/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/19/javed-akhtar-childhood-2025-12-19-22-00-44.jpg)
চেনেন তাঁকে?
ভারতে চলচ্চিত্র নির্মাণের ইতিহাস একশো বছরেরও বেশি পুরোনো। এই দীর্ঘ যাত্রায় ভারতীয় সিনেমা উপহার দিয়েছে অসংখ্য কিংবদন্তি- কাপুর পরিবার থেকে শুরু করে মধুবালা, মীনা কুমারী, অশোক কুমার, রাজেশ খান্না, দিলীপ কুমার কিংবা অমিতাভ বচ্চনের মতো মহান তারকাদের। কিন্তু লক্ষ করলে দেখা যাবে, এই তালিকায় প্রায় সকলেই অভিনেতা। খুব কম মানুষই মনে রাখেন সেই মানুষদের, যাঁরা পর্দার আড়ালে বসে গল্প, সংলাপ ও চরিত্র নির্মাণ করেছেন। এমনই এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব ছিলেন জাভেদ আখতার- যিনি দর্শকদের শিখিয়েছিলেন, সিনেমা শুধু তারকাদের নয়, লেখকদের নামেও পরিচিত হয়।
১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া জাভেদ আখতার, মাত্র ১৯ বছর বয়সে এক স্বপ্ন নিয়ে মুম্বইয়ে পা রেখেছিলেন- কিংবদন্তি পরিচালক গুরু দত্তের সহকারী হওয়ার। কিন্তু ভাগ্য নির্মম ছিল। মুম্বইয়ে আসার এক সপ্তাহের মধ্যেই গুরু দত্তের মৃত্যু হয়, আর ভেঙে পড়ে জাভেদের স্বপ্ন। তবুও তিনি দমে যাননি। কবি জান নিসার আখতারের পুত্র হিসেবে, সাহিত্য ও কবিতার পরিবেশেই বড় হওয়ায়, লেখালেখি ছিল তাঁর সহজাত শক্তি।
বেঁচে থাকার তাগিদে তিনি কাজ নেন পরিচালক কামাল আমরোহির কাছে। মাসে মাত্র ৫০ টাকা বেতনে, এক বছর কাজ করেন। এই সময়ে একজন প্রতিষ্ঠিত লেখকের জন্য ঘোস্টরাইটার হওয়ার প্রস্তাব পেলেও, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন- কারণ জাভেদের কাছে অর্থের চেয়েও নিজের নাম ও পরিচয় ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সংগ্রামের দিনগুলো ছিল অসহনীয়। কখনও রেলস্টেশনে, কখনও পার্কে, কখনও স্টুডিওর করিডোরে রাত কাটিয়েছেন। খাওয়ার টাকা না থাকায়, দাদর থেকে বান্দ্রা পর্যন্ত হেঁটে গিয়েছেন। ক্ষুধা, অপমান আর অনিশ্চয়তার সেই দিনগুলো তাঁকে ভেঙে দেয়নি, বরং আরও দৃঢ় করেছে।
সাই-ফাই দুনিয়ার কিংবদন্তি গিল জেরার্ডের মৃত্যু, শোকস্তব্ধ ভক্তরা
পরিবর্তনের মুহূর্ত আসে যখন পরিচালক এস এম সাগর তাঁকে সহকারী হিসেবে নিয়োগ করেন। একটি ছবির সংলাপ লেখক, মাঝপথে সরে দাঁড়ালে জাভেদকে সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় অভিনেতা সেলিম খানের সঙ্গে। যদিও ছবিটি ব্যর্থ হয়, তবু এই সাক্ষাৎ জন্ম দেয় ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী লেখক জুটির, তাঁরা সেলিম-জাভেদ।
প্রথম দিকে সাফল্য এলেও কৃতিত্ব মিলত না। হতাশ হলেও তাঁরা হাল ছাড়েননি। অবশেষে ‘জঞ্জির’ ছবির মাধ্যমে, তাঁরা নিজেদের শর্তে কাজ করার সুযোগ পান এবং জোর দিয়ে অমিতাভ বচ্চনকে নায়ক হিসেবে নির্বাচন করেন। এই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় হিন্দি সিনেমার গতিপথ। জন্ম নেয় ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ এবং লেখকরাও পান তাঁদের প্রাপ্য সম্মান।
জাভেদ আখতার তাই শুধু একজন লেখক নন- তিনি একটি আন্দোলনের নাম, যিনি প্রমাণ করেছিলেন যে গল্পকাররাও তারকার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us