Govinda-Sunita Ahuja: ''অনেক ভুল করেছে আর আমি ক্ষমা করেছি', গোবিন্দার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের গুঞ্জন উসকে অকপট সুনীতা

Govinda-Sunita Ahuja Relation: ওকে আমি জিজ্ঞেস করব আমি কী করেছি যে ও আমাকে ক্ষমা করেছে? বরং ও-ই তো অনেক ভুল করেছে যার জন্য আমি ওকে ক্ষমা করেছি: সুনীতা

Govinda-Sunita Ahuja Relation: ওকে আমি জিজ্ঞেস করব আমি কী করেছি যে ও আমাকে ক্ষমা করেছে? বরং ও-ই তো অনেক ভুল করেছে যার জন্য আমি ওকে ক্ষমা করেছি: সুনীতা

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
cats

বয়স বাড়লে, সন্তান হলে, নিজের দায়িত্ব বুঝে চলা উচিত: সুনীতা

Govinda Wife Sunita Ahuja: আমাজন প্রাইম ভিডিওর টক শো টু মাচ-এ কাজল ও টুইঙ্কল খান্নার সঙ্গে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন অভিনেতা গোবিন্দ। সেখানে তিনি বলেন, স্ত্রীর মন্তব্যে বারবার কষ্ট পেলেও তিনি সবসময় সুনীতা আহুজাকে ছোট বাচ্চার মতো ক্ষমা করে দেন। কিন্তু এবার বোধহয় গোবিন্দাকে আবারও বেশি দয়ালু হতে হবে কারণ কারণ সুনীতা নতুন সাক্ষাৎকারে আরও বেশি খোলামেলা স্বীকারোক্তি করেছেন।

Advertisment

গোবিন্দা ঘরনি সুনীতা বলেন, 'আমি গোবিন্দার জন্য অনেক কিছু করেছি। বিয়ের পর এক বছর আমি চুপচাপ ছিলাম। সেটা অবশ্য আমাদের মেয়ে টিনার জন্মানোর আগ পর্যন্ত। তারপর আমাদের বিয়ের কথা প্রকাশ্যে আসে। তখন আমি এক বছর ঘরের বাইরে পা রাখিনি। সেই সময়ে একটা ট্রেন্ড ছিল নায়কের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসলে ফ্যান ফলোয়িং নাকি কমে যায়। তাই আমি তাড়াতাড়ি গর্ভবতী হই যাতে আজ না হোক কাল আমাকে বাইরে তো যেতে দেবে।'

তবে এই সিদ্ধান্তে সুনীতার কোনও অনুশোচনা নেই। তিনি বলেন, 'ও যখনই আমার প্রয়োজন অনুভব করেছে আমি ওঁর পাশে থেকেছি।' পিংকভিলা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুনীতা বলেন, গোবিন্দার তারকা খ্যাতির কৃতিত্ব মা নির্মলা দেবীর প্রাপ্য। সেই প্রসঙ্গে সুনীতার সংযোজন,  'আমি কৃতিত্ব দেবো প্রথমে গোবিন্দার মাকে, আমাকে নয়।' 

Advertisment

আরও পড়ুন 'হঠাৎ আমাকে জাপটে ধরে মুখে মুখ দিয়ে...', পরিচালকের অফিসে ভয়ংকর ঘটনার মুখোমুখি মৌনী

গোবিন্দা যে প্রান্তিক এলাকা থেকে উঠে সাফল্য অর্জন করেছেন সেটি মূলত তাঁর মায়ের জন্যই। ১৯৯৬ সালে মায়ের মৃত্যু হওয়ার পর সুনীতা আরও বেশি করে তাঁর পাশে থেকেছেন। ভালো-মন্দ সব সময়েই জীবনসঙ্গীকে সাপোর্ট করেছেন। সুনীতার যুক্তি, 'কখনও কখনও কাউকে তো থাকতে হবে যে ওঁর ভুলগুলো ধরিয়ে দেবে। একটা সময় পর স্ত্রী শুধু স্ত্রী থাকে না সে স্বামীর জন্য মায়ের ভূমিকাও পালন করে।'

তিনি আরও জানান, 'আমাদের বিয়ের সময় আমি মাত্র ১৮ বছরের, আর গোবিন্দা আমার থেকে সাত বছরের বড়। আমরা তখন কিছুই বুঝতাম না। আমি নিজেই তখন অনেক ছোট। কী ভাবে আমার মেয়েকে মানুষ করেছি আজ ভাবলে অবাক লাগে। আমি সবসময় গোবিন্দাকে শুধু স্বামী নয় বন্ধুর মতো দেখেছি। আমি ওঁর ওপর চিৎকার করেছি, গালিও দিয়েছি। বিয়েতে বন্ধুত্বটা ভীষণ জরুরি কিন্তু সেটা সত্যের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে। সম্পর্ক তখনই টিকে থাকে।'

আরও পড়ুন শট বাকি থাকলেও ৭ ঘণ্টায় প্যাক-আপ, দীপিকার ৮ ঘণ্টা দাবির আগে এই নীতি অনুসরণ তপন সিনহার

তবু তিনি স্বামী যখন তাঁর থেকে কিছু আড়াল করেন তখন তাঁকে দোষ দেন না। সুনীতার মতে, 'ও হয়তো ভেবেছে আমি ডায়াবেটিক, আমাকে চিন্তায় না ফেলাই ভাল। ও ভাবে আমি শিশুর মতো তাই সবসময় হাসিখুশি থাকব।' তবে টু মাচ-এ গোবিন্দার মন্তব্যের জবাবে সুনীতার কড়া প্রতিক্রিয়া 'ওকে আমি জিজ্ঞেস করব আমি কী করেছি যে ও আমাকে ক্ষমা করেছে? বরং ও-ই তো অনেক ভুল করেছে যার জন্য আমি ওকে ক্ষমা করেছি। যৌবনে ভুল হতেই পারে। আমারও হয়েছে, গোবিন্দারও হয়েছে। কিন্তু বয়স বাড়লে, সন্তান হলে, নিজের দায়িত্ব বুঝে চলা উচিত।'

তিনি ইঙ্গিত দেন, গোবিন্দার অতীতের কিছু সম্পর্ক নিয়েও তাঁর আপত্তি ছিল। তাঁর কথায়, 'এত সুন্দর পরিবার, সন্তান, স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কেন ভুল হবে? নায়করা তো আমাদের চেয়ে নায়িকাদের সঙ্গেই বেশি সময় কাটায়। শুটিংয়ে ৪০ দিন বাইরে থাকে আর আমি বাড়িতে একা। নায়কের স্ত্রী হতে গেলে হৃদয়টা পাথরের মতো শক্ত হতে হয়। ৩৮ বছরের বিবাহজীবনে আমি এটা শিখেছি। যৌবনে ভালবাসার নেশায় কিছুই বুঝিনি।' তিনি আরও বলেন, 'আমি এমন মানুষ ভালবাসার জন্য প্রাণ দিতে পারি কিন্তু যদি ভালবাসা না থাকে প্রাণ নিতেও পারি।' 

'দ্য কপিল শর্মা' শো-তেও সুনীতা বলেছিলেন গোবিন্দা এত ভাল ছেলে যে আমি চাই পরের জন্মে ও আমার ছেলে হোক স্বামী নয়!' সম্প্রতি টু মাচ-এর আরেকটি এপিসোডে টুইঙ্কেল, কাজল এবং করণ জোহরের 'ইমোশনাল চিটিং বনাম ফিজিক্যাল চিটিং'  বিতর্ক নিয়েও তিনি মতপ্রকাশ করেন। সুনীতা বলেন, 'ভালবাসার পর কারও সঙ্গে প্রতারণা করা ঠিক নয়। আমি খুব আবেগপ্রবণ মানুষ, কেউ যদি আমাকে প্রতারণা করে সেটা আমার স্বামী হোক বা সন্তান ভীষণ ভেঙে পড়ি।' 

আরও পড়ুন 'ওঁর জন্য গুলি খেতেও রাজি', বাগদান চর্চার মাঝে বিজয়ের সঙ্গে বিয়ের গুঞ্জনে সিলমোহর রশ্মিকার?

ফিজিক্যাল চিটিং প্রসঙ্গে বলেন, 'আমাদের বাবা-মা আমাদের খুব ভালভাবে মানুষ করেছেন। এখন তো ঘোর কলিযুগ। আমি প্রেম করে বিয়ে করেছি। মা তখন বলেছিলেন, 'যেদিন বিয়ে করবি মৃত্যুর দিন পর্যন্ত ওই ঘরেই থাকবি। তাই আজও এত লড়াই, ঝগড়া সত্ত্বেও আমি কখনও ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি ছেড়ে যাইনি।'

Govinda Sunita Ahuja