/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/21/hritika-2026-01-21-19-41-50.png)
কী বলছেন হৃতিকা...
বেনারসের ঘাটে ‘হিরো হিরণ’-এর বিয়ে প্রথমে অনেকের কাছেই ছিল এক রোম্যান্টিক চমক। পবিত্র পরিবেশ, গঙ্গা আরতি ও আধ্যাত্মিক আবহে ঘেরা এই বিয়ের ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই অনুরাগীদের একাংশে তৈরি হয় আবেগঘন উচ্ছ্বাস। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মুহূর্তের মধ্যেই এই বিয়ে ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় বিস্ফোরক আলোচনায়।
অনিন্দিতার স্পষ্ট বক্তব্য, “ডিভোর্স তো দূরের কথা, আমাদের মধ্যে ডিভোর্সের প্রক্রিয়াও এখনও শুরু হয়নি।” তাঁর এই দাবি সামনে আসতেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়, হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর। অনিন্দিতার দাবি অনুযায়ী, হিরণ চট্টোপাধ্যায় এখনও আইনত তাঁর স্বামী। তাঁদের বিয়ে হয়েছিল ২০০০ সালের ১১ ডিসেম্বর, অর্থাৎ সম্প্রতি তাঁদের বিবাহিত জীবনের ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে।স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে- তাহলে কীভাবে দ্বিতীয় বিয়ে সম্ভব?
অনিন্দিতা আরও জানান, তাঁদের ১৯ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে তিনি গত কয়েক বছর ধরে গভীর মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক আইনি বিচ্ছেদে শেষ হতে পারে, কিন্তু সন্তানের জীবন থেকে বাবার পরিচয় কখনও মুছে যায় না। সেই যন্ত্রণার বোঝা মেয়েকে সারাজীবন বহন করতে হবে।
বিতর্কের মধ্যেই অনিন্দিতার সঙ্গে একটি আবেগঘন ভিডিও পোস্ট করেন তাঁদের মেয়ে নিয়াসা। সেই পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মুহূর্তে তাঁর জীবনে মায়ের বাইরে আর কেউ গুরুত্বপূর্ণ নন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, মা-ই তাঁর সবকিছু- অভিভাবক, পথপ্রদর্শক এবং সবচেয়ে বড় ভরসা।
এদিকে, চলমান বিতর্কের মাঝেই অবশেষে মুখ খুলেছেন হিরণের বর্তমান স্ত্রী হৃতিকা। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর যেভাবে তাঁদের সম্পর্ককে অবৈধ বলে আক্রমণ করা হয়েছে এবং তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে নিশানা করা হয়েছে, তাতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানান। সমাজমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের কাছে সংযম ও সহানুভূতির আবেদন করেছেন।
কী লিখছেন তিনি?
"মানসিকভাবে আমি খুবই অস্থির এবং শারীরিকভাবেও অসুস্থ। সম্প্রতি আমার একটি অপারেশন হয়েছে, যার জন্য চিকিৎসকেরা আমাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। আমি তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার দেওয়া সমস্ত বক্তব্য শুনেছি। সেই প্রসঙ্গে কিছু বিষয় স্পষ্ট করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছি।
১. আমার বয়স সম্পর্কিত ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে।
২. তাঁকে ডিভোর্স দেওয়া হয়েছে এবং আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।
৩. এই বিয়ে হওয়ার প্রায় এক বছর পাঁচ মাস আগে থেকেই আমরা একসঙ্গে আছি, যা অনিন্দিতাও জানতেন। আমার সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তখনই পাবলিক ছিল, সেখানে আমি কিছুই লুকোইনি। তবুও তিনি তখন কখনও কোনও প্রশ্ন তোলেননি।
৪. তিনি যেটা বলেছেন যে আমরা নাকি মাত্র ছয় মাস ধরে একসঙ্গে আছি- এটা সম্পূর্ণ ভুল। ছয় মাস নয়, অনেক আগেই আমরা একসঙ্গে ছিলাম। হিরণ নিজের মেয়ের সঙ্গে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কিছু কাজের জন্য দেখা করেছিলেন, যার মধ্যে মেয়ের জন্মদিনও ছিল।"
হৃতিকা আরও বললেন, "এই বিয়ে মানসিক শান্তি ও তৃপ্তির জন্য, আগুনকে সাক্ষী রেখে সম্পন্ন হয়েছে। বারাণসীর মতো পবিত্র স্থানে, গঙ্গা মায়ের সামনে, পবিত্র বিধিতে এই বিয়ে হয়েছে। এটি কোনও বিলাসবহুল বিয়ে ছিল না, কোনও রকম দেখনদারিও ছিল না। শুধুমাত্র বিশ্বাস, ভক্তি ও পবিত্রতার অনুভূতি নিয়েই এই বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। আমার যে লাল-সাদা চুড়িটি দেওয়া হয়েছে, সেটি কাশী বিশ্বনাথ ধাম থেকেই আশীর্বাদস্বরূপ পাওয়া। বিয়ের সম্পূর্ণ আচার-অনুষ্ঠানের সামগ্রী শ্রীধাম বৃন্দাবন ও মা বারাণসা মায়ের মন্দির থেকে আনা হয়েছিল- ষোলো সাজ ও মায়ের সিঁদুর সহ। যদি কারও মনে হয় এই বিয়ে অবৈধ, তাহলে আমার একটাই কথা, আইনি পথে পদক্ষেপ নিন। এর বাইরে এই বিষয়ে আমার আর কিছু বলার নেই। সবাইকে প্রণাম।"


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us