/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/29/arijit-singh-fame-gurukul-1-2026-01-29-16-17-30.jpg)
সেদিন যা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে...
গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের প্লেব্যাক গান থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণার খবর ভাইরাল হতেই, আবেগে ভাসছেন তাঁর অসংখ্য ভক্ত। প্রিয় শিল্পীর এই সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন স্মৃতির পাতায়, যখন অরিজিৎ আজকের এই উচ্চতায় পৌঁছনোর বহু আগেই, লড়াই করছিলেন নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য। সেই সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল রিয়েলিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’, যেখানে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন তরুণ অরিজিৎ।
‘ফেম গুরুকুল’ ছিল যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় শো ‘ফেম একাডেমি’-র ভারতীয় সংস্করণ। এখানে নবীন শিল্পীদের কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা হতো। কিন্তু অরিজিতের যাত্রা সেখানে মোটেও মসৃণ ছিল না। ভোটের ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের বাদ দেওয়া হতো, আর সেই ভোট দিতেন দর্শক ও সহ-প্রতিযোগীরাই।
Ranveer Singh: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর
এক পর্বে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রতিযোগী শমিত ত্যাগীকে ভোট দেওয়ায়, বড় বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নজরে আসতেই গুরুতরভাবে অরিজিতকে ডেকে পাঠান প্রধান শিক্ষিকা ইলা অরুণ। তাঁর কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়ে, আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অরিজিৎ। কাঁদতে কাঁদতে তিনি জানান, তিনি কখনও কাউকে আঘাত করতে চাননি।
ইলা অরুণ তখন অরিজিতের উদ্দেশে কঠোর স্বরে বলেন, “শুধু ভালো গান করলেই হয় না, ব্যক্তিগত জীবনে যদি সঠিক আচরণ না থাকে, তা আমি মেনে নিতে পারি না। আমি কীভাবে তোমার সঙ্গে কথা বলব? সম্পর্ক কি তোমার কাছে আদৌ গুরুত্বপূর্ণ? এখানে তুমি এত সম্পর্কের কথা বলছ, অথচ আমি যদি তোমার শিক্ষিকা হয়ে থাকি, তবে কি আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই? আমি ভাবতাম, লোকে তোমাকে নিয়ে যা বলে, তা ভুল। কিন্তু তুমি কি সত্যিই এমন একজন মানুষ, যে বড় হয়ে গেলে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দেবে?”
Dev: প্রসেনজিৎ-জিতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, তারপরই ইম্পা মিটিং থেকে তড়িঘড়ি বেড়িয়ে গেলেন দেব
এই ঘটনার প্রসঙ্গে বিচারক জাভেদ আখতারের সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের কথাও তুলে ধরেন অরিজিৎ। তিনি জানান, “জাভেদ ভাই আমাকে বলেছিলেন- ‘ইসে আচি তারাহ সে বাত করিয়ে। ইয়ে আগর স্টার বান গয়া তো আপনে কার কো ধুল কি তারাহ...’ অর্থাৎ, ওর সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলো, কারণ একদিন যদি সে তারকা হয়ে যায়, তবে হয়তো আমাদের গুরুত্ব দেবে না।” এই কথা শুনেই আবেগে ভেঙে পড়েন অরিজিৎ। তিনি মাঝপথেই ইলাকে থামিয়ে বলেন, “আপনি আমার কাছে মায়ের মতো।”
ভোট দেওয়ার ঘটনার পর ইলা অরুণ অরিজিতকে শমিত ত্যাগীর একটি সাক্ষাৎকারের রেকর্ডিং দেখান। সেই ক্লিপে দেখা যায়, শমিত সম্পূর্ণ বিস্মিত এবং হতবাক যে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু অরিজিৎ তাকে ভোট দিয়েছেন। ভিডিওটি দেখার পর অরিজিৎ আর নিজেকে সামলাতে পারেননি। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বারবার অনুতাপ প্রকাশ করেন।
শমিতের চোখের জল এবং বিস্ময় তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করে। সেই মুহূর্তে অরিজিৎ প্রতিজ্ঞা করেন, “শমিত যদি জীবনে কখনও সমস্যায় পড়ে, আমি সবসময় তার পাশে থাকব।” এই আবেগঘন মুহূর্তটি দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেলেও, ঘটনার প্রভাব পড়ে তাঁর প্রতিযোগিতামূলক যাত্রায়। বিতর্কের জেরে অরিজিতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত ভোটে বাদ পড়তে হয় তাঁকে। তবুও এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থেকে যায়, যা ভবিষ্যতে তাঁকে শুধু বড় শিল্পী নয়, আরও সংবেদনশীল মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলেছিল।
কিন্তু এখানেই থেমে যাননি অরিজিৎ। পরবর্তীতে ‘১০ কে ১০ লে গয়ে দিল’ শোতে অংশ নিয়ে ফেম গুরুকুল ও ইন্ডিয়ান আইডলের বিজয়ীদের হারিয়ে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার জেতেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর নতুন যাত্রা- যা আজ তাঁকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পীর আসনে বসিয়েছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us