/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/22/aditya-dhar-2025-12-22-21-49-02.jpg)
কে এই পরিচালক?
সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর অভাবনীয় সাফল্যের সুবাদে, এই মুহূর্তে বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত সিনে নির্মাতাদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন আদিত্য ধর। প্রায় দুই দশক ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে সক্রিয় থাকলেও, পরিচালনায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০১৯ সালে। ছয় বছর পর, ২০২৫-এ আসে তাঁর দ্বিতীয় ছবি। আশ্চর্যের বিষয়, মাত্র দুটি ছবি দিয়েই আদিত্য ধর বিশ্বব্যাপী ১,২০০ কোটিরও বেশি টাকার ব্যবসা করেছেন, যার মধ্যে ‘ধুরন্ধর’ এখনও দুর্দান্ত বক্স অফিসে। তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না।
রবিন ভাটের সঙ্গে এক পুরনো সাক্ষাৎকারে, আদিত্য নিজের সংগ্রামের কথা অকপটে তুলে ধরেছিলেন। তিনি জানান, ছোটবেলায় তিনি মারাত্মকভাবে ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। পড়াশোনায় দুর্বল হলেও নাটক ও গল্প বলার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। একাধিকবার পরিচালনায় অভিষেকের সুযোগ এসেও শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায়। ২০১৩ এবং ২০১৬- দু’বারই তাঁর প্রথম ছবি আটকে যায়। আদিত্যর কথায়, এর অন্যতম বড় কারণ ছিল বিশ্বাসঘাতকতা। তাঁর অভিযোগ, একাধিকবার তাঁর লেখা চিত্রনাট্য চুরি করে, তা থেকেই বড় বাজেটের ছবি বানানো হয়েছে।
এইসব ধাক্কার মধ্যেও রবিন ভাট, প্রিয়দর্শন এবং তাঁর বড় ভাইয়ের মতো মানুষরা তাঁকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে গেছেন। তবু বহুবার এমন পরিস্থিতি এসেছে, যখন শুটিং শুরুর মাত্র ১৫ দিন আগে প্রকল্প বাতিল হয়ে গিয়েছে। সবকিছু বদলে দেয় ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’। ২০১৯ সালের এই ব্লকবাস্টার বিশ্বজুড়ে ৩৫৮ কোটি টাকা আয় করে এবং আদিত্য ধরের জীবন একেবারে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেয়। মজার বিষয়, আদিত্য নিজেই ছবিটিকে একটি “দুর্ঘটনা” বলে উল্লেখ করেছেন।
এর আগে ২০১৬ সালে তিনি ধর্মা প্রোডাকশনের ব্যানারে ক্যাটরিনা কাইফ ও ফাওয়াদ খানের সঙ্গে ‘রাত বাকি’ নামে একটি ছবি বানাচ্ছিলেন। কিন্তু উরি হামলার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে ছবিটি বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময়েই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের খবর তাঁকে নতুন গল্প ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। ছয় মাস ধরে গবেষণা, অসংখ্য মানুষের সাক্ষাৎকার এবং নিজের সমস্ত সঞ্চয় বিনিয়োগ করে তিনি ‘উরি’-র প্রস্তুতি নেন। অন্য কেউ একই বিষয় নিয়ে ছবি করছে শুনে নিজেকে ঘরে বন্ধ করে মাত্র ১২ দিনে চিত্রনাট্য লেখেন। শেষ পর্যন্ত রনি স্ক্রুওয়ালার সমর্থনে ছবিটি বাস্তব রূপ পায়।
‘উরি’ আদিত্যর জীবনে শুধু পেশাগত সাফল্যই আনেনি, এনে দিয়েছে ব্যক্তিগত সুখও। এই ছবির সেটেই তাঁর পরিচয় হয় অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম-এর সঙ্গে। দু’জনের সম্পর্ক পরিণতি পায় ২০২১ সালে বিয়েতে।
এরপর আদিত্য ও তাঁর ভাই মিলে B62 স্টুডিও চালু করেন। এই ব্যানার থেকে তৈরি হয় ‘আর্টিকেল ৩৭০’ ও ‘বারামুলা’। ২০ কোটি টাকার বাজেটে তৈরি ‘আর্টিকেল ৩৭০’ বিশ্বব্যাপী ১০৫ কোটি টাকা আয় করে। সর্বশেষ ‘ধুরন্ধর’ একের পর এক, বক্স অফিস রেকর্ড ভেঙে ৮০০ কোটি টাকার গণ্ডি পেরিয়েছে। আগামী ১৯ মার্চ মুক্তি পাওয়ার কথা ছবিটির দ্বিতীয় অংশের।
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, আদিত্য ধর ও ইয়ামি গৌতমের সম্মিলিত সম্পত্তির পরিমাণ ১০০ কোটিরও বেশি। প্রতি ছবির জন্য আদিত্য নেন প্রায় ৮–১০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক। বান্দ্রায় বিলাসবহুল বাড়ি, চণ্ডীগড়ে ডুপ্লেক্স, হিমাচলে পারিবারিক বাড়ি এবং একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি—সব মিলিয়ে তাঁর যাত্রাপথ প্রমাণ করে, বারবার ব্যর্থতার পরও অদম্য লড়াই শেষ পর্যন্ত এনে দেয় অসাধারণ সাফল্য।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us