Debolina Nandy: ‘ভাঙতে শিখিনি, ছাড়তেও চাইনি’, ৬৮টি ট্যাবলেট খেয়েও বেঁচে ফেরা দেবলীনা নন্দীর ভাঙা জীবনের স্বীকারোক্তি

‘আমি যদি ৩-৪ দিন পরপর কাজ থাকে সেটা নিয়ে বাড়িতে বিশাল বড় ইস্যু হয়ে যায় কারণ ছেলে একা থাকে। কিন্তু ছেলের যদি এক মাস বাইরে কাজ থাকে সেটা কোন সমস্যা নয়, কারণ সে ছেলে, তাঁর কাজ থাকতেই পারে।’

‘আমি যদি ৩-৪ দিন পরপর কাজ থাকে সেটা নিয়ে বাড়িতে বিশাল বড় ইস্যু হয়ে যায় কারণ ছেলে একা থাকে। কিন্তু ছেলের যদি এক মাস বাইরে কাজ থাকে সেটা কোন সমস্যা নয়, কারণ সে ছেলে, তাঁর কাজ থাকতেই পারে।’

author-image
Naikun Nessa
New Update
Debolina Nandy

'দুটো পরিবার' নিয়ে সুন্দর করে বাঁচতে ছেয়েছিলেন দেবলীনা!

'আমি সংসার করতে চেয়েছি, একটা বাচ্চা চেয়েছি, আমি দুটো পরিবার নিয়ে সুন্দর করে বাঁচতে চেয়েছি।’ কেন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন গায়িকা-অভিনেত্রী-ভ্লগার দেবলীনা নন্দী (Deblina nandi) তা নিয়ে অনেক কথাই জানালেন তিনি। দেবলীনা বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম প্রবাহ (দেবলীনার স্বামী) আমার সঙ্গে থাকতে থাকতে পাল্টে যাবে, কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায় হয়ে যায়। প্রবাহ যখন আমাকে একটু বেশি ভালোবাসে, আমাকে একটু বেশি গুরুত্ব দেয়। তখনই ওঁর মায়ের সঙ্গে ওঁর ঝামেলা শুরু হয়ে যায়।

Advertisment

আমি যে পথটা বেছে নিয়েছিলাম (Deblina suicide attempt) সেটা কোন সঠিক পথ নয়। কিন্তু আমার কাছে আর কোন রাস্তা ছিল না। দেবলীনা বললেন, সমস্যা হল ‘আমার যদি ৩-৪ দিন পরপর কাজ থাকে সেটা নিয়ে বাড়িতে বিশাল বড় সমস্যা হয়, কারণ বাড়িতে ছেলে একা থাকে। এদিকে ছেলের যদি এক মাস বাইরে কাজ থাকে সেটা কোন সমস্যা নয়, কারণ সে ছেলে, তাঁর কাজ থাকতেই পারে।’

'বিয়ের অষ্টমঙ্গলার পর থেকে তাঁর স্বামী প্রবাহ একটাদিনও তাঁর বাড়িতে যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। দেবলীনা বলেন, 'আমার বাড়িতে গেলে আমাকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে চলে যেত। আমাকে বলা হত মাকে ছেঁড়ে দাও, মাকে কি করে ছাড়ি বলুন তো? প্রবাহ যদি আমাকে বলত পৃথিবী ছেঁড়ে দাও। আমি  তাও ছেঁড়ে দিতাম। বিয়ের আগে যদি এই বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হত তাহলে হয়তো আমি বিয়েটা করতাম না।  

এদিকে প্রবাহের বক্তব্য আমি যেহেতু বৌমা আমকে ওঁর বাবার বাড়ির সামনে থেকে চলে যাওয়া যাবে না। আমাকে তাঁদের হাত-পা ধরতে হবে, তাঁদের সঙ্গে বিনয়ী হয়ে কথা বলতে হবে। এগুলো অনেক সময় আমি করেওছি শুধুমাত্র প্রবাহের জন্য।'

৬৮টি ট্যাবলেট খেয়ে কীভাবে বেঁচে গেলেন দেবলীনা?

দেবলীনা উত্তরে বলেন,'আমিও জানিনা আমি কি করে বেঁচে গেলাম। প্রথমে সাঁতরা গাছিতে ভর্তি ছিলাম। ঘুম ভাঙল যখন গলা ব্যথা, নাকে ব্যাথা এবং অনেকটা অবচেতন অবস্থা। তারপর আমাকে এসএসকেএম হাসপাতলে ভর্তি করা হয়। আমি শুধু চোখ খোলার পর থেকে ভেবে যাচ্ছি, প্রবাহ একবার এসে জিজ্ঞেস করুক আমি কেমন আছি? বা কি দকার ছিল এসব করার।'

এত কিছুর পর কেন সম্পর্কে ছিলেন তিনি? 

 এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'যারা বলছেন কেন আমি সম্পর্কটা থেকে বেরিয়ে এলাম না! তাঁদের বলব, আমি জানি না তোমরা কটা সম্পর্ক ছেড়েছ বা ভেঙেছ! আমি ভাঙতে বা ছাড়তে শিখিনি। সেটা আমি চাইওনি। আমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানিয়ে নিতে চেয়েছি।' 

দেবলিনা আরও জানিয়েছেন, তিনি সবসময় চেষ্টা করতেন বিষয়গুলো সামলাতে, কিন্তু একসময় মানসিকভাবে এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েন যে নিজেকে আর শক্ত রাখতে পারেননি। ক্রমাগত অপরাধবোধ, একা হয়ে যাওয়ার ভয়, এবং ‘আমি কারও জীবনের সমস্যার কারণ হয়ে যাচ্ছি’। এই ভাবনাগুলো তাঁকে আরও দুর্বল করে দেয়।

আরও পড়ুন: চারমিনারে গয়নার ‘খনি’ খুঁজে পেলেন স্বস্তিকা! বোনের সঙ্গে রঙিন মুহূর্ত

সম্পর্কের মধ্যে থেকেও তিনি নিজেকে ভীষণ একা অনুভব করছিলেন। কাউকে পুরো মনের কথা বলতে না পারা, বোঝা না পাওয়ার কষ্ট এবং নিজের অনুভূতিগুলোকে চেপে রাখার অভ্যাস থেকেই তাঁর ভেতরে এক ধরনের বিস্ফোরণ তৈরি হয়েছিল। সেই মানসিক অবস্থাতেই তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিনি জানান তিনি শুধুমাত্র তাঁর স্বামীকে পাশে চান, তাঁর আর কিছুই লাগবে না।

আরও পড়ুন: এত শীতের পোশাকে মুড়ে কোথায় ঋতাভরী? রহস্য ভাঙলেন ছাদে গিয়ে!

tollywood entertainment Tollywood Actress Entertainment News Today Debolina Nandy