/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/18/dev-2026-01-18-17-47-37.jpeg)
ডাকটিকিটে দেব?
রুপোলি পর্দা থেকে সংসদের মঞ্চ, এবার ভারতের ডাক টিকিটেও নিজের মুখ দেখে আবেগে ভাসলেন অভিনেতা ও সাংসদ দেব (Dev)। তাঁর মুখ এবার শোভা পাচ্ছে ভারতীয় ডাক বিভাগের প্রকাশিত বিশেষ পোস্ট স্ট্যাম্পে। শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় সেই ডাক টিকিটের ছবি শেয়ার করে খুশির খবর ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন দেব।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেবের শেয়ার করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ট্রেনের ইঞ্জিনের পাশে উজ্জ্বলভাবে জায়গা করে নিয়েছে দেবের মুখ। মুহূর্তের মধ্যেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়, উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন তাঁর অনুরাগীরা। এই বিশেষ স্বীকৃতিতে আবেগপ্রবণ দেব ভারতীয় ডাক বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমি ভীষণভাবে সম্মানিত এবং অভিভূত। আমার নামে ডাক টিকিট চালু করার জন্য ইন্ডিয়া পোস্টকে আন্তরিক ধন্যবাদ।” তিনি আরও জানান, এমন সম্মান তাঁর কল্পনারও বাইরে ছিল।
তবে এই বিষয়টি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা ও বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় অরিত্র দত্ত বণিক লেখেন, দেবের পেজে পোস্ট দেখে তাঁর প্রথমেই সন্দেহ হয়। কারণ স্ট্যাম্পে কোথাও টাকার ডিনমিনেশন লেখা ছিল না, যা সাধারণত সরকারি ডাক টিকিটে অবশ্যই থাকে। এরপর তিনি পোস্টালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে যাচাই করেন, কিন্তু সেখানেও এই স্ট্যাম্পের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ভারতীয় ডাক বিভাগ ‘My Stamp’ নামে একটি বিশেষ এনগেজমেন্ট কার্যক্রম চালায়। এই ব্যবস্থায় যে কোনো নাগরিক প্রায় ৩০০ টাকা খরচ করে নিজের ছবি দিয়ে একটি ব্যক্তিগতকৃত স্ট্যাম্প প্রিন্ট করাতে পারেন। এটি মূলত সেলফি বুথের মতো একটি উদ্যোগ, যার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে ডাক বিভাগের প্রতি আকৃষ্ট করা। এটি কোনো সরকারি কমেমোরেটিভ বা জাতীয় সম্মানসূচক ডাক টিকিট নয়।
অরিত্র আরও লেখেন, খবরটি জানার পর তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন সাংবাদিকের মাধ্যমে দেবের কাছে বিষয়টি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন, যাতে পোস্টটি সংশোধন করা যায়। তাঁর ধারণা, দেবের কোনো অনুগামী ভালোবাসা থেকেই এই সিরিজে দেবের ছবি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু ভুলবশত দেবের কাছে তথ্য পৌঁছেছে যে এটি একটি সরকারি কমেমোরেটিভ স্ট্যাম্প, যা আসলে সঠিক নয়।
ভারতীয় ডাক টিকিটের ইতিহাস
ভারতীয় ডাক টিকিটের ইতিহাস শুধুমাত্র চিঠি পাঠানোর মাধ্যম নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৫৪ সালে ভারতে প্রথম ডাক টিকিট চালু হয়। এই টিকিটে ছিল রানি ভিক্টোরিয়ার ছবি। এর মাধ্যমে ভারতে আধুনিক ডাক ব্যবস্থার সূচনা হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ রাজা ও রানিদের ছবি ডাক টিকিটে স্থান পায়, যেমন রাজা জর্জ পঞ্চম ও জর্জ ষষ্ঠ।
আরও পড়ুন: আজও রহস্য জনপ্রিয়তার শিখরে থাকা মহুয়ার মৃত্যু, দেবলীনার কণ্ঠে পাবে নতুন ভাষা!
১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারত নিজের পরিচয়ে ডাক টিকিট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়। স্বাধীন ভারতের প্রথম ডাক টিকিটে মহাত্মা গান্ধীর ছবি ছিল। এই টিকিটটি দেশের স্বাধীনতা ও জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেয়।
এরপর থেকে ভারতীয় ডাক টিকিটে স্থান পেতে শুরু করে নানা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, যেমন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জওহরলাল নেহরু, ড. বি. আর. আম্বেদকরসহ বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী, কবি, শিল্পী ও বিজ্ঞানী। চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতে লতা মঙ্গেশকর, সত্যজিৎ রায়ের মতো কিংবদন্তিরা ডাকটিকিটে জায়গা পেয়েছেন। এইসব ডাকটিকিট আজ সংস্কৃতি ও গৌরবের মূল্যবান স্মারক।
আরও পড়ুন: বলিউডে সাম্প্রদায়িকতার ছায়া? এ আর রহমানের মন্তব্যে বিতর্কের ঝড়


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us