/indian-express-bangla/media/media_files/2025/03/16/h7ru5HvoW93IN4I66AGu.jpg)
কী বললেন রহমান?
AR Rahman: ২০২৫ সালটা যেন এ আর রহমানের জীবনে নতুন করে এক সিম্ফোনি রচনা করেছে। প্রতিটি দিন যেন একটি নতুন সূর, একটি নতুন তাল- এবং এর মাঝখানেই তিনি নীরবে তৈরি করতে শুরু করেছেন তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প, 'Gandhi Talks' অ্যালবামটি। বছর শেষে নীতেশ তিওয়ারির রামায়ণ মুক্তির আগেই চারদিকে গুঞ্জন- রহমানকে এইবার দেখা যাবে কিংবদন্তি হ্যান্স জিমারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে। দুই মহাদেশ, দুই সংস্কৃতি, দুই আলাদা সঙ্গীতভুবনের দুই দিকপাল- একই সুরের নীচে মিলিত হতে চলেছেন।
বিবিসি এশিয়ানের ইউটিউব সাক্ষাৎকারে রহমানের চোখে ছিল সেই চিরচেনা শান্তি। অ্যালবামের সুর তৈরি করার সময় তাঁর ধর্মবিশ্বাস কাজে লেগেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি মৃদু হাসলেন। স্মৃতি ভেসে এল- শৈশবের ব্রাহ্মণ স্কুল, যেখানে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হতো রামায়ণ আর মহাভারত। সেই গল্পগুলির মধ্যেই তিনি শিখেছিলেন সততা, আদর্শ আর মানবতার সুড়ঙ্গপথ। তিনি বললেন, “জ্ঞান কখনও লজ্জার বিষয় নয়- যেখান থেকেই পাও, তা গ্রহণ করা উচিত।”
মুসলিম হয়েও পশুপতিনাথ মন্দিরে বিশেষ অনুমতি পান নায়িকারা! এই সিনেমার গল্প বদলাতে বাধ্য হন দেব আনন্দ?
এই কথার মধ্যেই যেন ফুটে উঠল তাঁর দার্শনিক মনোভাব। তিনি যেন নিজের ভিতরের আলোকে ছুঁয়ে বললেন- “আমাদের ক্ষুদ্রতা ভুলতে হবে। আমরা যখন উন্নীত হই, তখনই আলোকিত হই। আর সেই আলো অন্যকে পথ দেখায়।” তাঁর এই ব্যাখ্যায় স্পষ্ট- রামায়ণ শুধু হিন্দু ধর্মগ্রন্থ নয়; এটি মানুষের গল্প, আদর্শের গল্প, যা তিনি, একজন মুসলিম শিল্পী, গভীর শ্রদ্ধায় গ্রহণ করেছেন। আর তার সঙ্গী হ্যান্স জিমার- একজন ইহুদি সুরকার। তিন সংস্কৃতির মিলন ঘটছে একই সঙ্গীতে।
কিন্তু এই জুটি একসঙ্গে কাজ করতে এত সময় নিল কেন? রহমান বললেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি নিজেকে তৈরি করতে, নিজের পথ খুঁজতে চেয়েছিলেন। খ্যাতি এবং প্রত্যাশার চাপ থেকে দূরে থাকতে চেয়েছিলেন। জিমার তাঁকে সুযোগ দিয়েছিলেন, তবুও তিনি অপেক্ষা করেছিলেন। সেই অপেক্ষাই আজ সার্থক- কারণ এখন তারা দুজনেই পরিণত, আত্মবিশ্বাসী, এবং নতুন সৃষ্টির জন্য প্রস্তুত।
Shaan-KK Death: কেকে-র মৃত্যু থমকে দেয় শানকে, তারপরেই তড়িঘড়ি এই কাজ করেছিলেন গায়ক!
হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে তিনি জানান- রামায়ণ নিয়ে কাজ করা ভয়ংকর ও উত্তেজনাপূর্ণ দুটোই। কোটি কোটি ভারতীয়ের হৃদয়ে ঠাঁই পাওয়া এই মহাকাব্যকে নতুন রূপ দেওয়া চ্যালেঞ্জ ছাড়া কিছু নয়। একটি সাউন্ডস্কেপে জিমার শুরু করেন, রহমান তাতে যোগ করেন সংস্কৃত শব্দ, মন্ত্র এবং ভারতীয় বাদনের ছোঁয়া। যেন দুই সুর দুই দিক থেকে এসে মিলেছে এক বিশাল সঙ্গীতে।
এই প্রক্রিয়ায় তাঁর সঙ্গী কবি কুমার বিশ্বাস- যিনি রামায়ণের প্রতিটি স্তবক রক্তে বহন করেন। তাঁদের আলোচনা, সুরের সন্ধান, শব্দের অনুবাদ- সব মিলিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে এমন একটি সঙ্গীত, যা শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের জন্য উপহার।
অবশেষে ভেসে ওঠে নীতেশ তিওয়ারির রামায়ণ- যেখানে রণবীর কাপুর, যশ, সাই পল্লবীসহ বহু তারকারা প্রাণ দেবেন চরিত্রে। আর পেছনে থাকবে দুই কিংবদন্তির হাত—একটি সুর, যা ইতিহাসে লেখা থাকবে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us