/indian-express-bangla/media/media_files/2026/03/01/dipti-2026-03-01-17-29-19.jpg)
চেনেন?
ভারতীয় সিনেমার ঝলমলে আলোর আড়ালে, দীপ্তি নাভাল যেন বরাবরই এক অন্য সুর। আশির দশকের দর্শকের কাছে তিনি ছিলেন সেই চেনা “পাশের বাড়ির মেয়ে”- স্বচ্ছ, অনাড়ম্বর, মায়াবী হাসিতে ভরা। কিন্তু পর্দার বাইরের দীপ্তি আরও বহুমাত্রিক- অভিনেত্রী, চিত্রশিল্পী, কবি, ফটোগ্রাফার ও পরিচালক। তাঁর সাক্ষাৎকার, ব্যক্তিগত আখ্যান এবং ২০২২ সালের স্মৃতিকথা A Country Called Childhood এক স্বাধীনচেতা, গভীর সংবেদনশীল মানুষের প্রতিচ্ছবি আঁকে।
অমৃতসরের সরু গলিতে তাঁর শৈশব কেটেছে- এক শহর, যেখানে দেশভাগের স্মৃতি এখনও বাতাসে ভাসে। বাবা ছিলেন ইংরেজির অধ্যাপক, মা চিত্রশিল্পী ও শিক্ষিকা। মাত্র দশ বছর বয়সেই তিনি বুঝেছিলেন, তাঁর মন টানে পর্দার জগতে। কাশ্মীরকে ঘিরে চলচ্চিত্রের রোম্যান্টিক আবেশ তাঁকে এতটাই আলোড়িত করেছিল যে তেরো বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সাহসও দেখান। পরে তিনি স্মৃতিচারণায় বলেন, “আমার মাথায় সেই গানগুলি এতটাই ভরা ছিল, যে মনে হয়েছিল আমাকে কাশ্মীরে যেতেই হবে। সত্যিই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম। তবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারিনি; রাতে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দু’একটা চড় খেয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছিল।”
১৯৭১ সালে বাবার একাডেমিক নিয়োগে পরিবার পাড়ি দেয় নিউ ইয়র্কে। সেখানে তিনি চারুকলা, মনোবিজ্ঞান ও জ্যোতিষশাস্ত্র পড়েন। পড়াশোনা শেষ করে তবেই সাহস করে জানান, অভিনয়ই তাঁর লক্ষ্য। “এর আগে বিষয়টা তোলার সাহসই পাইনি,” স্বীকার করেন তিনি। নিউ ইয়র্কের জিন ফ্রাঙ্কেল ইনস্টিটিউটে টেলিভিশন ও ক্যামেরা নিয়ে পড়াশোনা করেন, ছাত্রাবস্থায় রেডিও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এবং রাজ কাপুর ও দিলীপ কুমারের মতো কিংবদন্তিদের সাক্ষাৎকার নেন- একটি মাইক আর টেপ রেকর্ডারই ছিল সম্বল।
Vishnu Manchu: “প্রচণ্ড অভিঘাতে কেঁপে উঠল বাড়ি”, মেয়েকে নিয়ে ভয়ের মুহূর্তে বিষ্ণু
ভারতে ফিরে মুম্বইয়ে শুরু হয় সংগ্রাম। “পরিবারকে কিছু বলিনি; শুধু লড়াই শুরু করেছিলাম,” বলেন দীপ্তি। রাজশ্রী ফিল্মস থেকে শুরু করে বসু চট্টোপাধ্যায় ও হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে পরিচয়- ক্রমে সুযোগ আসে। সাই পরাঞ্জপের চশমে বুদ্দুর তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে। সাথ সাথ, কথা, অঙ্গুর- মধ্যবিত্ত বাস্তবতার সহজ, আন্তরিক মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। তবে তাঁর উপলব্ধি ছিল স্পষ্ট: “শুরুটা সহজ ছিল, লড়াইটা পরে- যখন সাফল্য ধরে রাখতে হয়।”
প্রকাশ ঝার সঙ্গে বিবাহ তাঁর জীবনে নতুন অধ্যায় খুললেও, ইন্ডাস্ট্রির মানসিকতা ছিল নির্মম। “তখনও ধারণা ছিল- নায়িকাকে বিয়ে করলে কেরিয়ার শেষ,” বলেন তিনি। কাজের অভাব, দাম্পত্যের টানাপোড়েন এবং অবশেষে বিচ্ছেদ- সব মিলিয়ে এক অন্ধকার সময় পেরিয়েছেন। “বিয়ে ঠিকমতো কাজ করছিল না। একসময় আমাদের মধ্যে যোগাযোগই ভেঙে পড়েছিল,” স্মরণ করেন দীপ্তি। গভীর হতাশার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন তিনি, যা মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী হিসেবে নিজেই চিনতে পেরেছিলেন।
Zaher Alvi-Bangladesh: জাহের আলভীর স্ত্রীর রহস্যমৃত্যুতে তোলপাড় শোবিজ, উঠছে একের পর এক অভিযোগ
পরে বিনোদ পণ্ডিতের সঙ্গে সম্পর্ক তাঁর জীবনে সৃজনশীল পুনর্জাগরণ আনে। “বিনোদ আমার মধ্যে থেকে, সেরাটা বের করে এনেছিল,” বলেন তিনি। চিত্রপ্রদর্শনী, ফটোগ্রাফি, লেখালেখি- সবকিছুতে নতুন উদ্যম পান। পাহাড়ে ভ্রমণ, শিল্পচর্চা- তাঁদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্ব ও প্রেমের মেলবন্ধন। তবে ক্যান্সারে বিনোদের অকালমৃত্যু সেই অধ্যায় সংক্ষিপ্ত করে দেয়।
আজও দীপ্তি নাভাল শুধু অভিনেত্রী নন; তিনি এক সৃষ্টিশীল মানুষ, যিনি অভিনয়, চিত্রকলা, ফটোগ্রাফি ও লেখালেখির মাধ্যমে নিজের ভুবন নির্মাণ করে চলেছেন। তাঁর জীবন যেন প্রমাণ করে- সিনেমার বাইরেও এক শিল্পীর গল্প বহুমাত্রিক, গভীর এবং অসম্ভব মানবিক।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us