মুসলিম হয়েও পশুপতিনাথ মন্দিরে বিশেষ অনুমতি পান নায়িকারা! এই সিনেমার গল্প বদলাতে বাধ্য হন দেব আনন্দ?

দেব আনন্দের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোহন চুরিওয়ালা জানান, গ্যাম্বলার ছবিতে নায়িকা হওয়ার পর, জাহিদা পর্দায় দেব আনন্দের বোনের চরিত্রে অভিনয় করতে চাননি। পরিচালক অমরজিৎ তাকে বোঝান যে একই সময়ে নায়িকা ও বোন- এই দুই ভূমিকায়....

দেব আনন্দের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোহন চুরিওয়ালা জানান, গ্যাম্বলার ছবিতে নায়িকা হওয়ার পর, জাহিদা পর্দায় দেব আনন্দের বোনের চরিত্রে অভিনয় করতে চাননি। পরিচালক অমরজিৎ তাকে বোঝান যে একই সময়ে নায়িকা ও বোন- এই দুই ভূমিকায়....

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
hare-rama-hare-krishna

কী হয়েছিল?

হরে রামা হরে কৃষ্ণ, দেব আনন্দের ক্যারিয়ারের অন্যতম আইকনিক সিনেমা, যা ১৯৭২ সালে মুক্তির পর পরই, এক সাংস্কৃতিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ছবিটি শুধু দেব আনন্দকেই নয়, অভিনেত্রী জিনাত আমানকেও রাতারাতি তারকা করে তুলেছিল। বিশেষত গান, 'দম মারো দম' আজও জিনাতের পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। তবে খুব কম মানুষই জানেন যে জিনাত এই চরিত্রের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। প্রাথমিকভাবে এই চরিত্রের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল অভিনেত্রী জাহিদাকে, যিনি তখন দেব আনন্দের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেও গুঞ্জন ছিল।

Advertisment

দেব আনন্দের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোহন চুরিওয়ালা জানান, গ্যাম্বলার ছবিতে নায়িকা হওয়ার পর, জাহিদা পর্দায় দেব আনন্দের বোনের চরিত্রে অভিনয় করতে চাননি। পরিচালক অমরজিৎ তাকে বোঝান যে একই সময়ে নায়িকা ও বোন- এই দুই ভূমিকায় পর্দায় দেখা গেলে গ্যাম্বলার–এর বাণিজ্যিক ক্ষতি হতে পারে। ফলে জাহিদা নিজেই সেই চরিত্র ফিরিয়ে দেন এবং সেই সুযোগ পান জিনাত আমান। এই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

Shaan-KK Death: কেকে-র মৃত্যু থমকে দেয় শানকে, তারপরেই তড়িঘড়ি এই কাজ করেছিলেন গায়ক!

মোহন আরও জানান, যে ছবিটির প্রথম গল্প শুনে কিংবদন্তি সুরকার এস. ডি. বর্মণ সংগীত রচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। মূল গল্পের কাঠামোতে দেব আনন্দ ও নারী চরিত্রের মধ্যে সম্পর্কের সূক্ষ্ম অসঙ্গতি ইঙ্গিত করা হয়েছিল, যা এস ডি সাহেবকে রীতিমতো বিস্মিত করেছিল। তিনি দেব আনন্দকে পরামর্শ দেন, গল্পটি পরিবর্তন না করলে তিনি মিউজিক করবেন না। দেব আনন্দ, গল্প কিছুটা সংশোধন করেন এবং ভাই–বোনের সম্পর্কের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করেন। তবুও এস. ডি. বর্মণ মনে করেন ছবিটি আধুনিক ছন্দ চাই এবং শেষ পর্যন্ত তিনি দেবকে পরামর্শ দেন তার ছেলে আর. ডি. বর্মণকে নেওয়ার জন্য- যা প্রমাণিত হয় এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে।

Hema Malini: '৬০ বছরে এমন অব্যবস্থা', হেমার সামনেই ক্ষোভ বৃদ্ধর, রেগে কাঁই ড্রিমগার্ল নিজেও

চুরিওয়ালা আরেকটি দৃশ্য–পিছনের গল্প শোনান। নেপালের পশুপতিনাথ মন্দিরে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা। মন্দিরে হিন্দু ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশাধিকার ছিল না, অথচ ছবিতে কাজ করছিলেন জিনাত আমান, মুমতাজ ও ফালি মিস্ত্রি- তিনজনই মুসলিম শিল্পী। কিন্তু রাজা মহেন্দ্র, ব্যক্তিগত অনুমতি দিয়ে শুটিংয়ের জন্য মন্দির খুলে দেন এবং মন্দির কর্তৃপক্ষ বিশেষ ছাড় দেয়। সেই বিশেষ অনুমতিতেই হয় ছবির গুরুত্বপূর্ণ বিয়ের দৃশ্য।

কথোপকথনে মোহন জানান যে রাজ কাপুর গাইড দেখার পর, গভীর ভাবে আপ্লুত হয়ে দেব আনন্দকে ভোর ছ’টায় ফোন করেছিলেন। তিনি ছবির দৃষ্টিনন্দন নির্মাণ ও বিজয় আনন্দের দক্ষতার এমন প্রশংসা করেছিলেন যে দেব এবং রাজ দু’জনেই ফোনে কেঁদে ফেলেছিলেন।

Dev Anand Zeenat Aman Entertainment News Today