Projapoti 2 Review: জয়-গুরু..! পান্তা ভাতেই মিশল বাপ-ব্যাটার প্রেম, কেমন হল 'প্রজাপতি ২'?

Projapoti 2 Review: আজ বাংলা সিনেমা দেখায় বাবার সঙ্গে তাঁর সন্তানের এমন এক দৃঢ় বন্ধন - যা দর্শককে ভাবাবে। অন্তত, দেবের প্রজাপতি ২ ঠিক সেরকমই এক গল্প।

Projapoti 2 Review: আজ বাংলা সিনেমা দেখায় বাবার সঙ্গে তাঁর সন্তানের এমন এক দৃঢ় বন্ধন - যা দর্শককে ভাবাবে। অন্তত, দেবের প্রজাপতি ২ ঠিক সেরকমই এক গল্প।

author-image
Anurupa Chakraborty
New Update
dev

কেমন হল প্রজাপতি ২?

বাংলা সিনেমা তখনও সম্পর্কের গল্প বলতো, এখনো সম্পর্কের গল্প বলে - তবে এখন সেই গল্পের ধরণ আজ ভিন্ন। গরিব ছেলের বড়লোক মেয়েকে বিয়ে করার প্ল্যানিং প্লটিং আজ অতীত। আজ বাংলা সিনেমা দেখায় বাবার সঙ্গে তাঁর সন্তানের এমন এক দৃঢ় বন্ধন - যা দর্শককে ভাবাবে। অন্তত, দেবের প্রজাপতি ২ ঠিক সেরকমই এক গল্প। একেবারেই প্রজাপতির সঙ্গে এই ছবির কোনও মিল নেই। 

Advertisment

ছবিতে দেব এবং মিঠুনের যুগলবন্দী দেখলে - জয়গুরু বলতেই হয়। এক বাবা তাঁর ছেলেকে আনন্দে দেখতে, জীবনের ক্রনিক কষ্ট থেকে তাঁকে দূরে সরিয়ে রাখতে, এমনকি যখন যেভাবে একজন বাবা তাঁর সন্তানের বিপদে রুখে দাঁড়াতে পারে, প্রজাপতি ২ যেন ঠিক সেটাই। এখানে আগের প্রজাপতি ছবির মত বাবার বিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ নেই। বরং, বাবা তাঁর ছেলেকে জীবনের নানা অধ্যায়ে এগিয়ে দিতেই পাড়ি দিয়েছেন ভারত থেকে লন্ডন। ছবিতে মুখ্য ভূমিকা দুজনের - গৌর চক্রবর্তী ( মিঠুন চক্রবর্তী ) এবং জয় চক্রবর্তী ( দেব )। এই বাবা ছেলে নিজেদের কেরামতিতে লন্ডনের মানুষের মন জয় করে নিলেন। দুজনের মধ্যে মিল আছে বেশ - রান্নার সঙ্গে দুজনের আত্মার টান। একজন দেশে হোটেল চালান, অন্যজন বিদেশে রান্না করেন। 

Tu Meri Main Tera Main Tera Tu Meri movie review: নব্বইয়ের ফর্মুলায় আধুনিক প্রেম- হোঁচট খেল ‘তু মেরি ম্যায় তেরা’, পড়ুন রিভিউ

যদিও স্টোরি একটু আনফোল্ড হতেই জানা যায়, জয়ের সহ্ধর্মিনি অর্থাৎ শ্রী ( ইধিকা ) সন্তান জন্ম দিতে গিয়েই মারা যান। সেই থেকে নিজের জেদ আর মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়েই শুরু লড়াই। এদিকে জয়ের সহকর্মী পেস্ট্রি শেফ মধু ( জ্যোতির্ময়ী ) কে ছেলের জীবনের নতুন সংযোজন হিসেবে বেশ মনে ধরে গৌরের। তাঁর বিয়ের বাজনা বাজাতেই লন্ডনে হাজির হন তিনি। তবে, ভুললে চলবে না, গৌর বাবুর দুই মানব সন্তান ছাড়াও, তাঁর নিজের রক্তজলে বানানো বাড়িটিও তাঁর আরেক সন্তান। তাঁকে সেভাবেই স্নেহ করেন তিনি। এদিকে, গোটা সিনেমা জুড়ে আবারও নজর এসেছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের নানা আলোচনা। ভারত বাংলাদেশের যে কোল্ড ওয়ার এখন হট ওয়াটারে পরিণত হয়েছে, তাঁর বেশ ঝলক মিলেছে। 

বাংলাদেশের এক নাগরিক যিনি জয়ের সিনিয়র বস সেই ভূমিকায় রয়েছেন অনির্বাণ চক্রবর্তী। দুই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি একেবারেই নজর এড়ানোর নয়। আর এই ছবিতেও একে অপরকে যেভাবে ঠোকাঠুকি চলেছে, কিংবা দেবের সংলাপ - দুটো দেশ শুধু ধর্ম বিবাদ করে বাঙালি জাতিটাকে উঠতে দিল না... দর্শকের গায়ে যেমন জ্বালা ধরবে তেমন মিটবেও। তবে, ছবির দ্বিতীয় ভাগ একেবারেই টুইস্টেড। ছেলের দিকে তাঁকিয়ে যেমন গৌর নিজের সর্বস্ব ছাড়লেন। ঠিক তেমনই বাবাকে সবটা ফিরিয়ে দিতে ছেলে নিজের অপমানের তোয়াক্কাই করল না। তবে, পরিচালক যে ভিন্ন ভিন্ন দৃশ্যে দর্শককে ইমোশনাল করে তুলবেন, তা বলতেই হয়। পরিবারের জন্য সময় থাকতেই যা করার করতে হয়। ক্লাইম্যাক্স অনেক কিছুই শেখাবে। কিন্তু... প্রতিটা মানুষের যে দাঁত থাকতে দাঁতের মূল্য দেওয়া উচিত, সেকথা এই ছবির পরতে পরতে প্রমাণিত। 

আশা যাক অভিনেতাদের প্রসঙ্গে। দেব আগের চেয়ে অনেক পরিণত। তাঁর এই চরিত্রটি বেশ গভীরতায় ভর্তি, আবার প্রয়োজনে মেয়ের সঙ্গে সে একেবারেই শিশু। ট্রানজিশন বেশ ভাল বদল করেছেন দেব। মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। অভিজ্ঞতাই যেন তাঁর এই অভিনয়ের আসল রহস্য। যার কথা না বললেই নয়, তিনি অনির্বাণ চক্রবর্তী। যেমন স্পষ্ট তাঁর বাঙাল ভাষা ঠিক তেমনই ছোটখাটো ভিলেন হিসেবে তিনি হান্ড্রেড মার্কস পেয়েছেন। ছবির আরেক মুখ্য চরিত্র অনুমেঘা অর্থাৎ দেবের ছোট্ট কন্যে, একরত্তি বেশ সাবলীল সকলের মাঝে। রয়েছেন শকুন্তলা বড়ুয়া, খরাজ মুখোপাধ্যায় এবং অপরাজিতা আধ্যও। জুটি হিসেবে খরাজ এবং অপরাজিতা - আবারও তুলকালাম। 

সব মিলিয়ে, এই ছবি অর্থাৎ প্রজাপতি ২ - যেমন মজাদার তেমনই দুর্দান্ত কমিক ডেন্ড দেখিয়েছেন অভিনেতারা এবং তাঁর সঙ্গে সঙ্গে সোসাইটি ও পরিবারের প্রতি যে সকলের কতটা কর্তব্য সেও প্রমাণ করেছে। 

ছবির নাম: প্রজাপতি ২ 
পরিচালক: অভিজিৎ সেন 
অভিনয়ে: দেব, মিঠুন চক্রবর্তী, শকুন্তলা বড়ুয়া, অপরাজিতা আধ্য, ইধিকা পাল, জ্যোতির্ময়ী কুন্ডু, অনুমেঘা কাহালি এবং অন্যান্য। 
রেটিং: ৪/৫

Dev Bangla Movie Review