/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/05/abhijit-2026-02-05-11-47-47.jpg)
যা বললেন অভিজিৎ...
প্লেব্যাক গানের জগতে গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের বিদায়ের ঘোষণার পর থেকেই বলিউডের সঙ্গীতশিল্পীদের প্রাপ্য সম্মান ও ন্যায্য পারিশ্রমিক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে- এমন এক ইন্ডাস্ট্রি, যে নিজের সবচেয়ে জনপ্রিয় কণ্ঠগুলিকেই ধরে রাখতে পারে না, সেখানে বাকিদের অবস্থাই বা কী? জনপ্রিয়তা, ক্ষমতা ও আর্থিক নিরাপত্তার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে থাকা গায়করা, আদৌ কি তাঁদের প্রাপ্য পাচ্ছেন? এই আলোচনার মাঝেই মুখ খুলেছেন গায়ক অভিজিৎ সাওয়ান্ত।
সম্প্রতি পেন্টারাইজ স্টুডিওর ইউটিউব চ্যানেলে একটি আলোচনায় অংশ নিয়ে অভিজিৎ স্পষ্ট ভাষায় বলিউডের সঙ্গীতশিল্পীদের পারিশ্রমিক কাঠামোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। প্রথমে কিছুটা ইতস্তত করলেও, পরে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, “মানুষ আসলে চায় না যে গায়করা কখনও ছবির থেকেও বড় হয়ে উঠুক। সেই কারণেই একটি সীমার মধ্যে পারিশ্রমিক আটকে রাখা হয়। আজও সঙ্গীতশিল্পীরা সিনেমার গানের জন্য রয়্যালটি পান না।”
Actor R Madhavan: 'বাইরে যাও, টাকা কামাও...', মাধবনকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন স্ত্রী সরিতা?
অভিজিৎ আরও ব্যাখ্যা করেন, পশ্চিমী সঙ্গীতশিল্পীদের সঙ্গে ভারতীয় প্লেব্যাক গায়কদের আয়ের ফারাক কতটা গভীর। তাঁর কথায়, “বিদ্দু, যিনি ‘লাফজোঁ মে’ কাজ করেছিলেন, তিনি পশ্চিমে কয়েকটি গান করেছিলেন। সেই গানগুলো থেকেই যে রয়্যালটি পান, তা দিয়ে তিনি সারাজীবন নির্বিঘ্নে বেঁচে থাকতে পারেন। আর আমরা? আমরা তো জীবিকা নির্বাহের মতো টাকাও অনেক সময় পাই না।”
তিনি আরও বলেন, এই ব্যবস্থাটাই এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে গায়করাই নিজেদের অজান্তে শোষণের অংশ হয়ে ওঠেন। “গায়করা নিজেরাই সুযোগের জন্য লোভী হয়ে পড়েন। তাঁরা ভাবেন, যদি কোনও বড় তারকার লিপ-সিঙ্কে আমার কণ্ঠে গানটা আসে, তাহলে এই একটিমাত্র গানই আমি সারা জীবন ব্যবহার করতে পারব। ফলে কেউ পারিশ্রমিক নিয়ে দর কষাকষি করেন না। যতটুকু দেওয়া হয়, সেটাই গ্রহণ করতে হয়। কারণ আমি না গাইলে, অন্য কেউ গাইবে। এইভাবেই আমাদের শোষণ হয়,” এমনটাই বলেন অভিজিৎ।
Kapil Sharma: ক্যাপস ক্যাফে গুলিকাণ্ড নিয়ে রসিকতা! আবার শিরোনামে কপিল
যদিও প্রত্যেক শিল্পীর ক্ষেত্রেই যে মাত্র কয়েকটি গান থেকে বিপুল অঙ্কের আয় সম্ভব, তা নয়। তবু রয়্যালটির গুরুত্ব বোঝাতে অভিজিৎ যে উদাহরণ দিয়েছেন, তা একেবারেই বাস্তব। ব্রিটিশ সুরকার ও গীতিকার কার্ল ডগলাস, যিনি আন্তর্জাতিক হিট গান ‘কুং ফু ফাইটিং’-এর জন্য পরিচিত এবং পাকিস্তানি জুটি নাজিয়া-জোহেবের জনপ্রিয় অ্যালবাম ‘ডিস্কো দিওয়ানে’-র প্রযোজক ছিলেন, আজও সেই কাজের রয়্যালটি থেকে বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন।
এই তথ্য সামনে এনে অভিজিৎ সাওয়ান্ত যেন একটাই প্রশ্ন ছুড়ে দেন—ভারতীয় প্লেব্যাক গায়কদের কণ্ঠে তৈরি হওয়া গান যখন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আয় এনে দেয়, তখন সেই আয়ের ন্যায্য অংশ থেকে শিল্পীরা কেন বঞ্চিত থাকবেন?


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us