/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/24/raj-chakraborty-2026-01-24-23-26-21.jpg)
রাজ চক্রবর্তীকে আইনি নোটিশ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীর
‘হোক কলরব’ সিনেমার ট্রেলার ও টিজার প্রকাশের পর থেকেই বিতর্কে উঠে আসে ছবির একটি সংলাপ এবং সেখানে ক্ষুদিরাম বসুকে অবমাননা করার অভিযোগ। সেই থেকে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর (Raj Chakraborty) বিরুদ্ধে একাধিক মহল থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছিল। ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর সেই বিতর্ক আরও জোরালো আকার নেয়। এবার নতুন করে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে তাঁকে আইনি নোটিশ পাঠালেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র অভিষেক বিশ্বাস।
অভিষেক দাবি করেন, ছবির বিষয়বস্তু ও নির্মাণের মাধ্যমে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সিনেমায় যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেখানকার পড়ুয়াদের কার্যকলাপ দেখানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই প্রসঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বলেও জানান। শুধু তাই নয়, সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন এবং সিনেমার অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাকেও এই বিষয়ে অবহিত করেছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নোটিশের ছবি শেয়ার করে অভিষেক লেখেন, “সম্প্রতি 'Hok Kolorob' নামের এক সিনেমায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে লক্ষ্য করে নানাভাবে মিথ্যাচার করা হয় - যা তার trailer ও teaser দেখেই স্পষ্ট, পেট্রল বোমা ছোড়া বা থানায় আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো মারাত্মক ক্রাইম দেখানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বা মিছিল হলেও বিগত ৫০ বছরের ইতিহাসে এর কোনো নিদর্শন নেই!
একজন প্রাক্তনী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানহানির বিরুদ্ধে এইটুকু প্রতিবাদ রইল, ব্যক্তিগতভাবে আইনি নোটিশ পাঠালাম রাজ চক্রবর্তীকে, পাশাপাশি CBFC ও আরও সিনেমার রেগুলেশন বোর্ড কেও জানিয়েছি!
ভগবানে বিশ্বাস করলেও মূর্তি পুজোয় বিশ্বাস করিনা, আমার কাছে মন্দির একটাই - যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। যাদবপুর ছাড়া পড়াশুনাটুকু চালিয়ে যেতে পারতো না আজও এরকম বহু পড়ুয়া সারা বাংলা তথা ভারত জুড়ে রয়েছে, মাত্র ১০,০০০ টাকার মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া যাবে এমন কলেজ আছে আর? যেকোনো র্র্যাঙ্ক সিস্টেমে পশ্চিমবঙ্গের সেরা রাজ্য-সরকারি কলেজ আজও যাদবপুর, সারাক্ষণ আমরা এসব করলে (সিনেমায় যা দেখানো হয়েছে) পড়াশুনা করলাম কখন?
হয়তো লড়াইয়ে জিততে পারবোনা (বা পারবো) কিন্তু এটা লেখা থাকবে যাদবপুরের ছাত্র ও প্রাক্তনীরা লড়েছিল; সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী ও প্রাক্তনীকে অনুরোধ আপনারা প্রতিবাদটুকু করুন - যাদবপুর বাংলার অহংকার, একে শেষ হতে দেবেন না! শিল্পীর স্বাধীনতা থাক, মিথ্যা না ছড়িয়ে ।”
আরও পড়ুন: ‘কিং’ গর্জন করতে আসছে! শাহরুখ খানের নতুন সিনেমার মুক্তির তারিখ ঘোষণা
তাঁর মতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের প্রতীক। তিনি মনে করেন, সিনেমার মাধ্যমে এমন একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত ছবি তুলে ধরা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
অভিষেকের মতে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস মূলত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, শিক্ষার ও সামাজিক দায়বদ্ধতার। সেখানে পেট্রল বোমা ছোড়া বা থানায় আগুন লাগানোর মতো অপরাধমূলক কাজকে ছাত্রদের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়। এতে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নয়, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের মানসিকতার উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বহু প্রাক্তনী ও বর্তমান ছাত্রছাত্রী অভিষেক বিশ্বাসের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রতিবাদকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, শিল্পীর স্বাধীনতা অবশ্যই থাকা উচিত, কিন্তু সেই স্বাধীনতার নামে কোনও ঐতিহাসিক ও সম্মানজনক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালানো গ্রহণযোগ্য নয়।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us