Ushasi Ray Exclusive: অভিনয় যেহেতু আমার কমফোর্ট জোন তাই সবসময় মনে হত একবার সুযোগ তো পাই বাকিটা আমি দেখে নেব: ঊষসী রায়

Ushasi Ray 10 Years: আমি যখন প্রথম বর্ষের ছাত্রী তখন একজন কাস্টিং ডিরেক্টর আমাকে মেসেজ করে জানতে চেয়েছিলেন আমি সিরিয়াল করতে ইচ্ছুক কিনা: ঊষসী রায়

Ushasi Ray 10 Years: আমি যখন প্রথম বর্ষের ছাত্রী তখন একজন কাস্টিং ডিরেক্টর আমাকে মেসেজ করে জানতে চেয়েছিলেন আমি সিরিয়াল করতে ইচ্ছুক কিনা: ঊষসী রায়

author-image
Kasturi Kundu
New Update
cats

পেশাদার অভিনত্রী হিসেবে কতটা সফল হব জানতাম না তবে এটুকু বুঝেছিলাম অভিনয় আমার ভালবাসা: ঊষসী

ঊষসী রায়

আমার বাবা একজন লেখক। ভূতের ভবিষ্যতের স্ক্রিপ্ট ও ডায়লগ রাইটার। অনেকে বলে তারকা পরিবারের সন্তান হলেই নাকি ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক থাকে। তারকা বলতে আবার সবাই ক্যামেরার সামনে যাঁরা থাকেন তাঁদেরকেই বোঝেন। কিন্তু, আমার মনে হয় যাঁরা ক্যামেরার পিছনে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন তাঁরাও তারকার থেকে কোনও অংশে কম নয়। আমার ক্ষেত্রে এটা ভীষণভাবে প্রযোজ্য। আমার বাবা স্ক্রিপ্ট লেখেন, সংলাপ লেখেন। তাই আমার নজরে বাবা একজন তারকা, বাকিদের নজরে নাও হতে পারেন। ছোট থেকেই আমি এই জগৎটার সঙ্গে অল্প-বিস্তর পরিচিত, বাবার থেকে ওই গাইডেন্সটা পেয়েছি। যাঁরা ইন্ডাস্ট্রিতে একদম বাইরে থেকে আসেন তাঁরা সত্যিই প্রাথমিক বিষয়গুলো সম্বন্ধে জানেন না। কোথায় গিয়ে অডিশন দিতে হবে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে এইগুলো সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকে না, যেটা আমার ছিল। 

Advertisment

ছোটবেলায় বাবা-মা আমাকে আঁকা, নাচ, গান সব কিছু শিখিয়েছে। তবে যখন গ্রুপ থিয়েটারে ভর্তি করালো তখন ওটা আমি সবচেয়ে বেশি এনজয় করি আর সেই সময়ই মনে মনে ঠিক করে নিই অভিনয় ছাড়া আর কিছু করব না। পেশাদার অভিনত্রী হিসেবে কতটা সফল হব জানতাম না তবে এটুকু বুঝেছিলাম অভিনয় আমার ভালবাসা। আমি যখন প্রথম বর্ষের ছাত্রী তখন একজন কাস্টিং ডিরেক্টর আমাকে মেসেজ করে জানতে চেয়েছিলেন আমি সিরিয়াল করতে ইচ্ছুক কিনা। কিন্তু, তখন আমি ইতিহাস অনার্সের ছাত্রী। পড়াশোনা আর কাজ একসঙ্গে সামলানোর মতো আত্মবিশ্বাসী আমি ছিলাম না। স্নাতক হওয়ার পর বাবার সঙ্গে মন খুলে কথা বলি। আমার ইচ্ছের কথা জানাই যে আমি অডিশন দিতে চাই। তারপর অনেকগুলো রাউন্ডে অডিশন দিয়ে মিলন তিথিতে প্রথম কাজের সুযোগ। 

আরও পড়ুন সিনেমা-সিরিজের থেকে এখনও পর্যন্ত সিরিয়ালের 'রিচ'-'সিকিওরিটি' অনেক বেশি : ঊষসী

Advertisment

অনেক বছর থিয়েটার করেছিলাম। কিন্তু, মাধ্যমিকের আগে অনেকটা সময় বিরতি নিতে হয়েছিল। মধ্যবিত্ত বাড়িতে তো সবসময় এটাই বোঝানো হয় যে আগে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকে ভাল ফল করতে হবে তারপর অন্য কিছু। তাই আমিও সেই পথেই হেঁটেছিলাম। প্রায় পাঁচ-ছ'বছরের একটা লম্বা গ্যাপ, তারপর অডিশনের জন্য ডাক পেয়ে দিতে যাই। ওখানে গিয়ে বুঝতে পেরেছিলাম অনেক কিছু নতুন করে শেখার আছে। তবে অভিনয় যেহেতু আমার কমফোর্ট জোন তাই সবসময় মনে হত একবার সুযোগটা তো পাই, বাকিটা আমি ঠিক দেখে নেব। 

তবে যেদিন প্রথম হাউজের অডিশন হয়েছিল সেদিন একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল আমার দ্বারা হবে না, মাস্টার্সটাই শেষ করি। ওখানে এত সুন্দর দেখতে মেয়েরা এসেছিল, ফটফট করে সংলাপ বলে দিচ্ছিল আর আমি তো পারছিলাম না। আমাকে শুনতেও হয়েছিল যে আমি ঠিক পারছি না। তখন আমিও এতটাই টেনশনে ছিলাম যে মনে হচ্ছিল থাক, আর দরকার নেই। বাড়ি যাই, পরে দেখব। তবে আমার ওই ভয় পাওয়া, ঘাবড়ে যাওয়াটা মিলন তিথিতে আমার চরিত্রের জন্য প্রয়োজন ছিল। গ্রামের সহজ সরল মেয়ে যে কিনা একটুতেই ভয় পেয়ে যায় এমনই একটা চরিত্রের খোঁজে ছিলেন। সেই জন্যই আমি সিলেক্ট হয়েছিলাম। 

আরও পড়ুন কাদম্বিনীর পর প্রথম মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের কোন চরিত্র পছন্দ? কী বলছেন ঊষসী-সোলাঙ্কি?

যাঁরা আমার অডিশন নিয়েছিলেন, কাস্টিং করেছিলেন তাঁরা বাবাকে চিনতেন। তাই ইন্ডাস্ট্রি কতটা নিরাপদ এটা নিয়ে অনেকের মনে যে ভয় থাকে সেটা আমার ছিল না। যখন সবাই বলত ও তো দেবুদার মেয়ে তখন মনে হত আমি সম্পূর্ণ নিরাপদ। বাবার থেকে অভিনয়ের ক্ষেত্রে সাহায্য সেভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি কারণ সিরিয়ালে তো সিনে যাওয়ার আগে স্ক্রিপ্ট আসে। তবে টেলিকাস্টের পর মা-বাবা দুজনেই জানায় কেমন লাগল। দেখতে দেখতে ১০টা বছরর কাটিয়ে ফেললাম। আর এই দশ বছরে অনেক ভাল অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি। যেগুলো এখন মনে হয় খারাপ আজ থেকে চার-পাঁচ বছর পর হয়ত মনে হবে এগুলো না ঘটলে বাস্তবের মুখোমুখি হতে পারতাম না। অনেক কিছু বুঝতে শিখেছি, ঠান্ডা মাথায় হ্যান্ডেল করতে শিখেছি। তবে ভাল-খারাপের অভিজ্ঞতার পাল্লা অবশ্যই ভালর দিকেই বেশি। তবে ইন্ডাস্ট্রিতে বিগত ১০ বছরে শেখার ঝুলিটা অনেক ভারি। 

আমার মনে হয় সঠিক জিনিসটা সঠিক সময়ে হবে। আমি যখন টেলিভিশন থেকে বিরতি নিয়েছিলাম তখন অনেক সিনেমার জন্য কল পেয়েছি কিন্তু, নানা কারণে কাজগুলো করে ওঠা হয়নি। এরপর ধারাবাহিকে ঘর ওয়াপসি। তখনও বহু পরিচালকের থেকে ফোন পেয়েছি কিন্তু, আমি একসঙ্গে দুটো কাজ করতে চাইনি। কারণ এতে কোনওটাই ঠিকভাবে হবে না, হান্ড্রেড পার্সেন্ট যদি দিতে না পারি...। পরে যদি ভাগ্যে থাকে নিশ্চয়ই প্রস্তাব পাব। আমি আমার দর্শক, ভগবানের কাছে কৃতজ্ঞ। যাঁরা আমাকে বিশ্বাস করে কাজ দিয়েছেন তাঁদেরকে ধন্যবাদ। নিজের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আরও ভাল করে মন দিয়ে কাজ করব। 

আরও পড়ুন কেউ নিজেকে ভাল রাখবে তো কেউ মন দেবে শরীরচর্চায়, কারও কাছে গুরুত্বহীন! 'প্রমিস ডে'-তে কী প্রতিজ্ঞা 'সিঙ্গল'-দের?

Ushasi Ray