/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/17/bhumi-pednekar-2026-01-17-15-39-32.jpg)
ফিটনেস কি শাস্তি?
আধুনিক সময়ে ফিটনেস আর শুধুই শরীর ও মনের সুস্থতার বিষয় নয়, বরং তা অনেকাংশেই পরিণত হয়েছে সংখ্যা, ট্র্যাকার, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং অনলাইন স্বীকৃতির এক প্রতিযোগিতায়। ক্যালোরি বার্ন, স্টেপ কাউন্ট, হার্ট রেট কিংবা ওয়ার্কআউটের ছবি শেয়ার করে প্রশংসা পাওয়া যেন অনেকের কাছে ব্যায়ামের আসল উদ্দেশ্য হয়ে উঠছে। ভূমি পেডনেকর (Bhumi Pednekar) অকপটে স্বীকার করেছেন, একসময় তিনিও এই ‘স্বীকৃতি পাওয়ার’ মানসিকতার মধ্যেই আটকে পড়েছিলেন।
সোহা আলি খানের পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভূমি জানান, ব্যায়ামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সবসময় স্বাস্থ্যকর ছিল না। তিনি বলেন, শুরুটা হয়েছিল ইতিবাচক ভাবেই। ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’ ছবির শুটিং শুরুর ঠিক আগে অক্ষয় কুমারের মাধ্যমেই তিনি এক ট্রেনার সঙ্গে পরিচিত হন। অক্ষয়ের দীর্ঘদিনের ট্রেনার জেনির সঙ্গে কাজ শুরু করেন ভূমি। সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি অক্ষয় স্যারকে বলেছিলাম, আমি তো জিম থেকে পালাই। তিনি হয়তো অবাক হয়েছিলেন, কিন্তু জেনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছিলেন।” এই পর্যায়টি ছিল তাঁর জীবনের এক নতুন, শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী অধ্যায়ের সূচনা।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অভ্যাসই ধীরে ধীরে চাপের রূপ নেয়। ভূমি জানান, একসময় তাঁর ওয়ার্কআউটের লক্ষ্য আর শুধু সুস্থ থাকা নয়, বরং নিজেকে প্রমাণ করা এবং অন্যের চোখে ‘পারফেক্ট’ হয়ে ওঠা। তিনি এক একটি সেশনে ১৩০০ থেকে ১৪০০ ক্যালোরি পর্যন্ত ঝরানোর চেষ্টা করতেন, যা শারীরিকভাবে অত্যন্ত কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। এই চরম মাত্রার ব্যায়াম মূলত শরীরের উপর এক ধরনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করত এবং মানসিক ভাবেও তাঁকে ক্লান্ত করে তুলত।
আরও পড়ুন: আলিবাগে আরও জমি কিনলেন বিরাট-অনুষ্কা, হলিডে হোম নাকি মেগা প্রজেক্ট?
ভূমির অভিজ্ঞতা আজকের সমাজের অনেক মানুষের সঙ্গেই মিলে যায়। ফিটনেস ট্র্যাকার, স্মার্টওয়াচ ও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ব্যায়াম এখন অনেক সময় এক ধরনের ‘প্রদর্শনী’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কত ক্যালোরি পোড়ানো হলো, কত ঘণ্টা জিমে থাকা গেল, কিংবা কতজন লাইক দিল, এসবই হয়ে উঠছে সফলতার মানদণ্ড। ফলে ব্যায়াম আর শুধু নিজের জন্য থাকে না, হয়ে ওঠে অন্যকে দেখানোর একটি মাধ্যম।
আরও পড়ুন: পুরনো শিক্ষায় নতুন ধাক্কা, নারীদের সম্মান জানানোর ভাষা বদলাচ্ছে! প্রশ্ন তুললেন মাধবন
তবে ভূমি এখন এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলেছেন। তিনি উপলব্ধি করেছেন, ফিটনেস মানে নিজেকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং নিজের যত্ন নেওয়া। শরীরের যত্ন নেওয়া, বিশ্রাম নেওয়া এবং মানসিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়াই আসল ফিটনেস। তাঁর এই স্বীকারোক্তি অনেকের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে উঠেছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us