/indian-express-bangla/media/media_files/2025/01/18/MctTUjAHG53U0L3pTd2G.jpg)
যা বললেন অর্জুন
সাফল্য ও ব্যর্থতা- এই দুই বিপরীত অভিজ্ঞতাই জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কখনও মানুষ সাফল্যের পেছনে নিরলস ছুটে চলে, অথচ প্রতিটি ধাপে তাকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। আবার কখনও সাফল্য আসে এমন এক সময়ে, যখন মন সেই আনন্দ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে না। করতালির শব্দ চারদিক থেকে ভেসে এলেও হৃদয়ের ভেতরে তখন ভারী নীরবতা জমে ওঠে। বলিউডে যদি এমন কোনও অভিনেতা থাকেন, যিনি এই তিনটি পর্যায়ই গভীরভাবে অনুভব করেছেন, তিনি নিঃসন্দেহে অর্জুন কাপুর।
২০১২ সালে, মাত্র ২৭ বছর বয়সে ‘ইশকজাদে’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন অর্জুন। ছবিটি তুমুল সাফল্য পায় এবং তাঁকে রাতারাতি পরিচিত মুখ করে তোলে। কিন্তু এই সাফল্যের ঠিক আগমুহূর্তেই নেমে আসে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাত। ছবির মুক্তির কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি হারান তাঁর মা মোনা শৌরিকে। বাবা বনির তরফে প্রতারণার পর এই মাকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে ছিলেন তিনি।
Kangana Ranaut: এপস্টাইন ফাইল দেখে ‘গভীরভাবে বিরক্ত’ কঙ্গনা রানাওয়াত
এই শোক থেকেই শুরু হয় এক নীরব, দীর্ঘ লড়াই। এক সাক্ষাৎকারে অর্জুন বলেন, “আমি খুব ছোট বয়সেই বড় হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। বুঝে গিয়েছিলাম, আমাকে শক্ত হতে হবে। কারণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না, আর আমার বাবা একজন পরিচিত মানুষ।” মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি নিজের আবেগ চেপে রেখে মায়ের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, আর ছোট বোনের পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠেন।
শৈশবের সেই মানসিক চাপ পড়াশোনাতেও প্রভাব ফেলে। অর্জুনের কথায়, “আমি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত খুব ভালো ছাত্র ছিলাম। কিন্তু বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সব বদলে যায়। আমি রাগ দেখাতে পারিনি, তাই বিদ্রোহটা অন্যভাবে বেরিয়ে আসে।" ধীরে ধীরে খাবার হয়ে ওঠে তাঁর মানসিক আশ্রয়। অতিরিক্ত খাওয়া, নিজেকে লুকিয়ে রাখা- সবই ছিল এক শূন্যতা পূরণের চেষ্টা।
‘ইশকজাদে’র পর একের পর এক সফল ছবি—‘টু স্টেটস’, ‘গুন্ডে’, ‘কি অ্যান্ড কা’, ‘হাফ গার্লফ্রেন্ড’। অর্জুন কাপুর তখন বলিউডের পরিচিত নাম। কিন্তু আবারও ভাগ্য কঠিন পরীক্ষা নেয়। একের পর এক ব্যর্থ ছবি, শারীরিক অসুস্থতা, ট্রোলিং আর আত্মসন্দেহ তাঁকে ভেঙে দেয়।
Aryaan-SRK: 'মন্নতে আসুন, মদ খাই...', আরিয়ানকে ডোন্ট কেয়ার, শাহরুখকে নিয়ে কী বললেন অভিনেতা?
একসময় এমন পরিস্থিতিও আসে, যখন তিনি বিছানা ছেড়ে উঠতে পারতেন না। “আমি বুঝতেই পারিনি আমি বিষণ্ণতায় ভুগছি। শুধু জানতাম, আমি সিনেমা উপভোগ করা বন্ধ করে দিয়েছি- যা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়,” বলেন অর্জুন। থেরাপি তখন তাঁর জীবনের অবলম্বন হয়ে ওঠে। হঠাৎ করেই, প্রত্যাশা না থাকা এক চরিত্রে-‘সিংহাম এগেইন’-এ খলনায়ক হিসেবে অভিনয় করে ফের কিছুটা স্বীকৃতি পান তিনি। “মানুষ আমার ব্যর্থতা দেখতে চেয়েছিল। আমার পদবি আর ব্যক্তিগত জীবন দিয়েই আমাকে বিচার করা হয়েছে,” অকপটে স্বীকারোক্তি তাঁর।
আজ অর্জুন কাপুর নিজের ভয়, অনুশোচনা ও দুর্বলতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন। তাঁর যাত্রা প্রমাণ করে- তিনি বহুবার পড়েছেন, কিন্তু থামেননি। কারণ, হার মানতে রাজি না হওয়াটাই হয়তো তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে, সম্প্রতি তার মায়ের জন্মদিনে করা পোস্ট ঘিরেই বিতর্ক। ঠিক যেন সুশান্তের প্রতিছব্বি। তিনিও তার মায়ের মৃত্যুর আগে, লিখেছিলেন, আর কিছুদিন পর দেখা হবে তোমার সঙ্গে। আর এবার অভিনেতা অর্জুন তিনি সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন...
"শুভ জন্মদিন মা। আজ তোমাকে ভীষণ মিস করছি। জীবন ইদানীং আমার প্রতি একটু কঠোর হয়ে উঠেছে, কিন্তু তাতেও আমি ভেঙে পড়িনি। আমি অনেক আঘাত সহ্য করেছি, আরও করব- তবু আবার উঠে দাঁড়াব। কারণ তুমি আমায় শিখিয়েছ, কীভাবে জীবনের সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে হয়, আর একই সঙ্গে কীভাবে সমস্ত কিছুর মধ্য দিয়ে সম্মান ও সৌন্দর্য বজায় রেখে এগিয়ে যেতে হয়। এই লড়াইটা আমরা একসঙ্গেই লড়ছি- তুমি আর আমি, তুমি সবসময় আমার ভিতরেই আছো। একদিন আবার তোমার সঙ্গে দেখা হবে। সেদিন আমরা একসঙ্গে বসে তোমার জন্মদিন উদযাপন করব—ঠিক যেমনটা আমরা সবসময় করতে চেয়েছিলাম।"


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us