Dharmendra-Padma Bibhushan: চিরবিদায়ের পর জাতীয় স্বীকৃতি, পদ্ম বিভূষণ পাচ্ছেন কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র, ফিরে দেখা যাক তাঁর স্বর্ণযুগ

Dharmendra-Padma Bibhushan: আজ খবর এসেছে, তিনি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান পদ্ম বিভূষণ পাচ্ছেন। তাঁর মরণোত্তর এই সম্মান ভক্তদের কাছে যেমন আনন্দের তেমন বিষাদের।

Dharmendra-Padma Bibhushan: আজ খবর এসেছে, তিনি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান পদ্ম বিভূষণ পাচ্ছেন। তাঁর মরণোত্তর এই সম্মান ভক্তদের কাছে যেমন আনন্দের তেমন বিষাদের।

author-image
Anurupa Chakraborty
New Update
Dharmendra-1762793928702

দেখে নেওয়া যাক তাঁর স্বর্ণযুগ ...

'বাসন্তী...' এই এক শব্দেই যেই অভিনেতার কথা সকলের মনে পরে যায়, তিনি আর কেউ নন, বরং প্রয়াত অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। মাস দুয়েক আগে তাঁর মৃত্যু হয়। ৮৯ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন তিনি। তাঁর মৃত্যু কাঁদিয়েছিল সকলকে। ইন্ডাস্ট্রির সকলেই শোকবার্তা জ্ঞাপনের সঙ্গে সঙ্গে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন। তবে, আজ খবর এসেছে, তিনি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান পদ্ম বিভূষণ পাচ্ছেন। তাঁর মরণোত্তর এই সম্মান ভক্তদের কাছে যেমন আনন্দের তেমন আনন্দের। দেখে নেওয়া যাক তাঁর জীবনদর্শন একঝলকে। 

Advertisment

ধর্মেন্দ্র ছিলেন একাধারে অসাধারণ অভিনেতা, সুদর্শন নায়ক এবং অনন্য মানবিক গুণাবলির অধিকারী মানুষ। তাঁর প্রতিটি চরিত্রে ছিল আকর্ষণ, গভীরতা এবং প্রাণবন্ততা। রোমান্টিক নায়ক থেকে অ্যাকশন হিরো, আবার সংবেদনশীল চরিত্র- সব ভূমিকাতেই তিনি ছিলেন অনবদ্য। তাঁর অভিনয়ের ছোঁয়ায় অসংখ্য দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছিলেন তিনি। শুধু অভিনয় নয়, তাঁর নম্রতা, সরলতা ও আন্তরিক আচরণও তাঁকে করে তুলেছিল সকলের প্রিয় মানুষ।

Dharmendra-Death-Hoax

অভিনেতা ও কেরিয়ার-উত্থানঃ 

১৯৩৫ সালে, পাঞ্জাবের এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ধর্মেন্দ্র। ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল বড় তারকা হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণে মুম্বাইয়ে পা রাখেন তিনি। ১৯৫৮ সালে ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিন ও বিমল রায় প্রোডাকশনের উদ্যোগে আয়োজিত, দেশব্যাপী প্রতিভা সন্ধান প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে, চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশের সুযোগ পান ধর্মেন্দ্র। এই প্রতিযোগিতাই পরবর্তীকালে, রাজেশ খান্নার মতো সুপারস্টারকে আবিষ্কার করেছিল।

Prosenjit Chatterjee: ‘মনের মানুষ’ থেকে ‘ভবানী পাঠক’, পদ্ম পুরস্কারে ভূষিত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়

১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন ধর্মেন্দ্র। প্রথম ছবি বাণিজ্যিকভাবে সফল না হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। এরপর একের পর এক ছবিতে কাজ করে নিজের জায়গা শক্তপোক্ত করেন। ‘শোলা অউর শবনম’, ‘অনপড়’, ‘বন্দিনী’-র মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৬৪ সালে ‘হকীকত’ ছবিতে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান। আর ১৯৬৬ সালে ‘ফুল অউর পাথর’ ছবির মাধ্যমে তিনি নিজেকে বলিউডের প্রথম সারির নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

এরপর শুরু হয় তাঁর স্বর্ণযুগ। ১৯৭০-এর দশকে ধর্মেন্দ্র ছিলেন বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সফল অভিনেতাদের একজন। ‘শোলে’ ছবিতে বীরু চরিত্রে তাঁর অভিনয়, আজও সিনেমাপ্রেমীদের কাছে আইকনিক। একইসঙ্গে ‘চুপকে চুপকে’-তে তাঁর কমেডি টাইমিং, ‘ইয়াদোঁ কি বারাত’-এ অ্যাকশন, ‘তুম হাসিন ম্যায় জওয়ান’, ‘শরাফত’, ‘মেরা নাম জোকার’-এর মতো ছবিতে তাঁর বৈচিত্র্যময় অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে।

Dharmendra Death News Today: Legendary Actor Dharmendra Dies at 89 ...

১৯৭৫ সালে ‘শোলে’ এবং ‘প্রতিজ্ঞা’-র মতো সুপারহিট ছবি দিয়ে তিনি ইতিহাস গড়েন। ১৯৭৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ধর্মবীর’ শুধু ভারতে নয়, বিদেশেও বিপুল সাফল্য পায়। সোভিয়েত ইউনিয়নে, প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ টিকিট বিক্রি হয়, যা তাঁর আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তার প্রমাণ। পরবর্তী সময়ে কিছুটা সাফল্যের গ্রাফ কমলেও ধর্মেন্দ্র নিয়মিত কাজ করে গেছেন। ‘শালিমার’, ‘আজাদ’, ‘দ্য বার্নিং ট্রেন’, ‘রাজপুত’, ‘লোহা’-র মতো ছবিতে স্মরণীয় অভিনয় করেন। ২০০০ সালের পর তিনি চরিত্রাভিনয়ে মনোনিবেশ করেন এবং ‘লাইফ ইন আ... মেট্রো’, ‘ওম শান্তি ওম’, ‘যমলা পাগলা দিওয়ানা’-র মতো ছবিতে, নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মন জয় করেন।

ফুচকা, খিচুড়ি আর আড্ডা: অনুরাগ বসুর সরস্বতী পুজোয় বাঙালি ছোঁয়ায় মুম্বই মাতাল

ব্যক্তিগত জীবনঃ 

ধর্মেন্দ্র ১৯৫৪ সালে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রকাশ কৌরকে বিয়ে করেন। তখনও তিনি চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেননি। এই দাম্পত্য জীবনেই তাঁদের চার সন্তান- দুই পুত্র সানি দেওল ও ববি দেওল এবং দুই কন্যা বিজেতা ও অজিতা জন্ম নেয়। পরবর্তীকালে বলিউডে প্রবেশ করে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করলেও, ধর্মেন্দ্রর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর, বরাবরই লাইমলাইটের আড়ালে থাকতে পছন্দ করেছেন। স্বামী সুপারস্টার হওয়া সত্ত্বেও, তিনি কখনওই গ্ল্যামারের জগতে নিজেকে জড়াননি, বরং একটি শান্ত, ব্যক্তিগত জীবন বেছে নিয়েছিলেন।

Dharmendra passes away: Dharmendra and Hema Malini on the set of Sholay. (Photo: Express Archives)

তবে সিনে দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে শীর্ষ অভিনেত্রী হেমা মালিনীর সম্পর্ক এবং পরবর্তী বিয়ে তৎকালীন সমাজে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। ১৯৮০ সালে তাঁদের বিবাহ ঘিরে তৈরি হয় নানা বিতর্ক। সেখানে তাঁর দুই সন্তান এশা এবং অহনা দেওল জন্ম নেয়। 

অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর মানবিকতা ও সাধারণ জীবনযাপন তাঁকে আরও সম্মান এনে দিয়েছিল। ২০১২ সালে তিনি ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ লাভ করেন। এছাড়াও বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন।

ধর্মেন্দ্র শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি একটি আবেগ, একটি যুগের প্রতীক। তাঁর অবদান ছাড়া হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। পর্দার বাইরে ও ভেতরে তাঁর উপস্থিতি, মানবিকতা ও প্রতিভা চিরকাল দর্শকদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে। আর এই সম্মান যেন আরও বেশি করে তাঁর সম্মান বাড়াল। 

Dharmendra Padma Award