/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/07/joydeb-mela-2026-01-07-09-01-29.jpg)
সুরের জাদুতে দুই বাংলার মানুষের মন জয় করেছেন বগা তালেব
অজয় নদের তীরে কবি জয়দেবের স্মৃতিতে প্রতি বছর আয়োজিত হয় বিশাল মেলা, যা মূলত জয়দেবের মেলা (Jaydev Mela 2026) নামে পরিচিত। মেলায় লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হয়। দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার বাউল, ফকির এবং সন্ন্যাসী উপস্থিত হন এই মেলায় (baul song festival)। তাঁরা আখড়ায় রাতভোর গান বাজনা করেন। এই মেলায় মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় মানুষ।
প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে জয়দেব মেলা শুরু হয়, চলতি বছর জয়দেবের মেলা মেলা চলবে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। এবছর জয়দেব মেলায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে জয়দেব মেলার আখড়ায় আসর জমাচ্ছেন শিল্পী রিপন মণ্ডল। বগা তালেব (Boga Taleb) তাঁর সুরের জাদুতে দুই বাংলার বহু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি, জয়দেব কেন্দুলি মেলা (Joydev kenduli Mela) বগার সুরে মাতোয়ারা হয়ে উঠছে। কিসের টানে বগা তালেব প্রতি বছর জয়দেবের মেলায় ছুটে ছুটে যান তা তিনি ‘ইণ্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা’কে জানালেন-
কিসের টানে প্রতি বছর জয়দেবের মেলায় যান?
বগা তালেব বলেন, "প্রথমবার আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা দলের সঙ্গে ঢোল বাজাতে জয়দেব মেলায় যাই, সেখান থেকেই শুরু। জয়দেব মেলায় সেদিন ভিড়ের মধ্যে আমি বন্ধুদের থেকে দলছুট হয়ে হারিয়ে যাই, তখন আমি একাএকা ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ এক বাউলের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি। পরে আমি জানতে পারি উনি কানাই দাস বাউল, উনি এখন আমার অসম্ভব পূজনীয় একজন ব্যক্তি।
সেদিন জয়দেব মেলায় (jaydev kenduli mela) রাত যত বাড়তে থাকে আমি একএক জায়গায় একএক ধরণের গানের সুর শুনেছি আর সেখানে ছুটে ছুটে গিয়েছি। ঠিক কৃষ্ণের বাঁশি শুনলে রাধা যেরকম ছুটে ছুটে চলে যেত। সেরকম আমার মনে হচ্ছিল, অনেক কৃষ্ণ বিভিন্ন জায়গায় বাঁশি বাজাচ্ছে আমি সেগুলর সুর শুনছি আর ছুটে ছুটে যাচ্ছি। সেদিন রাতে মন্ত্র মুগ্ধের মতো আমি জয়দেব মেলায় ঘুরে বেড়াই।
এরপর আমি যখন মনের মানুষ আখড়ায় যাই আমার দোস্ত কাঙাল ক্ষ্যাপা (Kangal Khyapa) আমাকে এলাকাটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখায়। সেদিন আমার গুরুজি সাধন দাস বৈরাগ্য (Sadhan Das Bairagya)-র সঙ্গে আমার আলাপ হয় এবং অনেক গান হয়।
“মানুষ হব বলে ছিল আশা, মানুষ হব বলে ছিল আশা রে…” এই গানটির কথা আমার খুবই মনে পড়ে, ওখানে মানুষ আমায় এত ভালোবাসলেন যে আমি আপ্লুত হয়ে পড়ি। সেই ভালোবাসা গায়ে মেখে বিদায় নেওয়ার দিন অদ্ভুত একটি বিষয় ঘটে। মহামায়াদি, তর্পণদা সহ আরও কয়েকজন আমাকে আমার ভাড়া বাড়িতে ছাড়তে আসেন, কিন্তু আমি বাড়িতে না থেকে আবার তাঁদের সঙ্গে জয়দেবে ফিরে যায়।
সেবার আমার পরিচয় হয় গুরু কুশল কান্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। ‘কুশুল বুড়ো’ আমকে একদিন রাতে জয়দেবের গল্প শোনান তারপর কখন, কীভাবে এবং কেন জানি না জয়দেব আমার নিজের হয়ে গেল। এই টান যে কিসের টান তা আমি নিজেকেও বারবার প্রশ্ন করি যে, আসলেই আমি কেন যাই জয়দেবে?”
আরও পড়ুন: বাংলা সিনেমা জগতে গর্বের মুহূর্ত তৈরি করল শ্রীলেখা মিত্রের ‘মায়ানগর’
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us