/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/11/dhar1-2025-11-11-15-59-35.jpeg)
আদৌ কতটা চেনেন ধর্মেন্দ্রকে...? গ্রাফিক্স- সন্দীপন দে
Dharmendra 'The Bollywood He-man': এদেশে সত্যিটা যত তাড়াতাড়ি পৌঁছই তার থেকে দ্রুত পৌঁছই মানুষের কাছে গুজব। “এক এক কো চুন চুনকে মারুঙ্গা এর ডায়লগটার সঙ্গে অনেকেই পরিচিত”, আলাদা করে এই ডায়লগ এর ব্যাখ্যা করার কোন প্রয়োজন পড়ে না।
‘ধর্মেন্দ্র’, বলিউডের এক অন্যতম জনপ্রিয় নাম। রূপলি পর্দার হিরো ‘হি-ম্যান’। রোমান্স টু অ্যাকশন সব চরিত্রেই অনবদ্য। ছবির চিত্রনাট্য যেমনই হোক না কেন চরিত্র সব নিংড়ে নিতেন অভিনেতা। পর্দার এই বলশালী হিরো এখন অভিনয় করছেন জীবনের সবথেকে কঠিন এক মুহূর্তে। লড়াই করছেন প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে। চিত্রনাট্য লিখছেন ভগবান। অসুস্থতার পর থেকেই একের পর এক গুজব। পরিবারের তরফ থেকেও অনুরোধ করা হয়েছে যাতে ভুল কোন তথ্য দেওয়া না হয় অভিনেতাকে নিয়ে।
Dharmendra Health Updates: ভক্তদের প্রার্থনা-ই কামাল করল? চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন ধর্মেন্দ্র..
ষাটের দশকের হাসিখুশি প্রেমিক থেকে সত্তরের দশকের ‘অ্যাকশন কিং’, জীবনের প্রতিটি অধ্যায়েই তিনি প্রমাণ করেছেন, বিপদে পিছু হটা তাঁর স্বভাবে নেই। একসময় পর্দায় যেমন একাই লড়েছেন শত শত্রুর সঙ্গে, তেমনই বাস্তব জীবনেও বারবার ফিরে এসেছেন আরও শক্ত হয়ে। ভীরু তো এত সহজে কাঁদিয়ে চলে যেতে পারে! গোটা দেশের প্রার্থনা যে রয়েছে তার সঙ্গে। তিনি সাড়া দিচ্ছেন। জীবনের মঞ্চে অভিনয় এখনো অনেকটা বাকি।
ষাটের দশকের সুদর্শন, লাজুক রোম্যান্টিক হিরো থেকে সত্তরের দশকের রুক্ষ, মারকুটে 'হি-ম্যান'। ধর্মেন্দ্রর এই রূপান্তর কেবল তাঁর কেরিয়ারের একটি বাঁক বদল ছিল না, ছিল ভারতীয় বাণিজ্যিক সিনেমার এক নতুন দিগন্তের শুরু। তাঁর জীবন এবং কেরিয়ার ঠিক যেন একটি সিনেমার মতোই বৈচিত্র্যময়, যেখানে ছিল প্রেম, সাফল্য, উত্থান এবং একসময় লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাওয়ার বিষণ্ণতা।
সময়টা ছিল ১৯৬০ সাল। 'দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে' ছবির মাধ্যমে যখন ধর্মেন্দ্রর অভিষেক ঘটে। তখন তিনি ছিলেন এক্কেবারে পাশের বাড়ির ছেলের মতো। পাঞ্জাবের সহজ-সরল যুবক, যার চোখে স্বপ্ন আর মুখে লাজুক মিষ্টি হাসি। সুদর্শন চেহারা ঝড় তুলছিল তরুণীদের বুকে। সম্প্রতি নিজেরই একটি ছবিতে নিজেই একটি ডায়লগে বলেছেন, “যখন আমি জওয়ান ছিলাম তখন প্রতিটি মেয়েই আমার ছবি নিজেদের বালিশের নিচের তলায় রেখে ঘুমাতো”, ষাটের দশক জুড়ে তিনি বহু রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করেন। ‘আঁখে’, ‘শিকার’, ‘আয়া সাওয়ান ঝুম কে’-র মতো ছবিগুলিতে রোমান্টিক দৃশ্য তখনের তরুণ এখন বৃদ্ধ হতে যাওয়া প্রজন্মকে ভালোবাসার রসদ জুগিয়েছিল।
Dharmendra Death Rumour: 'ধর্মেন্দ্রর মতো আইকনকে নিয়ে দয়া করে...', মৃত্যুর গুজব রটতেই কী পদক্ষেপ IFTDA-এর?
হিন্দি গানে তাঁর উপস্থিতি এবং নায়িকাদের সাথে তাঁর অনস্ক্রিন রসায়ন ভোলার মতো নয়। এ প্রজন্মের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে এখনও এই মাচো ম্যান রোমান্টিক হিরোর ছবির ক্লিপিং একবার অন্তত ঘুরে ফিরে আসবে।
রোমান্টিক হিরো থেকে একেবারে অ্যাকশন হিরো এই যাত্রাটা ছিল অন্যরকম। ষাটের দশক থেকে যখন সত্তরের দশকের দিকে এগোচ্ছে, তখন ধর্মেন্দ্রর হঠাৎ মনে হতে থাকল নিজের ভাবমূর্তি ভাঙ্গার। রোমান্টিক থেকে অ্যাকশন এর দিকে পা বাড়ানোর ইচ্ছে জাগলো তার মনে। যে সিদ্ধান্ত নিলেন সেই কাজ করতে বেশি দেরি করলেন না।
সত্তর দশকে রাজ খোসলার ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’(১৯৭১) ছবিটি তাঁর অ্যাকশন হিরো সত্তাকে প্রথমবার জনসমক্ষে আনে। এরপরই আসে ১৯৭৫ সালের সেই কালজয়ী ছবি ‘শোলে’। ‘বীরু’ চরিত্রে ধর্মেন্দ্রর অভিনয়, তাঁর কমেডি এবং অ্যাকশনের মেলবন্ধন তাঁকে এনে দেয় আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। এই ছবির পর থেকেই তিনি পরিচিত হন ‘অ্যাকশন কিং’ বা ‘হি-ম্যান’ হিসেবে।
Dharmendra Health Update: হাসপাতালে সানি-ববি, ধর্মেন্দ্রর শারীরিক অবস্থা নিয়ে এল বিরাট আপডেট..
আশির দশকে তাঁর অ্যাকশন হিরোর ইমেজ আরও মজবুত হয়। ‘ধরম বীর’, ‘জানি দুশমন’, ‘লোহা’, ‘হুকুমত’-এর মতো একের পর এক অ্যাকশন ছবিতে তিনি দাপিয়ে বেড়ান। তাঁর মারকুটে ভাবমূর্তি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে দর্শকরা তাঁকে রক্তারক্তি অ্যাকশন ছাড়া অন্যভাবে ভাবতেই পারতেন না।
ধর্মেন্দ্রর অভিনয় শৈলী ছিল সম্পূর্ণ নিজস্ব। তিনি সংলাপ বলার সময় খুব বেশি নাটকীয়তা করতেন না, বরং একটা স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতেন, যা সরাসরি দর্শকের মনে গেঁথে যেত। ‘শোলে’ ছবির সেই বিখ্যাত ডায়লগ, “বসনন্তী, ইন কুত্তো কে সামনে মত নাচনা!” বা “এক এক কো চুন চুনকে মা”, আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এছাড়া ‘আপনে’র মতো ছবিতে তাঁর আবেগপ্রবণ অভিনয়ও প্রমাণ করে যে তিনি পেশীশক্তি দিয়ে পর্দায় ভিলেনদের যেমন ধরাশায়ী করেন, অভিনয়ের জোরেও দর্শকদের কাঁদাতেও পারেন।
রুপালি পর্দায় ধর্মেন্দ্রর জীবন যতটা রোমান্টিক এবং অ্যাকশনে ভরপুর, বাইরের ধর্মেন্দ্রর জীবনও ছিল সিনেমার মতোই আলোচিত। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে হেমা মালিনীর সাথে তাঁর প্রেম এবং বিয়ে ছিল বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম চর্চিত বিষয়। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও হেমাকে বিয়ে করার জন্য তাঁর ধর্ম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত সেই সময় ঝড় তুলেছিল। তাঁদের অনস্ক্রিন এবং অফস্ক্রিন রসায়ন ছিল কিংবদন্তী।
Dharmendra Last Movie: বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শুটিং ফ্লোরে অভিনেতা, ধর্মেন্দ্রর শেষ ছবিতে কী ভাবে অমিতাভ যোগ?
নব্বইয়ের দশকের শেষ দিক থেকে ধর্মেন্দ্র ধীরে ধীরে মূলধারার সিনেমা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেন। নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের আগমনে এবং সিনেমার ঘরানা বদলে যাওয়ায় তাঁর ব্যস্ততা কমে যায়। তিনি রাজনীতিতেও স্বল্প সময়ের জন্য যোগ দিয়েছিলেন বটে তবে তা ছিল স্বল্প সময়ের জন্য। বর্তমানে, ধর্মেন্দ্র মুম্বাই থেকে দূরে তাঁর ফার্মহাউসে অনেকটা সময় কাটান। সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝে মাঝে খামারবাড়ির ভিডিও শেয়ার করেন, যা তাঁর ভক্তদের কাছে বেশ প্রিয়।
তবে পুরোপুরি আড়ালে তিনি যাননি। মাঝেমধ্যে বিশেষ চরিত্রে 'আপনে', 'যমলা পাগলা দিওয়ানা' সিরিজের মতো ছবি বা সম্প্রতি 'রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি'-তে তাঁর সংক্ষিপ্ত অথচ মন ছুঁয়ে যাওয়া উপস্থিতি বুঝিয়ে দেয়, আজও তাঁর ক্যারিশমা অমলিন।
পরিশেষে বলা যায়, শেষ বলেও যা শেষ হয় না তার নাম ধর্মেন্দ্র। যতই গুজব রোটুক তিনি বুক চিতিয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন। দর্শকদের ভালোবাসা যে আছে তার সাথে আর সাথে আছে পুরো দেশ। কেবল একজন সফল অভিনেতাই নন, তিনি বলিউডের একটি অধ্যায়। ভারতীয় সিনেমার এক চিরন্তন 'হি-ম্যান'।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us