/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/28/brigitte-bardot-2025-12-28-17-11-19.jpg)
চলে গেলেন অভিনেত্রী...
ফরাসি চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী, ব্রিজিট বারডোট, যিনি ১৯৬০-এর দশকে বিশ্বজুড়ে যৌন আবেদন ও আধুনিক নারীত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে একজন কট্টর প্রাণী অধিকার কর্মী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন, ৯১ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন।
ব্রিজিট বারডোট ফাউন্ডেশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব অ্যানিম্যালস-এর পক্ষ থেকে, ব্রুনো জ্যাকলিন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, রবিবার দক্ষিণ ফ্রান্সে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বারডোট। গত মাসে অসুস্থতার কারণে, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত স্মরণসভা সংক্রান্ত কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
Raj Chakraborty: 'প্ররোচনায় পা দেবেন না...', গ্যাঁড়াকলে রাজ চক্রবর্তী! দিলেন হুঁশিয়ারি?
১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অ্যান্ড গড ক্রিয়েটেড ওম্যান’ ছবির মাধ্যমে, আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন ব্রিজিট বারডোট। তৎকালীন স্বামী রজার ভাদিম পরিচালিত এই ছবিতে, তাঁর অভিনয় এবং বিতর্কিত নৃত্যদৃশ্য সিনেমার ভাষা বদলে দেয়। ছবিটি তৎকালীন সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বারডোটকে এক রাতের মধ্যেই বিশ্ব তারকায় পরিণত করে।
প্রায় ৩০টি ছবিতে অভিনয় করা বারডোট কেবল একজন অভিনেত্রীই নন, বরং ফরাসি সমাজে রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে এক বিদ্রোহী প্রতীক হয়ে ওঠেন। তাঁর এলোমেলো স্বর্ণকেশী চুল, আত্মবিশ্বাসী দৃষ্টিভঙ্গি ও স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ, তাঁকে অনন্য করে তুলেছিল। ১৯৬৯ সালে তাঁর মুখাবয়ব ফ্রান্সের জাতীয় প্রতীক ‘মেরিয়েন’-এর আদর্শ হিসেবে নির্বাচিত হয়, যা তাঁর সাংস্কৃতিক গুরুত্বের স্বীকৃতি।
১৯৭০-এর দশকের শুরুতে, অভিনয় জীবন থেকে সরে এসে বারডোট সম্পূর্ণভাবে প্রাণী অধিকার আন্দোলনে যুক্ত হন। সীল শিকার বন্ধ করা থেকে শুরু করে পরীক্ষাগারে প্রাণীদের ব্যবহার বিরোধিতা- সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সরব। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ব্রিজিট বারডোট ফাউন্ডেশন, ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী প্রাণী সুরক্ষা সংস্থায় পরিণত হয়।
Dev: 'বাবাকে ধন্যবাদ', অতীতের গল্প শোনাতেই গলা ধরে এল দেবের
তবে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক মন্তব্য ঘিরে বিতর্কও কম ছিল না। অভিবাসন এবং ধর্মীয় প্রথা নিয়ে তাঁর কড়া মন্তব্যের জেরে, একাধিকবার ফরাসি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। ২০১৮ সালে #MeToo আন্দোলন নিয়ে করা মন্তব্যও সমালোচনার জন্ম দেয়।
১৯৩৪ সালে প্যারিসে জন্ম হয় তাঁর। ব্রিজিট বারডোটের ব্যক্তিগত জীবন ছিল অশান্ত ও আলোচিত। চারবার বিয়ে, মানসিক অবসাদ এবং লাগাতার মিডিয়া চাপের মধ্যেও, তিনি নিজের বিশ্বাসে অটল ছিলেন। বিতর্ক সত্ত্বেও, সিনেমা, সংস্কৃতি এবং প্রাণী অধিকার আন্দোলনে ব্রিজিট বারডোটের প্রভাব ইতিহাসে অমলিন হয়ে থাকবে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us