Freedom At Midnight Season 2 review: দেশভাগের রক্তাক্ত অধ্যায়, কেমন হল 'ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইটের' দ্বিতীয় সিজন?

নিখিল আদভানির নির্দেশনায় এই সিজনে সিদ্ধান্ত গুপ্ত (নেহেরু), চিরাগ ভোহরা (গান্ধী) ও রাজেন্দ্র চাওলা (প্যাটেল) শক্তিশালী অভিনয় উপহার দিয়েছেন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ভি.পি. মেননের ভূমিকায় আরিফ জাকারিয়া ও কেসি শঙ্কর সমান দক্ষ।

নিখিল আদভানির নির্দেশনায় এই সিজনে সিদ্ধান্ত গুপ্ত (নেহেরু), চিরাগ ভোহরা (গান্ধী) ও রাজেন্দ্র চাওলা (প্যাটেল) শক্তিশালী অভিনয় উপহার দিয়েছেন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ভি.পি. মেননের ভূমিকায় আরিফ জাকারিয়া ও কেসি শঙ্কর সমান দক্ষ।

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
mahatma

পড়ুন রিভিউ...

দ্বিতীয় সিজনের অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্যটি হল, জওহরলাল নেহেরুর নিঃসঙ্গ বসে থাকা মুহূর্ত। একটি বিশাল উঁচু সিলিং-ওয়ালা ঘরে তিনি একা, সম্প্রতি সর্দার প্যাটেল বেরিয়ে গেছেন, বাতাসে ঝুলে আছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বন্দ্ব। এমন একটি সিরিজ, যেখানে কথোপকথন আর রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কই বড় অংশ দখল করে, সেখানে এই নিস্তব্ধ মুহূর্তটি গভীর তাৎপর্য বহন করে। দূর থেকে আজ, স্বাধীনতাকে সহজে প্রাপ্ত বলে মনে করলেও সেই সময়ের নেতাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ ও দায়িত্ব এই দৃশ্য স্পষ্ট করে তোলে। 

Advertisment

ল্যারি কলিন্স ও ডমিনিক ল্যাপিয়ের রচিত “ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট”-এর শেষাংশে নবগঠিত ভারতের অভ্যন্তরীণ সংঘাত, উত্তেজনা, ট্র্যাজেডি ও আশার সমন্বয় অত্যন্ত স্পষ্ট। এই সিজন সেই অশান্ত সময়গুলিকে নাটকীয়তার মাধ্যমে পুনরায় নির্মাণ করেছে। প্রথম সিজনের তুলনায়, দ্বিতীয় সিজনটি আরও সংহত, এবং নির্মাতারা সেইসব মানুষ ও ঘটনাগুলিকে তুলে ধরেছেন, যারা স্বাধীনতার পেছনের প্রকৃত চালিকাশক্তি ছিলেন।

নিখিল আদভানির নির্দেশনায় এই সিজনে সিদ্ধান্ত গুপ্ত (নেহেরু), চিরাগ ভোহরা (গান্ধী) ও রাজেন্দ্র চাওলা (প্যাটেল) শক্তিশালী অভিনয় উপহার দিয়েছেন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ভি.পি. মেননের ভূমিকায় আরিফ জাকারিয়া ও কেসি শঙ্কর সমান দক্ষ। লর্ড ও লেডি মাউন্টব্যাটেনকে লুক ম্যাকগিবনি ও কর্ডেলিয়া বুগেজাও যথাযথ গুরুত্বসহকারে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রথম সিজনের অতিরিক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকসহ কিছু দুর্বলতা এখানে সংশোধিত হয়েছে, ফলে দৃশ্যগুলোর আবেগ আরও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে।

সিজনটি দেশভাগকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে। মিলিয়ন মানুষের বাস্তুচ্যুতি, দাঙ্গা, ধর্মীয় বিভাজন এবং সেই অমানবিকতার মাঝেও রাজনৈতিক নেতাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। র‍্যাডক্লিফের দাগানো সীমান্ত মানুষকে, সম্পত্তিকে এবং শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা সামাজিক কাঠামোকে মুহূর্তে বিভক্ত করে। এই বিভাজনের ফলস্বরূপ দাঙ্গা, শরণার্থী ট্রেনে গণহত্যা ও কলকাতার হিংসাত্মক পরিস্থিতি হৃদয়বিদারকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

কাশ্মীর প্রশ্নও সিজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মহারাজা হরি সিংয়ের দ্বিধা, পাকিস্তানের আগ্রাসন এবং ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে স্বাক্ষর, সব মিলিয়ে সেই সময়কার রাজনৈতিক টানাপোড়েন যথেষ্ট বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপিত। নেহেরু-প্যাটেলের মতপার্থক্য ও গান্ধীর হস্তক্ষেপ দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করে- যদি কিছু ঘটনা অন্যভাবে ঘটত, তবে কি ভারতের ইতিহাস ভিন্ন হতো?

মোটের ওপর, “ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট” সিজন ২ তার গম্ভীর সুর ও সংহত বর্ণনার মাধ্যমে অত্যন্ত শক্তিশালী ও আবেগঘন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। এটি শুধু ইতিহাস নয়, স্বাধীনতার পেছনের মানুষের সংগ্রামকেই জীবন্ত করে। এই কারণেই এটি বছরের অন্যতম সেরা সিরিজ হওয়ার যোগ্য। 

bollywood Entertainment News Today