/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/25/sonu-nigam-2026-01-25-16-39-22.jpg)
‘হ্যাঁ, জাভেদ স্যার একেবারে ঠিকই বলেছেন...'
একটি গান যখন শুধু সুরে নয়, আবেগে বেঁচে থাকে, তখন তাকে নতুন করে ছুঁতে গেলেই শুরু হয় বিতর্ক। ‘সন্দেশে আতে হ্যায়’ ঠিক তেমনই এক গান, যা ‘বর্ডার’ মানেই দর্শকের মনে প্রথম ভেসে ওঠা অনুভূতি। সেই গানকে ‘বর্ডার ২’ (Border 2)-এর জন্য নতুনভাবে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তে যেমন আলোড়ন ওঠে, তেমনই গীতিকার জাভেদ আখতারের সমালোচনা এবং তাঁর জবাবে সোনু নিগমের আবেগঘন বক্তব্য পুরো বিষয়টিকে জল্পনায় নিয়ে এসেছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ছবিটির জন্য তাঁকে গান লেখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর মতে, নতুন ছবি মানেই নতুন গান, নতুন ভাবনা এবং নতুন সৃষ্টির প্রয়োজন, এমনটাই তাঁর বিশ্বাস।
এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ‘সন্দেশে আতে হ্যায়’ গানটির নতুন সংস্করণে কণ্ঠ দেওয়া জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগম নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওর মাধ্যমে। সেখানে তিনি প্রথমেই জাভেদ আখতারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে বলেন, গীতিকার হিসেবে আখতার সাহেব তাঁদের গুরুজন ও শিক্ষকসম। তাঁর মতামতকে অস্বীকার না করে বরং তাঁর সঙ্গে এক ধরনের সহমত প্রকাশ করেন নিগম।
সোনু নিগম বলেন, ‘হ্যাঁ, জাভেদ স্যার একেবারে ঠিকই বলেছেন যে পুরনো গান ফিরিয়ে আনা ভালো নয়। আমাদের অবশ্যই নতুন গান তৈরি করা উচিত। কিন্তু ‘বর্ডার’ যদি একজন সৈনিক হয়, তাহলে ‘সন্দেশে আতে হ্যায়’ হল তার উর্দি। এই গানটি ছাড়া আমরা ‘বর্ডার’-কে কল্পনাই করতে পারি না।” এই তুলনার মধ্য দিয়েই তিনি বোঝাতে চান, গানটি কেবল একটি সৃষ্টিকর্ম নয়, বরং ‘বর্ডার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির আবেগ, স্মৃতি এবং পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তিনি আরও বলেন, দর্শকদের সঙ্গে এই গানটির একটি গভীর আবেগী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে ‘সন্দেশে আতে হ্যায়’ গানটি দেশপ্রেম, ত্যাগ এবং সৈনিকদের প্রতি সম্মানের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাই এই গানকে নতুন প্রজন্মের সামনে নতুন রূপে তুলে ধরাটা তাঁর কাছে স্রেফ পুনর্নির্মাণ নয়, বরং একটি আবেগী উত্তরাধিকার বহন করার মতো দায়িত্ব।
তবে একই সঙ্গে তিনি জাভেদ আখতারের বক্তব্যকে সম্মান জানিয়ে বলেন, ‘বর্ডার ২’-এ কেবল পুরনো গান নয়, নতুন গানও থাকবে, নতুন বার্তাও থাকবে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, “‘মিট্টি কে বেটে’ গানটি হলো ‘বর্ডার ২’-এর পক্ষ থেকে আমাদের সৈনিক এবং প্রত্যেক ভারতীয়ের জন্য একটি উপহার।” এর মাধ্যমে তিনি বোঝান, ছবিটি নতুন প্রজন্মের অনুভূতিকে ধরার চেষ্টা করছে, শুধু অতীতের আবেগে আটকে থাকছে না।
আরও পড়ুন: প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই সলমনের ‘মাতৃভূমি’ ছুঁয়ে গেল হৃদয়!
নিগম আরও স্মৃতিচারণা করেন ‘বর্ডার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা। তিনি বলেন, “আমি ১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো ‘বর্ডার’-এর প্রিমিয়ারে গিয়েছিলাম। আর এখন, ২০২৬ সালে, আমি ‘বর্ডার ২’-এর প্রিমিয়ারে দাঁড়িয়ে আছি। কখনো ভাবিনি এই যাত্রা এত দীর্ঘ হবে।” এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে তাঁর কৃতজ্ঞতা ও আবেগ।
আরও পড়ুন: ‘আমার কাছে মন্দির একটাই-যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়’, হোক কলরব মুক্তি পেতেই রাজ চক্রবর্তীকে আইনি নোটিশ
শেষে সোনু নিগম দর্শক ও শ্রোতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বছরের পর বছর ধরে যে ভালোবাসা ও সমর্থন তিনি পেয়েছেন, তা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। জাভেদ আখতারের মতো কিংবদন্তি গীতিকারের সমালোচনাকে তিনি বিরোধিতা হিসেবে নয়, বরং সৃজনশীল আলোচনার অংশ হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, পুরনো ও নতুন দুটোর সমন্বয়েই ‘বর্ডার ২’ দর্শকদের সুন্দর অভিজ্ঞতা দেবে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us