/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/02/virat-2026-02-02-18-02-19.jpg)
কী এমন বললেন?
ক্রিকেট ও চলচ্চিত্র- ভারতীয় সমাজের এই দুই শক্তিশালী স্তম্ভ শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, আবেগ, জনপ্রিয়তা এবং অনুরাগেরও কেন্দ্রবিন্দু। দুই জগতের ভক্তসংখ্যা বিপুল, আর সেই কারণেই বহু সময়ে ক্রিকেটার ও অভিনেতাদের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এমনকি বৈবাহিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে। বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মার সম্পর্ক তার উজ্জ্বল উদাহরণ, যাঁরা ২০১৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এই দুই দুনিয়ার সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করেছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে, বিরাটের প্রাক্তন সতীর্থ হরভজন সিং ও এস শ্রীশান্ত মজার ছলেই, ক্রিকেটারদের সঙ্গে বলিউড তারকাদের তুলনা করেন। হরভজন, যিনি স্ত্রী গীতা বসরার সঙ্গে ইউটিউবে একটি ক্রিকেট শো পরিচালনা করেন, সেখানে অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন শ্রীশান্ত ও তাঁর স্ত্রী ভুবনেশ্বরী কুমারী। কথোপকথনের এক পর্যায়ে গীতা ও ভুবনেশ্বরী ক্রিকেটারদের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অভিনেতাদের মিল খুঁজতে বলেন।
আলোচনার শুরুতেই উঠে আসে রণবীর সিংয়ের নাম। খানিক হাসি-মজার পর দু’জনেই একমত হন যে ব্যক্তিত্বের দিক থেকে বিরাট কোহলিই রণবীরের সবচেয়ে কাছাকাছি। শ্রীশান্ত স্মৃতিচারণা করে বলেন, “বিরাট যখন ড্রেসিংরুমে আসত, সবসময় হাসিখুশি থাকত। তখন ওর ডাকনাম ছিল ‘চিকু’। ভাজি পা আর যুবি পা ওকে দিয়ে নানারকম মজা করাতেন। ও ছিল প্রাণবন্ত, সবসময় এনার্জিতে ভরা।”
এরপর রোহিত শর্মাকে তুলনা করা হয় অভিনেত্রী নিরূপা রায়ের সঙ্গে- ভুলে যাওয়ার স্বভাবের কারণে। শ্রীশান্ত মজা করে বলেন,
“রোহিত এমন মানুষ, যে নিজের ব্যাগই ভুলে যেতে পারে। এক-দু’বার হলে মানা যায়, কিন্তু প্রায়ই! একবার তো খবর পড়েছিলাম, বিমানবন্দরে গিয়ে ওর পাসপোর্টই নেই।”
অন্যান্য তুলনাগুলিও ছিল দারুণ চমকপ্রদ। শ্রীশান্ত নিজেকে তুলনা করেন নানা পাটেকরের সঙ্গে, হরভজনের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিল খোঁজা হয় জনি লিভারের। ভিভিএস লক্ষ্মণকে বলা হয় ‘মোগাম্বো’, কারণ হরভজনের কথায়, তিনি সবকিছুতেই খুশি থাকতে জানেন। রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে তুলনা টানা হয় অক্ষয় কুমারের- শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতার জন্য। “দ্রাবিড় সবার আগে ভোরে প্র্যাকটিসে আসতেন, একদম অক্ষয়ের মতো,” বলেন শ্রীশান্ত।
যুবরাজ সিং ও শাহরুখ খানের মিল খুঁজে পান দু’জনেই- জনপ্রিয়তা ও ক্যারিশমার কারণে। শচীন টেন্ডুলকারকে তুলনা করা হয় গব্বর সিংয়ের সঙ্গে। হরভজন বলেন, “শচীন ড্রেসিংরুমে ঢুকলেই সবাই চুপ করে যেত। সেটা ভয়ের জন্য নয়, ছিল নিখাদ সম্মান।”
সব মিলিয়ে, এই আলোচনা আরও একবার প্রমাণ করে দেয়— ক্রিকেট আর সিনেমা আলাদা হলেও, আবেগ আর ব্যক্তিত্বের জায়গায় তারা প্রায়ই একে অপরের প্রতিচ্ছবি।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us