Jaya Bachchan: উত্তম বলেছিলেন ধানি লঙ্কা, দীর্ঘ ১৬ বছর সিনে-পাড়ায় যাতায়াত ছিল না, বঙ্গ তনয়া জয়া ভাদুড়ির প্রথম ছবি...

যদিও কলকাতায় দীর্ঘদিন থাকা হয়নি তাঁর, তবু বাঙালি পরিচয় তাঁর ব্যক্তিত্বে স্পষ্ট ছিল। গুলজার, বাসু চট্টোপাধ্যায়ের মতো পরিচালকদের ছবিতে কাজ করে তিনি হয়ে ওঠেন বাস্তবধর্মী অভিনয়ের প্রতীক।

যদিও কলকাতায় দীর্ঘদিন থাকা হয়নি তাঁর, তবু বাঙালি পরিচয় তাঁর ব্যক্তিত্বে স্পষ্ট ছিল। গুলজার, বাসু চট্টোপাধ্যায়ের মতো পরিচালকদের ছবিতে কাজ করে তিনি হয়ে ওঠেন বাস্তবধর্মী অভিনয়ের প্রতীক।

author-image
Anurupa Chakraborty
New Update
jaya

জানুন জয়ার কাহিনী...

জয়া ভাদুরি মানেই কি শুধুই সকলের সঙ্গে মিসবিহেভ? ভ্রু কুঁচকে তাকানো? নাকি বাঙালি কন্যের সিনে-কেরিয়ার মনে রাখার মত নয়? কত অল্প বয়স থেকে তিনি কাজ শুরু করেছিলেন, তা অনেকের অজানা। ১৯৪৮ সালের ৯ এপ্রিল মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে জন্ম জয়া ভাদুরির। তাঁর সিনেমায় আসার গল্প যেমন প্রতিভার, তেমনই কিছু অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনারও। খুব অল্প বয়স থেকেই তাঁর চোখে-মুখে ছিল অভিনয়ের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি- যা পরবর্তীতে তাঁকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বাস্তবধর্মী অভিনেত্রী করে তোলে।

Advertisment

কৈশোরেই তাঁর প্রথম বড় সুযোগ আসে সত্যজিৎ রায়ের বাংলা ছবি মহানগর (১৯৬৩)-এ। ছোট্ট উপস্থিতিতেই নজর কাড়েন তিনি। তবে বাংলা ছবিতে তাঁর আসল পরিচিতি তৈরি হয় অভিনেতা রবি ঘোষের হাত ধরে। পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধন্যি মেয়ে ছবির জন্য নায়িকা খুঁজছিলেন তিনি। তখনই রবি ঘোষ জয়ার কথা বলেন। নিজের স্মৃতিচারণে তিনি লিখেছিলেন, কীভাবে তিনি জয়ার জন্য বেশি পারিশ্রমিকের কথাও বলেছিলেন, কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল—এই মেয়েটির মধ্যে বিশেষ কিছু আছে।

Aamir Khan: অরিজিতের বাড়িতে আমির খান, নতুন ছবিতে কণ্ঠ দিলেন গায়ক? বিরাট ইঙ্গিত অভিনেতার

Advertisment

প্রথম দিনের শুটিং দেখেই উত্তম কুমার নাকি বলে উঠেছিলেন, “উরেব্বাস রবি, এ তো ধানি লঙ্কা!” এই মন্তব্যই পরে সত্যে পরিণত হয়। অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ও তখন জয়ার প্রস্তুতি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। খুব অল্প সময়েই বাংলা ছবিতে নিজের উপস্থিতি জানান দেন জয়া।

যদিও কলকাতায় দীর্ঘদিন থাকা হয়নি তাঁর, তবু বাঙালি পরিচয় তাঁর ব্যক্তিত্বে স্পষ্ট ছিল। গুলজার, বাসু চট্টোপাধ্যায়ের মতো পরিচালকদের ছবিতে কাজ করে তিনি হয়ে ওঠেন বাস্তবধর্মী অভিনয়ের প্রতীক। ভোপালের সেন্ট জোসেফ কনভেন্টে পড়াশোনা শেষে তিনি ভর্তি হন পুনের FTII-তে। সেখানেই তাঁর অভিনয়ের ভিত আরও মজবুত হয়।

অদ্ভুত কাকতালীয়ভাবে, জয়া আর অমিতাভ বচ্চনের জীবনেও বাংলার এক গভীর যোগ ছিল। জয়া ছিলেন বাঙালি, আর অমিতাভ তাঁর কর্মজীবনের শুরু করেছিলেন বাংলায়। কলকাতা, আসানসোল, দুর্গাপুর—বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছেন তিনি। রাস্তার ধারের ঝালমুড়ি খেতে খেতেই নাকি কাটত দিন। এই শহরের সঙ্গেই জড়িয়ে ছিল তাঁদের সম্পর্কের শুরুর গল্প।

সত্তরের দশকে গুড্ডি, কোশিশ এবং অভিমান-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে জয়া হয়ে ওঠেন হিন্দি সিনেমার অন্যতম প্রধান মুখ। তাঁর অভিনয়ে ছিল সহজতা, সংযম এবং আবেগের গভীরতা। ১৯৭৩ সালে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়, আর সেই থেকে তাঁরা বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় দম্পতি।

তবে বিয়ের দিনটিতে ছিল এক আবেগঘন মুহূর্তও। অমিতাভের বাবা, কবি হরিবংশ রাই বচ্চন তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, বিয়ের আগে তিনি জয়ার বাবাকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানালে, জয়ার বাবা নাকি বলেছিলেন, “আমার পরিবার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।” এই কথার মধ্যে লুকিয়ে ছিল সেই সময়ের আবেগ আর সামাজিক চাপের ছাপ।

বিয়ের পর জয়া দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন, সংসার আর সন্তানদের সময় দেন। পরে হাজার চৌরাশি কি মা এবং কভি খুশি কভি গম-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি আবার প্রমাণ করেন নিজের অভিনয়ক্ষমতা। শুধু সিনেমা নয়, রাজনীতিতেও সক্রিয় হন তিনি এবং সমাজবাদী পার্টির হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।

‘ধানি লঙ্কা’ বলে যাঁকে প্রথম চিনেছিল বাংলা সিনেমা, সেই জয়া ভাদুরি আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অনন্য, চিরকালীন নাম। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব আর জীবনের গল্প—সব মিলিয়ে তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি। 

Jaya Bachchan Entertainment News Today