Sohini Sarkar Interview: মানুষের নিঃশ্বাসে বিশ্বাস নেই তাই মনে হয় জীবনটা রান্নাবাটির মতো খেলার ছলে কাটিয়ে দিলেই তো ভাল: সোহিনী

Sohini Sarkar-Ranna Baati: খাস কলকাতাকে থাকলেও খড়দার মেয়ে সোহিনী সরকার কিন্তু শিকড়ের টান আজও অনুভব করেন। পর্দায় 'রান্নাবাটি' খেলার মাঝেই সোহিনী বললেন, 'জীবনটাও রান্নাবাটি খেলার মতো কেটে গেলে ভালোই হয়।'

Sohini Sarkar-Ranna Baati: খাস কলকাতাকে থাকলেও খড়দার মেয়ে সোহিনী সরকার কিন্তু শিকড়ের টান আজও অনুভব করেন। পর্দায় 'রান্নাবাটি' খেলার মাঝেই সোহিনী বললেন, 'জীবনটাও রান্নাবাটি খেলার মতো কেটে গেলে ভালোই হয়।'

author-image
Kasturi Kundu
New Update
fwefwefwewer

রান্নাবাটি মানেই মেয়েদের খেলা, এইরকম ভাবনাচিন্তা একটা সময় প্রকট ছিল এখন কিছুটা কমেছে: সোহিনী

রান্নাবাটির সঙ্গে মেয়েবেলার নিশ্চয়ই কোন নস্ট্যালজিক মুহূর্ত আছে...

সোহিনী:  মাকে অনেক ম্যানেজ করে খেলতে যেতে হতো। পড়াশোনার সঙ্গে খেলাধূলোটা ছিল একদম শর্তসাপেক্ষ। আমাদের বাড়ির পাশে একটা বাড়িতে তিন বোন ভাড়া থাকত। ওরা ওদের একটা সেট খেলনা নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসত, আমারও একটা রান্নাবাটির সেট ছিল। আমি আর ওই তিন বোনের মধ্যে যে ছোট দুজন মিলে সবসময় বাজার করতে যেতাম। বাজারে গেলে বেশ অনেকটা সময় ঘোরা যায় তাই ওটাই আমার খুব প্রিয় কাজ ছিল।

Advertisment

রান্নাবাটি নাকি শুধুই মেয়েদের খেলা, এই চিন্তাধারার সঙ্গে সহমত?

সোহিনী: এটা পুরোপুরি অস্বীকার করার উপায় নেই। রান্নাবাটি মানেই মেয়েদের খেলা, সমাজের বুকে এইরকম ভাবনাচিন্তা একটা সময় প্রকট ছিল এখন কিছুটা কমেছে। আমি দেখেছি ছেলেরাও রান্নাবাটি খেলতে চায়, কিন্তু বাড়িতে দিদি বা বোন না থাকলে খেলার সুযোগ থাকে না। সময়ের সঙ্গে সবকিছুই বদলাচ্ছে, ভাবনাচিন্তাতেও বদল আসছে। তবে আজও কিন্তু মেয়েদের কোনও না কোনও কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করতে হয়। বিশ্বকাপ জিতল বলে এত উচ্ছ্বাস কিন্তু, উলটো ঘটনা ঘটলেই আবার মেয়েদের যোগ্যতা নিয়ে কথা হত। 

ঘরের বাইরে বেরিয়ে যে মহিলারা কাজ করেন তাঁদের সকলে কদর করে। কিন্তু, রান্নাটাও তো একটা শিল্প, সকলের তো সেই গুণ থাকে না...

Advertisment

সোহিনী: রান্না তো অবশ্যই একটা আর্ট, সকলে সেটা পারে না। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে রান্না জানলে ভাল। আমার চারপাশে এমন অনেক পুরুষ আছেন যাঁরা দুর্দান্ত রান্না করেন। প্রচুর বন্ধুর মা অর্থাৎ কাকিমাদের থেকে কাকুরা দারুণ রান্না জানেন। আগে যখন নিয়মিত বন্ধুদের বাড়ি যাতায়াত ছিল তখন আমরা কাকুদের হাতে রান্না খাওয়ার বায়না করতাম। আমার তো মনে হয় কম-বেশি সকলেরই রান্না জানা থাকলে জীবনে কখনই কোনও সমস্যা হবে না। প্রয়োজনে নিজের জন্য রান্নাটুকু করে নিতে পারবে। যাঁরা রান্না প্রকৃত অর্থে ভালবাসেন তাঁরা নিজেদের স্কিল বৃদ্ধি করেন। 

বয়স বাড়লে তো সকলের স্মৃতিতেই শৈশব তাজা হয়, শুটিং সেটে কখনও ছোটবেলার দিনগুলোতে ফিরে যাওয়ার কথা মনে হয়েছে? 

সোহিনী: যেটা সম্ভব নয় সেই কাল্পনিক বিষয়গুলো নিয়ে কখনও ভাবিনি। যে দিনগুলো, মানুষগুলোকে ফেলে এসেছি সেগুলো কোনওদিন ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। ছোট থেকে বড় হওয়া, কৈশোর থেকে যৌবন পেরিয়ে বার্ধ্যকের দিকে মানুষ এগিয়ে যায়। জীবনচক্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ছোটবেলা। প্রকৃতির বুকে হইহই করে যার ছোটবেলা যত সুন্দরভাবে কাটে তাঁদের পরবর্তীজীবনটাও ভাল হয়। এখন যাঁরা ৪০-এর কোঠায় পা রাখতে যাচ্ছে তাঁরা যখন ৬০-৬৫-তে পৌঁছাবে তখন আবার এই সময়ের কথাগুলো মনে পড়বে। আসলে মানুষ অতীতের সুন্দর মুহূর্তগুলোর মধ্যে মানুষ বাঁচার রসদ খুঁজে পায়। তাই সেটা বারবার ফিরে পেতে ইচ্ছে করে। বর্তমানকে খুব মানুষই এনজয় করতে পারি।

সাংসারিক জীবনে রান্নাবাটি খেলার সমীকরণটা ঠিক কী রকম?

সোহিনী: অনেকসময় জীবনটা আমরা খুব সিরিয়াসলি নিয়ে নিই। কিন্তু, পরক্ষণেই মনে হয় জীবনটা রান্নাবাটির মতো খেলার ছলে কাটিয়ে দিলেই তো ভাল, নিঃশ্বাসে তো বিশ্বাস নেই। 

দুজনের একসঙ্গে রান্না করার কোনও মিষ্টি মুহূর্ত...

সোহিনী: শোভন রান্নাঘরে সাহায্য করতে চায় কিন্তু, আমি চেষ্টা করি সেটা এড়িয়ে যেতে। সামান্য মাছ ভাজতে যা তেল কড়াইতে ঢেলে ফেলে আমাকে সেটা আবার বাটিতে তুলতে হয় (হাসি)। তবে আমাকে একবার একটা চিকেন খাইয়েছিল, দারুণ হয়েছিল। ওকে বলছিলাম আবার কবে করবে। আমাকে নাকি এবার এমন একটা আইটেম খাওয়াবে যা খেলে তাক লেগে যাবে। ওটা শুনেই আমার বুক দুরুদুরু করছে কারণ আমাকে তো রান্নাঘরটা পরিস্কার করতে হবে (হাসি)। তবে এটাও মনে হয়, একটু আধটু করতে না দিলে কখনও প্রয়োজনে রান্না করতে পারবে না। শোভন সবচেয়ে পছন্দের ডিপার্টমেন্ট সকলকে গুছিয়ে খেতে দেওয়া। বাড়িতে যখন কোনও অনুষ্ঠানে সবাই একসঙ্গে খেতে বসি তখন ও সকলকে খাবার বেড়ে দেয়। 

আরও পড়ুন 'গিল্ড-ফেডারেশনের ঝামেলা এড়াতেই বাংলায় কাজ করি না', 'Murderbaad' মুক্তির আগে অকপট অর্ণব

রান্নাঘরে সিনেম্যাটিক প্রেম, বলিউডি কায়দায় মাথায় উপর আটার ড্রাম পরে যাওয়া বা বাসন মাজার মাঝে ঠোঁটে ঠোঁট...

সোহিনী: না না...এগুলো সিনেমাতেই ভাল লাগে। আমার মাথায় পড়লে মাথাটাই গরম হবে কারণ পরে তো পরিষ্কারটা আমাকেই করতে হবে। তাই আ্মি চাই-ও না আমার মাথার উপর আটা-ময়দার ড্রাম পড়ুক। আসলে সিনেমা দেখে আমরা আবেগে ভেসে যাই, বাস্তবে এসব কিছু হয় না।

প্রথম রান্না খেয়ে শোভনের থেকে কী কমপ্লিমেন্ট পেয়েছিলেন? 

সোহিনী: ২০২৩-এ কালীপুজোয় অনেক রান্না করে খাইয়েছিলাম। তবে শোভনকে প্রথম যেটা খাইয়েছিলাম সেটা হল পনির বাটারমশালা। রান্না করে সকলকে খাওয়াতে আমার খুব ভাল লাগে। ওঁর ভালো লাগলে খেয়ে নেয়, কোনও কমপ্লিমেন্ট আলাদা করে আর দেয় না। 

আজকের মেয়েদের মধ্যে রান্নার প্রতি একটা অনীহা দেখা যায়...

সোহিনী: এটা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত পছন্দ। আমার ভাল লাগে আমি করি। যাঁর ভাল লাগে না সে করে না। এখানে কোনও জোরোজুরির বিষয় নেই। অনেক মেয়েরা তো ভাল গাড়ি চালায়, তাঁরা হয়ত রান্নাতে পটু নয়। তাই যাঁর যেটা ভাল লাগে তাঁকে সেটাই করতে দেওয়া উচিত। সবাইকে কিছু জানতে হবে এমন মাথার দিব্যি কেউ তো দেয়নি।

পছন্দের খাবার কোনটা? আর বরের জন্য কোন আইটেমটা বানাতে ভাল লাগে?

সোহিনী: আমার সবচেয়ে প্রিয় খাবার গোবিন্দভোগ চালের ভাত, ঘি, চন্দ্রমুখী আলুসিদ্ধ আর সঙ্গে একটা অর্গানিক ডিম সিদ্ধ। এটা পেলে আমি রেস্তোরাঁর খাবারও ছেড়ে দিতে পারি। আর শোভনের জন্য আলাদা করে রান্না বলতে জন্মদিনে করি। সবসময় আলাদাভাবে তো কিছু করা সম্ভব হয় না। বাড়িতে বন্ধুবান্ধব আসে, তখন সকলের পছন্দমতোই রান্নাবান্না তো হয়ই। ও বাইরের খাবার একটু বেশি ভালবাসে। সেদিন যেমন মটন বিরিয়ানি রান্না করেছিল। আমি আবার অনেকরকম নিরামিষ পদ রান্না করি। 

আরও পড়ুন বাংলায় কাজ করতে চাই কিন্তু বাজেটের জন্য কেউ ডাকে না, ভাল চরিত্র পেলে কম্প্রোমাইজ করতে রাজি: সুস্মিতা

সোশ্যাল মিডিয়ায় কুনাল ঘোষ যখন প্রকাশ্যে খোঁচা মারে...কাজ হারানো নিয়ে ভয় হয়?

সোহিনী: ভগবানের আশীর্বাদ আর সকলের ভালবাসায় এখনও কর্মক্ষেত্রে সেইরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হইনি। আর সকলেই প্রচারের আলোতে থাকতে ভালবাসে। আগে শুধু সিনেমার প্রচার হত। এখন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও একটা প্রচারের স্ট্রাটিজি আছে। আগে প্রচারের ধরনটা অন্যরকম ছিল, এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় কায়দাকানুন বদলেছে। আমার ওগুলো নিয়ে কিছু বলার নেই। যত কথা বলব ততই মনে হবে আমি গুরুত্ব দিচ্ছি, এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়। সকলের মুখ বন্ধ করার দায়ভার তো আমার নয়। কারও সম্পর্কে কথা বলার সময় আমার নেই।

কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মঞ্চে কেন সোহিনী সরকারকে দেখা যায় না?

সোহিনী: প্রত্যেক বছর আমার কাছে আমন্ত্রণ পত্র আসে, কিন্তু আমি যাই না সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আমি সিনেমা দেখতে যাই। বিশ্বের কাছে এই কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের একটা আলাদা মাহাত্ম্য আছে। এবারে চলচ্চিত্র উৎসবে নদরের ভেলা-র মতো একটা বাংলা ছবি সম্মানিত হচ্ছে সেটা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের একটি বিষয়। আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই ফেস্টিভ্যালে যে বিনিয়োগটা করা হয় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা সেটা পৃথিবীর অন্য কোথাও দেওয়া হয় না। আমার মতে, ভাল জিনিসের উপর ফোকাস করা উচিত। 

শাড়িতে সুন্দর লাগছে, এটা শুনতে ভাল লাগে?

সোহিনী: আমি কোনও ট্রেন্ডে গা ভাসাতে চাই না। আমি নিজে জানি যে আমাকে শাড়িতে ভাল লাগে। শাড়ি পরলে অনেকেই বলে সত্যবতীর মতো লাগছে। সেটা শুনতে ভাল লাগে। শোভনও আমাকে শাড়িতেই বেশি পছন্দ করে। ওয়ের্স্টানের চেয়ে শাড়ির সাবেক সাজ আমার ভীষণ প্রিয়। কে কখন বলবে শাড়িতে আমাকে ভাল লাগছে সেই অপেক্ষায় আমি বসে থাকি না। আমার মতে প্রত্যেকেরই নিজের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত, যাকে যে পোশাকে ভাল লাগে তাঁর সেটাই পরা উচিত। 

আরও পড়ুন এখন ওয়েব সিরিজে কাজের সুযোগ থাকায় মেগার গল্পে খুঁত ধরা প্রাসঙ্গিক : সৌরভ চক্রবর্তী

Sohini Sarkar