Ikkis movie review: ভারত-পাক যুদ্ধের আড়ালে মানবিক ক্ষতির দলিল ‘ইক্কিস’, পড়ুন রিভিউ?

শ্রীরাম রাঘবন পরিচালিত ‘ইক্কিস’ ছবিতে উঠে এসেছে ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধ, পরমবীর চক্রপ্রাপ্ত বীর অরুণ খেতারপালের সাহস, ত্যাগ এবং যুদ্ধের মানবিক মূল্য। অগস্ত্য নন্দা ও ধর্মেন্দ্রর আবেগঘন অভিনয়ে এক ব্যতিক্রমী যুদ্ধচিত্র।

শ্রীরাম রাঘবন পরিচালিত ‘ইক্কিস’ ছবিতে উঠে এসেছে ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধ, পরমবীর চক্রপ্রাপ্ত বীর অরুণ খেতারপালের সাহস, ত্যাগ এবং যুদ্ধের মানবিক মূল্য। অগস্ত্য নন্দা ও ধর্মেন্দ্রর আবেগঘন অভিনয়ে এক ব্যতিক্রমী যুদ্ধচিত্র।

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
ikkis-review-1600

কেমন হল এই ছবি?

 “ইক্কিস”- একজন সিনিয়র অফিসার যখন, এক তরুণ সৈনিকের বয়স জানতে চান, তখন জন্মদিনের কেক মাখা মুখে সে উত্তর দেয়- একুশ। সেই বয়সেই একজন মানুষ প্রকৃত অর্থে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠে। কিন্তু সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট অরুণ খেতারপাল সেই বয়স পেরোতে পারেননি। ১৯৭১ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধে ডিসেম্বরের সেই শেষ দিনটিতে লড়াই করতে করতেই থেমে যায় তাঁর জীবন। তিনিই আজও পরমবীর চক্রপ্রাপ্ত সর্বকনিষ্ঠ সেনা অফিসার।

Advertisment

শুধু এক তরুণ বীরের সাহসগাথা নয়, ইক্কিস মূলত যুদ্ধের নিষ্ঠুর পরিণতি ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতির অনুসন্ধান। পরিচালক শ্রীরাম রাঘবন, তাঁর সহ-চিত্রনাট্যকার অরিজিৎ বিশ্বাস ও পূজা লাধা সুরতির সঙ্গে মিলে এমন এক যুদ্ধচিত্র নির্মাণ করেছেন, যা সাম্প্রতিক অতিরঞ্জিত দেশপ্রেম ও অকারণ হিংসার সিনেমা থেকে স্পষ্টভাবেই আলাদা।

এই ছবিতে যুদ্ধ আছে, রক্ত আছে, কিন্তু অযথা নৃশংসতা নেই। সৈন্যরা হত্যা করতে প্রশিক্ষিত- এটাই সত্য। কিন্তু ইক্কিস দেখায়, তারাও মানুষ, যাদের মধ্যে শালীনতা, সহানুভূতি এবং নৈতিকতা বেঁচে থাকে। সীমান্তের ওপারে একটি গ্রামে ভারতীয় অফিসার ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে যে মানবিক সংযোগ তৈরি হয়, তা অস্ত্র উঁচিয়ে উল্লাস করার দৃশ্যের চেয়ে অনেক বেশি গভীর ও অর্থবহ।

Agastya Nanda-Ikkis: অগস্ত্য নন্দার অভিনয়ে মুগ্ধ অরুণ খেতারপালের ভাই, কাঁদাল ‘ইক্কিস’...

অরুণের চরিত্রে অগস্ত্য নন্দা একেবারে স্বাভাবিক। তাঁর বাবা, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার মদন খেতারপাল (ধর্মেন্দ্র) এবং মা (সুহাসিনী মুলে) তাঁকে যুদ্ধে পাঠান এক ফৌজি পরিবারের চেনা দৃঢ়তায়। প্রশিক্ষণ ও বন্ধুত্বের মুহূর্তগুলির মধ্য দিয়ে অরুণ ধীরে ধীরে নিজের ট্যাঙ্কের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ওঠে, যার মাধ্যমে সে পৌঁছে যায় বসন্তরের রণক্ষেত্রে।

যুদ্ধের দৃশ্যের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি দেখানো হয়েছে মদনের যাত্রাপথ- যেখানে পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার খাজা মোহাম্মদ নাসির (জয়দীপ আহলাওয়াত) এক গভীর অনুশোচনার ভার বয়ে বেড়াচ্ছেন। এই দ্বৈত আখ্যান ছবিটিকে আরও মানবিক করে তোলে।

অলিভার স্টোন বা স্পিলবার্গের, যুদ্ধবিরোধী চলচ্চিত্রগুলির স্মৃতি জাগিয়ে দেয় ইক্কিস। এখানে জয়-পরাজয়ের হিসাব থাকলেও প্রকৃত বিজয়ী কেউ নয়। ক্ষতি দুই পক্ষেরই। ধর্মেন্দ্রর শেষ অন-স্ক্রিন উপস্থিতি আবেগঘন, যদিও তাঁর সংলাপের গতি কোথাও কোথাও দুর্বল লেগেছে। 

শেষ পর্যন্ত, ইক্কিস এমন একটি যুদ্ধচিত্র, যা মনে করিয়ে দেয়- যুদ্ধ মানেই শুধু শত্রু নয়, বরং দুই দেশের মানুষ, যারা নিজেদের মতো করেই কর্তব্য পালন করে যায়। ২০২৬ সালের এক শক্তিশালী ও সংবেদনশীল সূচনা।

ইক্কিসের সিনেমার অভিনয়: ধর্মেন্দ্র, অগস্ত্য নন্দা, জয়দীপ আহলাওয়াত, সিকান্দার খের, ভিভান শাহ, সুহাসিনী মুলে, রাহুল দেব, একাবলি খান্না, সিমর ভাটিয়া, অবনী রাই, দীপক দোব্রিয়াল, আসরানি
ইক্কিস চলচ্চিত্র পরিচালক: শ্রীরাম রাঘবন
ইক্কিস মুভি রেটিং: ৩/৫ 

Entertainment News Today Hindi Film