Dev-Karimul Haque Exclusive: দেবের ৫০তম ছবিতে বাস্তবের নায়ক, করিমুল কী শিক্ষা দিলেন অভিনেতাকে?

এই মানুষটি দেশের অন্যতম সম্মাননা পদ্মশ্রী পেয়েছিলেন, বাংলার আরেক সন্তান এবং রাজনীতিবিদ, যিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, প্রণববাবুর কাছ থেকে। স্মৃতিচারণ করে করিমুল বাবু বললেন, প্রণব বাবু আমায় বলেছিলেন, "একজন বাঙালিকে পদ্মশ্রী পুরস্কার দিতে পেরে আমি খুব আনন্দিত।"

এই মানুষটি দেশের অন্যতম সম্মাননা পদ্মশ্রী পেয়েছিলেন, বাংলার আরেক সন্তান এবং রাজনীতিবিদ, যিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, প্রণববাবুর কাছ থেকে। স্মৃতিচারণ করে করিমুল বাবু বললেন, প্রণব বাবু আমায় বলেছিলেন, "একজন বাঙালিকে পদ্মশ্রী পুরস্কার দিতে পেরে আমি খুব আনন্দিত।"

author-image
Anurupa Chakraborty
New Update
601441752_25837371045887038_6026990882158418932_n

Dev50: দেবকে নিয়ে কী বলছেন করিমুল?

দেখতে দেখতে এতগুলো বছর পার। যেমন অভিজ্ঞতা বেড়েছে ঠিক তেমনই বেড়েছে ভুল বোঝার মানুষ। বেড়েছে হাজারো ষড়যন্ত্র। তাঁকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলেছে নানা সময়। কিন্তু তাঁর নামের সঙ্গেই রয়েছে অগণিত মানুষের ভালবাসা, তাঁর নাম যে দেব। তিনি বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভাবেন। তিনি সিনেমাকে সঙ্গে নিয়ে বাঁচেন। আর এবার, নিজের ৫০তম ছবি নিয়ে বেশ বড় মাপের এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফেলেছেন। 

Advertisment

ছবির নাম #BAD- বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা। এমন একজন মানুষকে নিয়ে দেব ছবি বানাচ্ছেন যিনি বাংলার গর্ব। তিনি পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপ্ত সমাজসেবী করিমুল হক। উত্তরবঙ্গের এই মানুষটি যেন ভগবান তুল্য। তিনি নিজের বাইকটিকে কাজে লাগিয়ে, প্রচুর মানুষকে নিয়ে গিয়েছেন হাসপাতালে। তাঁর সেবায় সেরে উঠেছেন অনেক মানুষ। তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাঁর জীবনী সাপেক্ষে দেব ছবি তৈরি করছেন, বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদার মনের অনুভূতি জানতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা যোগাযোগ করেছিল তাঁর সঙ্গে। 

যখন তাঁর সঙ্গে কথা হচ্ছে, নিজের শান্তির নীড়ে দাঁড়িয়ে তক্ষণ মুহূর্ত উপভোগ করছেন তিনি। করিমুল সাহেবের কথায়, আমার মা মারা গিয়েছেন ২৬বছর আগে। সেদিন থেকে আমার মনে হয়েছিল, আর কোনও মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় চলে না যায়। ভাবিনি পদ্মশ্রী পাব। ভাবিনি আমার বায়োপিক হবে। আমি কাজ করে গিয়েছি, এখনও যাচ্ছি। আমি খুব খুশি যে দেব আমায় নিয়ে ছবি করছে। বাঙালি হিসেবে এটা আমার কাছে খুব গর্বের। উত্তরবঙ্গের কারওর জীবনী নিয়ে কাজ হয়নি। আমার এই জীবনীর মধ্যে দিয়ে যেন অনেক ছেলেমেয়েরা কিছু শিখতে পারে। যারা বাবা-মাকে অবহেলা করে, তাঁরা যেন তাঁদের কদর করে। আমি খুশি এখানেই যে, হয়তো কিছু এমন করেছি যে মানুষ এবং গোটা দেশ আমায় ভালবাসা দিচ্ছে।"

এই মানুষটি দেশের অন্যতম সম্মাননা পদ্মশ্রী পেয়েছিলেন, বাংলার আরেক সন্তান এবং রাজনীতিবিদ, যিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, প্রণববাবুর কাছ থেকে। স্মৃতিচারণ করে করিমুল বাবু বললেন, প্রণব বাবু আমায় বলেছিলেন, একজন বাঙালিকে পদ্মশ্রী পুরস্কার দিতে পেরে আমি খুব আনন্দিত।" কথোপকথনের বেশিরভাগ সময়ে নিজেকে স্বল্পশিক্ষিত হিসেবে ঘোষণা করলেও, দেবের প্রশংসা করতে ভুল হল না। বাংলার মেগাস্টারকে নিয়ে তিনি বললেন...

ও আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট। কিন্তু, দেবের সঙ্গে কথা বলে আমি এটুকু বুঝেছি, ও খুব ভাল মানুষ। আমি ওকে দেখে এটাই বলেছিলাম তুমি খুব মিষ্টি। তোমার হাসি খুব মিষ্টি, তোমায় আমি খুব স্নেহ করি। শিক্ষায় ও আমার থেকে বড়, যোগ্যতায় বড়। কিন্তু, আমি ওকে বলেছি এটাই যে জীবনে অনেক কিছু হবে, কিন্তু তোমার বাবা-মাকে আমার স্যালুট। উনারা তোমায় বড় করেছেন। দেব আমার এই কথা শুনে দু-হাত জোড় করে আমায় নমস্কার জানালেন। আমি এটাই বললাম, বাবা-মাকে ছেড়ো না। ও আমায় ওর বাবা-মায়ের কাছে আমায় নিয়ে যাবেই। তুমি রেগে যাও না দেব, এটাই তোমার গুণ। শুধু সকলকে সম্মান করো, আরও এগিয়ে যাবে। ও আমায় জড়িয়ে ধরেছে এসব শুনে। তবে, এরপরের বার আমি যাবই ওর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে।" 

প্রসঙ্গে, করিমুল সাহেব আরও জানান, এই বাংলাই তাঁর সব। উত্তর দক্ষিণে কোনও ভাগ নেই। এই বাংলার মানুষ তাঁর আপন। এক বাঙালির কাছ থেকে তিনি পদ্মশ্রী পেয়েছেন। আরেক বাঙালি তাঁর গল্পকে সিনে-পর্দায় তুলে ধরবেন, এর থেকে আনন্দের কিছুই নেই তাঁর কাছে। 

Dev Entertainment News Entertainment News Today