Swastika Dutta Interview: সমাজে একটা বিদ্যা ব্যানার্জি প্রয়োজন, আমি চাই স্নেহাশিষ চক্রবর্তীর এই গল্প দিদি দেখুক: স্বস্তিকা দত্ত

Swastika Dutta-Professor Bidya Banerjee: দীর্ঘ আট বছর পর ব্লুজ প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে গ্র্যান্ড কামব্যাক স্বস্তিকা দত্তর। স্নেহাশিষ চক্রবর্তী, যাঁর হাত ধরেই অভিনয়ে হাতেখড়ি তাঁর ছত্রছায়ায় বিদ্যা ব্যানার্জির চরিত্র, কতটা উত্তেজিত অভিনেত্রী? ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার সঙ্গে একান্ত আড্ডায় 'প্রফেসর' স্বস্তিকা দত্ত।

Swastika Dutta-Professor Bidya Banerjee: দীর্ঘ আট বছর পর ব্লুজ প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে গ্র্যান্ড কামব্যাক স্বস্তিকা দত্তর। স্নেহাশিষ চক্রবর্তী, যাঁর হাত ধরেই অভিনয়ে হাতেখড়ি তাঁর ছত্রছায়ায় বিদ্যা ব্যানার্জির চরিত্র, কতটা উত্তেজিত অভিনেত্রী? ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার সঙ্গে একান্ত আড্ডায় 'প্রফেসর' স্বস্তিকা দত্ত।

author-image
Kasturi Kundu
New Update
err23423

পর্দায় 'প্রফেসর' স্বস্তিকা

৮ বছর পর স্নেহাশিষ চক্রবর্তীর হাত ধরেই গ্র্যান্ড কামব্যাক, সবাইকে খুব শাসন করছেন?

Advertisment

হ্যাঁ, সকলকে খুব শক্ত শাসনের মধ্যে রাখছি (ফোনের ওপারে হাসি)। তবে সেটা শুধু বিদ্যা ব্যানার্জি হয়ে। বাস্তবের স্বস্তিকা দত্ত খুবই শৃঙ্খলাপরায়ণ। ছোটবেলা থেকেই আমি শৃঙ্খলাপরায়ণ জিনিসটা মেনে চলতে পছন্দ করি। আমি নিজে যেহেতু রুটিন মেনে চলায় বিশ্বাসী তাই প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি চরিত্রটা আমার সঙ্গে অনেকাংশে মিলে গিয়ছে। সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে আমি স্বপ্নের জগৎ-এ বাস করছি। স্নেহাশিষ চক্রবর্তী নিজে ডেকে কাজটা আমাকে দিয়েছেন। ব্লুজ প্রোডাকশনের হাত ধরেই ডালি হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলাম। আজও আমি মুক্ত মঞ্চে শো করতে গেলে সকলে ডালি বলে ডাকে। এই চরিত্রের প্রস্তাবটা আমাকে যখন স্নেহাশিষ দা  দিলেন, তখন আমার দায়িত্ব সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নিজেকে প্রমাণ করার। স্নেহাশিষ চক্রবর্তীর লেখনীর একটা আলাদা ফ্যানবেস আছে। আর ওঁর সঙ্গে কাজ করতে গেলে হোম ওয়ার্কটা ভীষণ জরুরি। 

গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে থেকে শৃঙ্খলাপরায়ণ থাকা সম্ভব?

আসলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির প্রতি বাইরের জগৎ-এর একটা আবছা ধারণা রয়েছে। তাঁরা ভাবেন এটা খুব খারাপ জায়গা, খারাপ পেশা, উৎশৃঙ্খল জীবনযাপন। কিন্তু, আদতে মোটেই তা নয়। আমরা যখন একটানা ১২-১৪ বা ৩৬ ঘণ্টা শুটিং করি তখন তো তাহলে আমাদের চোখে মুখে সেই ছাপ দেখা যাবে। ক্যামেরায় সবটাই ধরা পড়বে, উৎশৃঙ্খল জীবনযাপন করলে অভিনয়টা কী ভাবে করা হয়? আমাদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা থেকে এগুলো রটানো হয়, সবসময় যা রটে তা বটে নয়।

Advertisment

প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি কোনওভাবে বাস্তবধর্মী গল্পের আধারে তৈরি?

আসলে স্নেহাশিষ চক্রবর্তী সবসময়ই বাস্তবকে পর্দায় তুলে ধরতে চান। আমি হলফ করে বলতে পারি প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি আজকের দিনের জন্য ভীষণ প্রাসঙ্গিক। প্রথম এপিসোড থেকেই বোঝা যাবে আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত এইরকম ঘটনা ঘটছে আর প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জির মতোই একজনকে প্রয়োজন। স্নেহাশিষ চক্রবর্তী এমন কিছু চরিত্র তৈরি করেন যা দর্শক দেখতে চায়। উনি দর্শকের চাহিদাটা বোঝেন। বিদ্যা ব্যানার্জিও সেই রকমই একটা চরিত্র। 

বিদ্যা ব্যানার্জির চরিত্রে তো বেশ কিছু অ্যাকশন দৃশ্যও রয়েছে...

হ্যাঁ, আমি একজন নন-ভায়োলেন্ট পার্সন। হাতের থেকে মুখ বেশি চলে। কিন্তু, আমি কাউকে থাপ্পর মারতে পারি না। আমার ভীষণ কষ্ট হয়, শুধু মনে হয় যাকে মারছি তার তো লাগবে। কিন্তু, শুটিং ফ্লোরে আমাকে মনে রাখতে হয় আমি একজন পেশাদার অভিনেত্রী। আমাকে যে পাত্রে রাখা হবে সেই পাত্রের আকার ধারণ করতে হয়।

প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি চরিত্রটা পছন্দ হয়েছিল নাকি স্নেহাশিষ চক্রবর্তীর প্রস্তাব বলে রাজি হয়েছিলেন?

আমি সত্যিই প্রথমে সত্যিই কিছু জানতাম না। ওই মানুষটাকে আমি ভীষণ ভরসা করি। কী চরিত্র, সিরিয়ালের নাম কী এসব কিছুই জানা ছিল না। আসলে সঠিক সময় সঠিক জিনিসটা এসে যায়। দাদা যখন আমাকে বলেছিলেন তোমাকে নিয়ে একটা মেগার কথা ভাবছি, আমি তখন কিছু না জেনেই হ্যাঁ বলেছিলাম। স্টার জলসার হাত ধরেই তো হাতেখড়ি, আট বছর পর এটা আমার ঘর ওয়াপসি। আমি শুধু দাদাকে বলেছিলাম পারব তো? সঙ্গে সঙ্গে বলেছিলেন হ্যাঁ, তুমিই পারবে। আমি স্নেহাশিষ দার লেখার বিরাট ফ্যান, নিজে পরশুরাম, জগদ্ধাত্রী দেখি। 

সিনেমা-সিরিজের পর আবার সিরিয়ালে কামব্যাক, এই সময় যদি বিগ বাজেটের ছবির প্রস্তাব আসে?

আমার কেরিয়ার শুরু সিনেমা দিয়েই। পরপর তিনটে ছবিতে কাজ করেছিলাম। প্রথম ছবিটা দারুণ হিট। সেই ছবির গান এখনও পুজো প্যাণ্ডেলে বাজে। কোনও দিন ভাবিনি নির্দিষ্ট মাধ্যমে কাজ করব। আমি একসঙ্গে তিনটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করছি। মুক্তির অপক্ষায় ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল, আড্ডা টাইমসের সিরিজ। আসলে আমি ছোট থেকে নিজেকে নিজে একটা জিনিস শিখিয়েছি, একটা সময়ে একটা কাজ করব। ধারাবাহিকে একটা চরিত্রে অভিনয় করতে করতে হঠাৎ একটা বিগ বাজেট ছবির প্রস্তাব পেয়ে চলে গেলে সেই চরিত্রর সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হতেই পারে। তখন পরিচালক-প্রযোজকদের সমস্যা হবে। একটা জিনিসে আমি বিশ্বাসী, সব পেলে নষ্ট জীবন। 

ডালি-রাধিকা-বিদ্যা ব্যানার্জি কোনটা সবচেয়ে প্রিয়?

আমার কাছে প্রতিটি চরিত্র নিজের সন্তান। এগুলোর জন্য তো নিজের পরিশ্রম, চোখের জল সব কিছু উজার করে দিয়েছি। আজ থেকে চার বছর পরও যদি কেউ এই প্রশ্ন করে তাহলেও একই কথা বলব। মা-বাবার মধ্যে যেমন কাউকে চুজ করা যায় না ঠিক তেমনই আমি কোনও চরিত্রকে আলাদাভাবে প্রাধান্য দিতে পারি না। প্রতিটি চরিত্রকে সমানভাবে ভালবাসি। 

TRP-র চাপ বা আজকাল অল্প সময়ের মধ্যে হঠাৎ করে ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার দুঃশ্চিন্তা রয়েছে?

আমাদের এই ধারাবাহিকের পরিচালক সুকমল দা একবার বলেছিলেন, জগদ্ধাত্রী শুরুর সময় একজনের বিয়ে খেয়েছিলাম। এখন জগদ্ধাত্রী চলছে, তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে খেলাম। উনিও জগদ্ধাত্রী পরিচালনা করেছেন। ব্লুজের প্রতি তাই আমার আস্থা আছে। TRP আমাদের জন্য একটা মোটিভেশন, কাজের ক্ষেত্রে যেটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই দর্শক নতুন একটা চরিত্রের স্বাদ আস্বাদন করুক। স্নেহাশিষ চক্রবর্তী পশ্চিমবঙ্গে একজন-ই আর সেই উনি-ই একটা বিদ্যা ব্যানার্জি তৈরি করেছেন। 

শিক্ষা ব্যবস্থার ডামাডোলের মাঝে বিদ্যা ব্যানার্জির চরিত্রটা সামজের কাছে কোনও বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে?

দাদা তো স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। সেটা দেখে যদি কেউ মনে করে এর মধ্যে সামাজিক বার্তা রয়েছে সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ভাবনা। ওঁর মতে, বিদ্যা ব্যানার্জির মতো একটা চরিত্র সমাজে থাকা প্রয়োজন তাই লিখেছেন। যদি কেউ রাজনীতির রং মাখাতে চায় সেখানে তো কেউ বাধা দিতে পারবে না। এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তি বিশেষে নির্ভরশীল। 

আরও পড়ুন বাংলায় কাজ করতে চাই কিন্তু বাজেটের জন্য কেউ ডাকে না, ভাল চরিত্র পেলে কম্প্রোমাইজ করতে রাজি: সুস্মিতা

মেয়েরা বিশ্বকাপ ঘরে এনে দেশের নাম উজ্জ্বল করার মতো শিক্ষাক্ষেত্রে ছেলেদের রংবাজিও থামাতে পারে...

আমার নজরে, মেয়েরা পারে ছেলেরাও পারে। আগে মেয়ে তারপর ছেলে অর্থাৎ মেয়েরা যেটা পারে সেটা ছেলেরাও পারে। ছেলেরা পারে মেয়েরাও পারে এই ধারণায় বিশ্বাসী নই। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হয়ে আমি গর্বিত যেখানে মুখ্যমন্ত্রী নিজে একজন মহিলা। উনি সিরিয়াল দেখতে পছন্দ করেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই প্রজেক্ট ওঁর ভাল লাগবে। পশ্চিমবাংলার বুকে এমন একটা চরিত্র পেয়েছি যেখানে মমতা ব্যানার্জি-বিদ্যা ব্যানার্জি। আমি চাই দাদার লেখনীতে দিদির এই প্রজেক্টটা ভাল লাগবে। 

সিরিয়ালে আর্থিক নিশ্চয়তা থাকে, এর সঙ্গে সহমত?

হ্যাঁ, একদমই তাই। এটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। চরিত্র ফার্স্ট প্রায়োরিটি তারপর মাসের শেষে টাকা পাওয়াটা প্রয়োজন। কারণ টাকা ছাড়া তো জীবনে চলা সম্ভব নয়। পরিবারের স্বার্থে, নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে, জিমে যেতে, ভাল খাওয়াদাওয়া করতে সর্বক্ষেত্রেই টাকা প্রয়োজন। সিরিয়াল করছি বলে টাকা পাচ্ছি, টাকার জন্য সিরিয়াল করছি এমনটা কিন্তু নয়। 

বিদ্যা ব্যানার্জির এই রুদ্ররূরই দর্শক দেখবে নাকি সঙ্গে থাকছে মিষ্টি প্রেমের কাহিনি?

এটা জানেন ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ স্নেহাশি, চক্রবর্তী। স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী চরিত্রে কাজ করছি। কখন কী হবে সেটা কেউ জানে না। উনি তো চরিত্রের কারিগর। উনি গঠন করেন আর আমরা সেই আকার ধারণ করি। তবে এই মেগায় অর্ণবের সঙ্গে প্রথম কাজ, দর্শকের কাছে এটা ফ্রেশ জুটি। 

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ের ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ শর্ত? 

এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তি বিশেষে নির্ভরশীল। এখনও পর্যন্ত আমার কোনও সমস্যা হয়নি। তবে আমার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আছে। সেগুলো আমি নরম সুরে মার্জিতভাবে উপস্থাপন করি। কারণ আমি চাই না আমার জন্য কেউ কোনও সমস্যায় পড়ুক। সকলের কাজ নিয়ে টানাটানি হোক। 

সিনিয়ার স্টারদের হাতে আজকের দিনে কাজের অভাব...

সত্যি বলছি, এটা নিয়ে মতপ্রকাশের জন্য আমি অনেকটাই ছোট। এটা নিয়ে কথা বলাটা পাকামি হয়ে যাবে। 

আরও পড়ুন মানুষের নিঃশ্বাসে বিশ্বাস নেই তাই মনে হয় জীবনটা রান্নাবাটির মতো খেলার ছলে কাটিয়ে দিলেই তো ভাল: সোহিনী

Bengali Serial Swastika Dutta