/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/celina-jaitly-peter-haag-1-2025-11-26-14-48-38.jpg)
কেন এত ভাবছেন তিনি?
অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি অবশেষে ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটাতে মুম্বইয়ের আন্ধেরি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। অস্ট্রিয়ান স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে তিনি গার্হস্থ্য সহিংসতা, মানসিক নির্যাতন এবং আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। আদালতে জমা দেওয়া ১৯৯ পাতার বিস্তৃত পিটিশনে সেলিনা তার দাম্পত্য জীবনের অন্ধকার অধ্যায় তুলে ধরেছেন।
যদিও সেলিনা ভারতের আদালতে আবেদন করেছেন, কিন্তু তার আগেই পিটার অস্ট্রিয়াতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছিলেন। সেলিনার আইনজীবী নীহারিকা করণজওয়ালা মিশ্র জানান, মুম্বই আদালত পিটারকে নোটিশ পাঠিয়েছে, যা ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তাদের কি সত্যিই প্রেম? শুভ-ঐশীর ক্যাপশনেই চড়ছে জল্পনার পারদ
সেলিনা তার পিটিশনে প্রতি মাসে ১০ লক্ষ টাকা ভরণপোষণ এবং ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এছাড়া একটি দেওয়ানি মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, যে পিটার চাপ দিয়ে তার মুম্বইয়ের ৩.৫ কোটি টাকার সম্পত্তি, নিজের নামে স্থানান্তর করাতে চেয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ভিয়েনায় যৌথভাবে কেনা সম্পত্তিটিও পিটার সেলিনাকে না জানিয়ে বিক্রি করে দিয়েছিলেন- যা জানার পরই সেলিনা আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন।
আইনজীবী জানান, পিটার দীর্ঘদিন ধরে সেলিনাকে আর্থিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার ক্রেডিট-ডেবিট কার্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন, আয়ের হিসেব জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হতেন। বিদেশে একের পর এক শহরে স্থানান্তরিত হন তাঁরা- দুবাই, সিঙ্গাপুর, আবার দুবাই, শেষপর্যন্ত অস্ট্রিয়ার একটি ছোট গ্রাম। সেখানে পিটার তাকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলেন এবং তার নথি-পাসপোর্ট নিজের কাছে লুকিয়ে রাখতেন। একদিন সুযোগ পেয়ে সেলিনা সেই নথির লুকোনো জায়গা খুঁজে পান। অবশেষে এক প্রতিবেশীর সাহায্যে, তিনি সন্তানদের ছেড়ে ভারতে ফিরে আসতে বাধ্য হন এবং আদালতের দ্বারস্থ হন।
Rukmini Maitra: চটে লাল রুক্মিণী! কে লাগাচ্ছে ‘পাত্র চাই’ পোস্টার? শহর জুড়ে চাঞ্চল্য
এদিকে পিটার অস্ট্রিয়ান আদালতে দাবি করছেন, যে তাঁদের বিবাহ ভাঙার জন্য সেলিনাই দায়ী এবং সম্পত্তির ওপর তার কোনও অধিকার নেই। তবে সেলিনা দাবি করেছেন- পিটার প্রথম থেকেই প্রতারণা করছিলেন। ২০১২ সালে সিঙ্গাপুরে থাকাকালীন সেলিনা তার ননদের কাছ থেকে জানতে পারেন, যে প্রেমের সময় পিটার নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিলেও, তিনি তখন পাঁচ বছরের একটি লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন।
বর্তমানে সেলিনার সবচেয়ে বড় চিন্তা তার তিন সন্তান। অস্ট্রিয়ান আদালত সম্প্রতি তাকে প্রতিদিন এক ঘণ্টা সন্তানদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার অনুমতি দিয়েছে। এর আগেও পিটার দীর্ঘদিন তাদের যোগাযোগ বন্ধ করে রেখেছিলেন। ন্যায়বিচারের আশায় এখন সেলিনা ভারতের আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us