/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/11/rambha-2026-02-11-12-36-11.jpg)
কোথায় এখন তিনি?
ধুরন্ধর ছবিতে ৮০–এর দশকের কাল্ট ডিস্কো গান “রম্ভা হো” নতুন করে ব্যবহার হওয়ার পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছেন, প্রবীণ অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী কল্পনা আইয়ার। ১৯৮১ সালের আরমান ছবিতে তার পরিবেশিত এই গানটি একসময় ঝড় তুলেছিল। সম্প্রতি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে একই গানে তার নাচের ভিডিও ভাইরাল হতেই, নতুন প্রজন্ম যেন হঠাৎ করেই তাকে আবিষ্কার করেছে। ৭০ বছর পূর্ণ হওয়ার কয়েক মাস আগে এই অপ্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা নিয়ে কল্পনা বললেন, এটি যেন “ভাগ্যেরই আরেকটি দরজা খোলা”।
ধুরন্ধরে “রম্ভা হো” ব্যবহারের পর তার নাচ নিয়ে যখন চারদিকে আলোচনা, কল্পনার কণ্ঠে কৃতজ্ঞতার সুর স্পষ্ট। তিনি বলেন, “দাদু-দিদা থেকে শুরু করে বাবা-মা আর নতুন প্রজন্ম- সবার ভালোবাসায় আমি অভিভূত। আমি বহু বছর ধরে হৃদয়ে এই মুহূর্তের অপেক্ষা করেছি। যদি ‘রম্ভা হো’ আমাকে আবার মানুষের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে থাকে, তবে এর জন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।”
Rajpal Yadav: 'ফেরত দেওয়ার মতো টাকা নেই', তিহার জেলে আত্ম-সমর্পণ, অসহায় রাজপাল
তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান ছবির নির্মাতাদের। “ধুরন্ধর, আদিত্য ধর এবং পুরো টিমকে ধন্যবাদ। তারা গানটিকে পুনর্জীবিত করেছেন। নতুন প্রজন্ম এটিকে গ্রহণ করেছে- এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” ইয়াহা নাচে নাচে”, “জব চায়ে মেরা জাদু”, “ছোড়ো সনম”- আজও সমান জনপ্রিয়। তিনি বলেন, “আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি যে আমার করা গানগুলো এত বছর পরেও মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।”
বলিউড ছেড়ে হঠাৎ দুবাইয়ে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তার স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি কখনও ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিইনি। কাজ কমে গিয়েছিল, কিন্তু আমি কখনও বলিনি যে আমাকে প্রধান চরিত্রই দিতে হবে। আমি শুধু চাইতাম মর্যাদার সঙ্গে কাজ আসুক।” তিনি বিশ্বাস করেন, “যা তোমার প্রাপ্য, তা একদিন না একদিন তোমার কাছে আসবেই। ৭০ বছরে দাঁড়িয়ে এর চেয়ে সুন্দর প্রত্যাবর্তন আর কী হতে পারে?”
Ranveer Singh: প্রাণনাশের ইঙ্গিত? রণবীর সিংকে হুমকি! বাড়ল বাসিন্দাদের উদ্বেগ
সম্প্রতি প্রভাস তার আরেক হিট গান “কোই ইয়াহা নাচে নাচে”–তে নেচেছেন। এ নিয়ে কল্পনার প্রতিক্রিয়া, “প্রভাসের মতো সফল অভিনেতা আমার গানে নেচেছেন- এটাই আমার কাছে সম্মানের। তুলনা করার কোনও প্রশ্নই নেই। আজকের সময় তাদের। আমি যা জানতাম, আমার সময়ে তাই করেছি। এখন নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।”
নিজেকে কখনও প্রশিক্ষিত নৃত্যশিল্পী হিসেবে দাবি করেন না কল্পনা। তার কথায়, “আমি কিছু শিখিনি। ঈশ্বর আমাকে সহজাতভাবে নাচের ক্ষমতা দিয়েছেন।” ছোটবেলায় হেলেনের “মেরা নাম চিন চিন চিন” গানে নেচেই মঞ্চজীবনের শুরু। মুকেশ, মান্না দে, মোহাম্মদ রফি, কিশোর কুমার, কল্যাণজি-আনন্দজি ও বাপ্পি লাহিড়ীর মতো কিংবদন্তিদের স্টেজ শোতে সুযোগ পাওয়াকে তিনি জীবনের বড় আশীর্বাদ মনে করেন।
দুবাইয়ে তার বর্তমান জীবন নিয়ে তিনি বলেন, “আমি দেশ ছেড়ে পালাইনি। এখানে আমাকে খোলা হাতে স্বাগত জানানো হয়েছে। পরিবারকে নিয়ে আমি সুখে আছি। কিন্তু কাজের প্রতি আমার টান আজও অটুট। আমার দরজা খোলা, ফোন খোলা। কেউ যদি মনে করেন আমি কিছু পাওয়ার যোগ্য, কাজ অবশ্যই আসবে।”
অনুশোচনা আছে কি? কল্পনার উত্তর স্পষ্ট- “না, আমার কোনও অনুশোচনা নেই। হয়তো আরও বড় চরিত্র করতে পারতাম, কিন্তু ‘যদি’ আর ‘কিন্তু’ নিয়ে বাঁচতে চাই না। আজকের দিনটাই আমার কাছে মূল্যবান।” বর্তমান বলিউডের নৃত্যশিল্পীদের মধ্যে তিনি নোরা ফাতেহি, তামান্না ভাটিয়া, শ্রদ্ধা কাপুর, দীপিকা পাড়ুকোন ও আলিয়া ভাটের নাম উল্লেখ করেন। তবে জোর দিয়ে বলেন, “সবাই অসাধারণ পরিশ্রম করছে। কাউকে আলাদা করে ছোট করা ঠিক নয়।”
অতীত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি বিতর্কে যেতে চান না। “যারা আর নিজেদের পক্ষে কথা বলতে পারেন না, তাদের নিয়ে আমি আলোচনা করি না। আমি বর্তমান নিয়ে বাঁচতে চাই।” শেষে কল্পনার একটাই আবেদন- “আমি কাজ করতে চাই। নাচ হোক, অভিনয় হোক, অতিথি উপস্থিতি- যে কোনও কিছু। আমার ৭০তম জন্মদিন আমি কাজের মধ্য দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে চাই।”
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us