পালাশ সেনের বিস্ফোরক দাবি!
অমল আরও জানান, গানটির জন্য গায়ক নির্বাচন করতে গিয়ে তাঁকে নানা দিক থেকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। “ভূষণ কুমার স্যার নিশ্চিত ছিলেন, পরিচালকও রাজি ছিলেন। কিন্তু মার্কেটিং টিম, অভিনেতাদের ম্যানেজমেন্ট- অনেকে বলছিলেন, ‘অরিজিৎ সিং বা বিশাল মিশ্রকে নিলেই ভালো হয় না?’ আমি বুঝি এই চাপগুলো কোথা থেকে আসে, কিন্তু আমার মাথায় একটাই নাম ছিল- সোনু নিগম। কারণ আমি এমন একজন কণ্ঠ চেয়েছিলাম, যিনি শাস্ত্রীয় সংগীতের আত্মাকে ধরতে পারবেন,” বলেন অমল।
সব সংশয় ভেঙে সোনু নিগম যে কীভাবে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করলেন, তা তুলে ধরতেও ভোলেননি সুরকার। অমল বলেন, “তিনি মাত্র ৪৫ মিনিটে পুরো গানটা রেকর্ড করে ফেলেন। এটা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন গানগুলোর একটি। প্রীতম দা’র অরিজিনাল কম্পোজিশনের উপর আমি নতুন শ্লোক তৈরি করেছিলাম। শেষের সারগম অংশ যেকোনও শাস্ত্রীয় শিল্পীর জন্য ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। আমরা ভেবেছিলাম অন্তত পাঁচ ঘণ্টা লাগবে। অথচ উনি আমেরিকা থেকে শো করে এসে রাত ১০টা ৪৫-এর মধ্যেই গান শেষ করে দেন।”
এই অভিজ্ঞতার পাশাপাশি, হিন্দি ফিল্ম মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির বাস্তব সমস্যাগুলিও তুলে ধরেন অমল। তিনি বলেন, “অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন গায়ক বেছে নেওয়ার জন্যই সুরকারকে ছবির বাইরে করে দেওয়া হয়। সবাই মনে করেন, কোন গায়ক লাগবে, সেটা তাঁদের সিদ্ধান্ত। অথচ এটা সুরকারের কাজ।”
অমলের দাবি, পেশাগত ঝুঁকি নিয়ে মুখ খুলতে গিয়ে গত পাঁচ বছরে তাঁকে ৪০ থেকে ৪৫টি ছবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “একসময় এমনও হয়েছে, সকালে কাজ শুরু করেছি, আর সন্ধ্যেবেলা আদালতের মামলা চলছে।” সব মিলিয়ে, ‘মেরে ঢোলনা 3.0’-এর সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে প্রতিভা, সাহস আর ইন্ডাস্ট্রির কঠিন বাস্তবতার এক জটিল গল্প।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us