/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/12/madhbi-biplab-2026-01-12-12-07-41.jpg)
দুই কিংবদন্তি শিল্পীর বাংলা সিনেমা দেখার আহ্বান
শীতের আমেজে রবিবার কলকাতা মেতে উঠেছিল এক অন্যরকম উৎসবে। বাংলার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ‘সিনেমার সমাবর্তন’ ২০২৬-এ এদিন ঘোষণা করা হল এবছরের সেরা সিনে-বিজয়ীদের নাম। অনুষ্ঠানটি শুধু পুরস্কার প্রদানেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল বাংলা সিনেমার ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার উদযাপন।
এবছরের থিম ছিল ‘বাংলার সিনেমার পর্দায় কালজয়ী নেগেটিভ চরিত্ররা’। সাধারণত নায়ক-নায়িকাদের নিয়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থাকে, কিন্তু এই বছর আলো পড়ল সেই সব চরিত্রের ওপর, যারা গল্পে দ্বন্দ্ব, উত্তেজনা ও গভীরতা এনে দিয়েছে।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতি পুরো পরিবেশকে করে তুলল আরও গৌরবময় ও স্মরণীয়। তাঁর আবির্ভাব মানেই যেন বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বর্ণযুগের ছোঁয়া। সাদা শাড়িতে সহজ-সরল অথচ আভিজাত্যে ভরা উপস্থিতিতে তিনি সকলের নজর কেড়ে নেন। ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে তাঁর হাসিমুখ, আন্তরিকতা ও আশীর্বাদ যেন এক অনন্য প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। তাঁর উপস্থিতি শুধু একটি অনুষ্ঠানকে নয়, পুরো প্রজন্মের কাছে বাংলা সিনেমার ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: গোল্ডেন গ্লোবে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া-নিক জোনাসের মিষ্টি মুহূর্ত
এই বিশেষ মুহূর্তে আরও এক আকর্ষণ হিসেবে একই ফ্রেমে দেখা যায় প্রবীণ অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়কে (Biplab Chaterjee)। তাঁর স্বভাবসুলভ প্রাণবন্ততা ও হাস্যরস অনুষ্ঠানস্থলে এনে দেয় আলাদা এক উষ্ণতা। মাধবী মুখোপাধ্যায় ও বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় দুই প্রজন্মের সেতুবন্ধন গড়া এই দুই শিল্পীর একসঙ্গে উপস্থিতি যেন বাংলা চলচ্চিত্রের দীর্ঘ যাত্রাপথের প্রতীক হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁরা দু’জনেই বর্তমান প্রজন্মকে বাংলা সিনেমা দেখার এবং তার সঙ্গে যুক্ত থাকার আহ্বান জানান। মাধবী মুখোপাধ্যায় বলেন, “বাংলা সিনেমা আমাদের সংস্কৃতির অংশ। এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে আমাদের ভাষা, আবেগ, সমাজ ও ইতিহাসের প্রতিফলন।” তিনি ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধ করেন, শুধু আধুনিক প্রযুক্তি বা বিদেশি কনটেন্টের দিকেই ঝুঁকে না থেকে, নিজেদের শিকড়কে চিনতে বাংলা সিনেমাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য।
বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ও একই সুরে বলেন, 'আজকের দিনে বাংলা সিনেমার দর্শক তৈরি হওয়া খুব জরুরি। নতুন প্রজন্ম যদি হলে গিয়ে বাংলা ছবি দেখে, তাহলে ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।' তাঁর মতে, দর্শকই হলেন শিল্পের আসল শক্তি, আর সেই শক্তি তৈরি করতে ছাত্রসমাজের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: দৌড়ঝাপের যুগেও অতীতকে আঁকড়ে বাঁচেন সোহিনী সেনগুপ্ত, তাঁর মতো বদ অভ্যেস কি আপনারও আছে?
এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁদের উপস্থিতি শুধু এক স্মরণীয় মুহূর্তই নয়, বরং একটি বার্তা বহন করল। বাংলা সিনেমা এখনও জীবন্ত, এখনও প্রাসঙ্গিক, আর তার উত্তরাধিকার বহন করার দায়িত্ব আজকের প্রজন্মের হাতেই।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us