/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/29/dharmendra-2025-11-29-13-08-38.jpg)
Dharmendra: প্রয়াত বলিউড অভিনেতা ধর্মেন্দ্র।
ধর্মেন্দ্র, বলিউডের ‘হি-ম্যান’, এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন ড্যাশিং গুড লুকিং পার্সন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তার এই সুদর্শন চেহারা একটুও খারাপ হয়নি। জীবনভর একটাই জিনিস ধরে রেখেছিলেন। বয়স বাড়লেও নিজের মনের বয়স বাড়তে দেননি। সত্তর পেরোলেও তিনি তার মধ্যে ধরে রেখেছিলেন উদ্যম আর অসম্ভব প্রাণশক্তি। ছবির পরিচালক অনিল শর্মা বহুবার ধর্মেন্দ্রকে নিয়ে কথা বলেছেন। তার মুখেই শোনা যায়, সত্তর বছর পেরিয়েও ধর্মেন্দ্রর শারীরিক সক্ষমতা সত্যিই অবিশ্বাস্য ছিল। সময়টা ছিল ২০০৭ সাল, আপনি ছবির শুটিং চলছিল। এই ছবির শুটিং এর একটি ঘটনা আজও তার মনে গেঁথে আছে।
কী সেই ঘটনা?
সেটে তখন হাজার হাজার দর্শক ভিড় করেছিলেন, আর ধর্মেন্দ্র ছিলেন দারুণ খুশি, কখনও দৃশ্য শুনে আবেগতাড়িত, কখনও দৃশ্য দেখে চোখ ভিজে উঠত।
শর্মা বলেন, একটি বিশেষ দৃশ্যে ধর্মেন্দ্রকে চলন্ত ট্রেনের পাশে সাইকেল চালাতে হয়েছিল। লোকেশনজুড়ে তখন প্রায় ১০–১৫ হাজার মানুষ। তাঁরা চিৎকার করে ডাকতে লাগলেন, “ধর্মেন্দ্র! ধর্মেন্দ্র!” সেই উৎসাহে অভিনেতা এমন জোরে প্যাডেল চালালেন যে একসময় ট্রেনের গতি ছাড়িয়ে সামনে বেরিয়ে গেলেন! ভাঙাচোরা ট্র্যাকের পাশের কাঁচা পথেও তাঁর ভারসাম্য, গতি আর শক্তি দেখে সবাই হতবাক। অনিল শর্মার ভাষায়, ৭১ বছর বয়সেও এটাই ছিল ধর্মেন্দ্রর স্বভাবসিদ্ধ অ্যাথলেটিকিজম, কাজের প্রতি তাঁর দারুণ উৎসাহ।
আপনে সিনেমাটি ধর্মেন্দ্রর কাছে ছিল খুবই আবেগের। অভিনেতার বহুদিনের ইচ্ছে ছিল, দু’ছেলে সানি ও ববি দেওলের সঙ্গে একসঙ্গে বড় পর্দায় আসা। স্ক্রিপ্ট লিখতেই লেগেছিল অনেকটা সময়, কারণ শর্মা চেয়েছিলেন, গল্পটা ভরপুর আবেগে ভরা হোক, বাড়াবাড়ি অ্যাকশনে নয়। একটি দৃশ্যের কথা, না বললেই নয়। বক্সিং রিং, যেখানে ধর্মেন্দ্রর চোখের জল ছিল সত্যিকারের, কোনরকম মেকাপের কারিগরি করতে হয়নি। পরিচালকের মতে তাঁর সেরা পারফরম্যান্সগুলোর অন্যতম। ধর্মেন্দ্র, সানি আর ববি, কারওরই আবেগের দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে গ্লিসারিনের প্রয়োজন হয়নি। তাঁদের চোখের জল গড়িয়ে পড়ে নিজের মতোই।
ধর্মেন্দ্র নিজে ভীষণ ফিটনেস ফ্রিক ছিলেন, যত বয়স, তত শৃঙ্খলা। এই শক্তি আর ফুর্তির পেছনে ছিল বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা নিয়মিত অভ্যাস। ‘হি-ম্যান’ নামে খ্যাত ধর্মেন্দ্র কখনও ব্যায়াম ছাড়েননি, বয়স যখন আশির কোঠায় পৌঁছেছে, তখনও নয়। জিমে ট্রেনিং, প্রতিদিন যোগব্যায়াম, সাঁতার, সবই চলত একসঙ্গে। চোখের অপারেশনের পরেও তিনি নিয়মিত জলে এক্সারসাইজ করতেন, আর ভিডিও শেয়ার করে মানুষকে অনুপ্রাণিতও করতেন। বলতে ভালোবাসতেন, “বয়স তো শুধু সংখ্যা, মন যদি তরতাজা থাকে!”
একবার পড়ে যাওয়ার পর তার জলে ব্যায়াম করা খুব জরুরী হয়ে ওঠে। এই জলে ব্যায়াম করাটা তার শরীরের জন্য খুবই উপকারী ছিল। এতে শরীরের উপর চাপ কম পড়ে আবার শরীর ফিটও থাকে। আর যোগব্যায়াম কে নিজের জীবনের অক্সিজেন বলে মনে করতেন। পৃথিবী এধার থেকে ওধার হয়ে গেলেও তিনি ব্যায়াম করতে ভুলতেন না।
আরও পড়ুন- Ranbir-Deepika: দশ বছর পর রণবীর–দীপিকা জুটি ফিরছে! অয়ন মুখার্জির নতুন ছবিতে বড় চমক
ধর্মেন্দ্রর মূল মন্ত্র ছিল বিশুদ্ধ খাবার, সহজ জীবন। ফিটনেস এর পাশাপাশি নিজেকে ভালো রাখার জন্য খাদ্যাভাসেও ছিল অনেক পরিবর্তন। নিয়ম মেনে ডায়েট আর শুদ্ধ খাবার। বেশিরভাগ সময় কাটাতেন নিজের ফার্মহাউসে, খোলা হাওয়া, শান্ত পরিবেশ আর, নিজের বাগানের অর্গানিক শাকসবজি এই জিনিসগুলো তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগাত।
চিনি এড়িয়ে চলতেন, খেতেন লাউ, জুকিনি, নানা ধরনের ফল, যা ছিল সবটাই অর্গানিক। বাগানে কাজ করা, গাছপালা দেখা, এসবই তাঁকে যেমন প্রশান্তি দিত, তেমনই শরীরচর্চার মতোই সক্রিয় রাখত।
সাইকেলে ট্রেনকে পেছনে ফেলে যাওয়া থেকে শুরু করে ৮৯ বছর বয়সেও যোগব্যায়ামে মগ্ন থাকা, ধর্মেন্দ্রর জীবন ছিল নিয়ম শৃঙ্খলাবদ্ধ। নিয়ম নিষ্ঠা মেনে চলেছিলেন বলেই বলিউডে তাবড় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম নাম ছিলেন ধর্মেন্দ্র। কাজের প্রতি ভালোবাসা, শরীরের প্রতি যত্ন আর প্রকৃতির প্রতি টান, এই তিনেই গড়ে উঠেছিল তাঁর দীর্ঘ, সুস্থ, প্রাণবন্ত পথচলা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us