Avatar Fire and Ash movie review: দৃশ্য অনবদ্য, গল্প পরিচিত: কেমন হলো ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’?

জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এ প্যান্ডোরায় শুরু হয়েছে আগুন ও ছাইয়ের যুদ্ধ। নতুন খলনায়ক ভারাং, চেনা সালি পরিবার, দুর্দান্ত ভিএফএক্স ও পরিচিত গল্পের মিশেলে কেমন হলো অ্যাভাটার ৩—জানুন বিস্তারিত রিভিউতে।

জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এ প্যান্ডোরায় শুরু হয়েছে আগুন ও ছাইয়ের যুদ্ধ। নতুন খলনায়ক ভারাং, চেনা সালি পরিবার, দুর্দান্ত ভিএফএক্স ও পরিচিত গল্পের মিশেলে কেমন হলো অ্যাভাটার ৩—জানুন বিস্তারিত রিভিউতে।

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
avatar

কেমন হল নতুন ছবি?

 জল আর বাতাসের অধ্যায় পেরিয়ে এবার আগুন ও ছাইয়ের ভুবনে পা রাখলেন জেমস ক্যামেরন। ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’- পৃথিবী থেকে বহু আলোকবর্ষ দূরের জনবহুল এক্সোমুন প্যান্ডোরায়, পরিচালকের আরেকটি দীর্ঘ, দৃশ্যবিস্ময়কর অভিযান। কল্পনার ব্যাপ্তি এখনও শ্বাসরুদ্ধকর, তবে এত বছর পর ক্যামেরনের ভাষ্য যেন পরিচিত ছাঁচে বাঁধা। দৃশ্যের জৌলুস থাকলেও গল্পের নিঃশ্বাস মাঝে মাঝে ভারী লাগে।

Advertisment

৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিটের এই ছবি অ্যাভাটার সিরিজের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ। সালি পরিবারের সঙ্গে আবারও দর্শক উড়বে, সাঁতার কাটবে, লড়াই করতে দেখবে, ঠিক-ভুল, রক্তের টান, ‘অন্য’কে গ্রহণ করার দ্বন্দ্বে তারা আগের মতোই জড়িয়ে পড়ে। ছুরি-তীরধনুক, অনুগত প্রাণীদের ডাক- সবই আছে, কিন্তু পথচলাটা বেশ পরিচিত।

স্যাম ওয়ার্থিংটন, জো সালডানা, সিগর্নি ওয়েভার, স্টিফেন ল্যাং, কেট উইন্সলেট ও জিওভানি রিবিসি নিজ নিজ ভূমিকায় ফিরেছেন। কারিগরি দিক অনবদ্য- মোশন ক্যাপচার আর ভিএফএক্সে না’ভিদের মানবিক আবেগ স্পষ্ট। জ্যাক সালি (ওয়ার্থিংটন) এখনও তোরুক মাকটো-‘শেষ ছায়ার রাইডার’। তবে এই অধ্যায়ে নেইটেরি (সালডানা) বদলে গেছেন: যোদ্ধা রাজকুমারীর চেয়ে বেশি তিনি এক শোকাহত, তিক্ত মা। আগের ছবিতে সন্তানের মৃত্যুর ক্ষত, তার মধ্যে মানুষদের প্রতি ঘৃণা বাড়িয়েছে- স্পাইডার নামের মানব-সন্তানটির প্রতিও সেই বিরূপতা ছড়ায়।

চলচ্চিত্র জগতে শোক, KGF-নির্মাতা কীর্তনের ছোট ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

ক্যামেরন আবারও প্যান্ডোরাকে, আদিবাসী-সদৃশ প্রজ্ঞার প্রতীক বানান, তাঁর উদ্দেশ্য- প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের জ্ঞান বনাম লোভী, শোষণকারী মানুষের হুমকি। এবার সেই সংঘাতে যোগ হয়েছে 'অমৃত'- অঢেল মূল্যের এক পদার্থ, যার জন্য বিজ্ঞানী-সৈন্যদের জাহাজ স্থায়ীভাবে প্যান্ডোরায় শিকার চালায়।

এই অধ্যায়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সংযোজন খলনায়ক ভারাং (ওনা চ্যাপলিন)।‘অ্যাশ পিপল’-এর নেতা, যে আগুন নিয়ন্ত্রণে সিদ্ধহস্ত। তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট: লুট, আধুনিক অস্ত্র দখল, আর কোয়ারিচের (ল্যাং) সঙ্গে উত্তপ্ত জোট। ভারাং–কোয়ারিচ জুটি ছবিতে, তাজা শক্তি আনে। তাদের দৃশ্যগুলো, সালি পরিবারের তুলনায় বেশি চাঞ্চল্যকর।

সব মিলিয়ে, ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ দুনিয়া-গড়ার ক্ষেত্রে এখনও অনন্য, দৃশ্যভাষা অতুলনীয়। কিন্তু পরিচিত দ্বন্দ্ব আর কিছু ক্লান্ত সংলাপে ছবিটি নিজের ভারে একটু ভারী হয়ে ওঠে। তবু ক্যামেরন দেখিয়ে দেন—এই জগত কত গভীর। হয়তো পরের বার, আরও ভিন্ন চোখে দেখার সময় এসেছে।

অ্যাভাটার ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ মুভির কাস্ট: স্যাম ওয়ার্থিংটন, জো সালডানা, সিগর্নি ওয়েভার, স্টিফেন ল্যাং, ওনা চ্যাপলিন, ব্রিটেন ডাল্টন, জ্যাক চ্যাম্পিয়ন, কেট উইন্সলেট, জিওভানি রিবিসি অ্যাভাটার ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ মুভি ডিরেক্টর: জেমস ক্যামেরন
রেটিং: ৩.৫/৫

Movie Review film