/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/13/arman-khan-2026-01-13-14-17-28.jpg)
আরমান খানের কথায় ঐক্যের সুর
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী উস্তাদ রাশিদ খানের (Rashid Khan) পুত্র আরমান খান (Armaan Khan) সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশব, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের অভিজ্ঞতা নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ছোটবেলায় সবার আগে তিনি শিখেছিলেন গায়ত্রী মন্ত্র। একই সঙ্গে তাঁর বাড়িতে নিয়মিত হিন্দু ধর্মীয় পুজো যেমন হয়, তেমনই ঈদের সময় উদযাপন চলে গুরুত্বের সঙ্গে। এই পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা, যেখানে ধর্ম কখনো বিভাজনের বিষয় হয়ে ওঠেনি, বরং মিলনের সেতু হয়ে ওঠে।
আরমন বলেন, 'কোনওদিন মনে হয়নি, সরস্বতী পুজো (Saraswati puja 2026) গনেশ চতুর্থী এই অনুষ্ঠানগুলো আমার নয়।' তাঁর কথায়, ছোটবেলা থেকে তিনি কখনোই অনুভব করেননি যে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতিনীতি তাঁর নয়।
তাঁর কাছে সব রীতিই ছিল আপন, সব উৎসবই ছিল পরিবারের আনন্দের অংশ। এই বহুত্ববাদী সংস্কৃতিই তাঁকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, আমরা এমন একটি দেশে বাস করি যেখানে সব ধর্মকে সম্মান করার ঐতিহ্য রয়েছে, যাকে বলা হয় একটি সেকুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। তবে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে এক ধরনের উদ্বেগও। আরমান খান মনে করেন, বর্তমান সময়ে সেই ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছে। সমাজে বিভাজনের প্রবণতা বাড়ছে, সহাবস্থানের জায়গায় তৈরি হচ্ছে দূরত্ব। তাঁর মতে, এই পরিবর্তন আমাদের সাংস্কৃতিক ও মানবিক মূল্যবোধের জন্য বিপজ্জনক।
আরও পড়ুন: ১৬ বছরে বিশ্বমঞ্চ কাঁপালেন ওয়েন কুপার, ভবিষ্যতের সুপারস্টার?
আরমান খান ধীরে ধীরে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলছেন সংগীতজগতে। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা আরমানের জীবনে রাগ-রাগিণী, তাল-লয়ের চর্চা ছিল নিত্যসঙ্গী। বাবার মতোই তিনি রামপুর-সাহাসওয়ান ঘরানার ঐতিহ্যকে ধারণ করে শাস্ত্রীয় সংগীতের পথে এগিয়ে চলেছেন। উস্তাদ রাশিদ খানের কাছে তালিম নিয়ে আরমান খুব অল্প বয়সেই রিয়াজের গুরুত্ব ও সংগীতের গভীরতা উপলব্ধি করতে শেখেন।
দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন উস্তাদ রাশিদ খান। ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘পদ্মশ্রী’ ও ‘পদ্মভূষণ’ সম্মান তাঁর কৃতিত্বের স্বীকৃতি। এছাড়া সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মানে তাঁকে সম্মানিত করা হয়েছে। তিনি নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
আরও পড়ুন: বাংলা সিনেমা জগতে গর্বের মুহূর্ত তৈরি করল শ্রীলেখা মিত্রের ‘মায়ানগর’
রাশিদ খানের কণ্ঠ, রাগের গভীর উপলব্ধি ও অনবদ্য গায়নশৈলী তাঁকে সমকালীন সংগীতশিল্পীদের মধ্যে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তিনি রামপুর-সাহসওয়ান ঘরানার অন্যতম প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে পরিচিত।
১৯৬৮ সালে উত্তরপ্রদেশের বদায়ুঁ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন উস্তাদ রাশিদ খান। সংগীত ছিল তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য। তাঁর দাদু উস্তাদ নাসির খান ছিলেন রামপুর-সাহসওয়ান ঘরানার খ্যাতনামা শিল্পী। ছোট বয়স থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ তৈরি হয়। তিনি রাগের শুদ্ধতা বজায় রেখেই নতুনত্ব আনতে পারদর্শী হওয়ায়, আধুনিক প্রজন্মের কাছেও সমান জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: সিনেমার সমাবর্তন ২০২৬’-এ বাংলা সিনেমা দেখার আহ্বান দুই কিংবদন্তি শিল্পীর


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us