/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/14/kaantha-movie-review-rating-dulquer-salmaan-samuthirakani-bhagyashri-borse-rana-daggubati-2025-11-14-19-25-56.jpeg)
কেমন হল এই ছবি...
পরিচালক আর. বালকির শমিতাভ (২০১5) বা চুপ: রিভেঞ্জ অফ দ্য আর্টিস্ট (২০২২) মনে আছে? বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যেসব সিনেমাগুলি মাঝপথে আশা ভেঙেছিল, কান্থা ঠিক সেই ঘরানারই আরেকটি উদাহরণ। লেখক-পরিচালক সেলভামণি সেলভারাজের এই পিরিয়ড ড্রামা-থ্রিলার প্রযুক্তিগতভাবে দুর্দান্ত হলেও দুর্বল লেখনী এবং অসংলগ্ন গল্প বলার কারণে শেষ পর্যন্ত দানা বাঁধতে পারেনি।
ছবির ট্রেলার দেখে মনে হতে পারে এটি ১৯৫০-এর দশকের তামিল শিল্পকে শাসন করা সুপারস্টার টি. কে. মহাদেবন (দুলকার সালমান) এবং তাঁর গুরু থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা আয়া (সামুথিরাকানি)-র অহং সংঘাতের গল্প। কিন্তু শুরুতেই মডার্ন স্টুডিওতে ঘটে যাওয়া একটি খুন ইঙ্গিত দেয় যে ঘটনাটা শুধুই ব্যক্তিগত লড়াই নয়, আরও গভীর কিছু। দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রেখে গল্প এগিয়ে চলে, যা রহস্যকে ক্রমাগত বাড়িয়েছে।
কাহিনির কেন্দ্রে সান্থা নামের একটি হরর ফিল্ম, যা একসময় অসমাপ্ত থেকে গিয়েছিল। বছর পরে, স্টুডিওর মালিক মার্টিনের সহায়তায় টিকেএম এবং আয়া আবার এটি পুনরায় নির্মাণের কাজ শুরু করেন। একজন চান তাঁর কল্পনা অনুযায়ী ছবিটি তৈরি করতে, অন্যজন চান নিজের আধিপত্য প্রমাণ করতে। এই ক্ষমতার লড়াইয়ে আটকে পড়ে নবাগতা অভিনেত্রী কুমারী (ভাগ্যশ্রী বোর্সে), যার আনুগত্য আয়ার প্রতি হলেও হৃদয় ধীরে ধীরে টিকেএমের প্রতি ঝুঁকে যায়।
ইন্টারভালের পর গল্পটি হঠাৎ পাল্টা রূপ নেয়। ইন্সপেক্টর ফিনিক্স (রানা দাগ্গুবাতি) তদন্ত শুরু করলে টোন বদলে যায়, এবং তার অতিরঞ্জিত, কার্টুনি-গুণে ভরা আচরণ গল্পের গাম্ভীর্যকে ব্যাহত করে। কিছু মুহূর্ত হাস্যরস আনে ঠিকই, তবে সামগ্রিকভাবে বিভ্রান্তি বাড়ায়।
কান্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এর অপ্রতিসম স্ক্রিপ্ট। প্রতিটি দৃশ্য আলাদা করে প্রভাব বিস্তার করে, কিন্তু একসঙ্গে একটি অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ তৈরি করতে ব্যর্থ। মাঝে মাঝে এমন দৃশ্য যোগ করা হয়েছে যা চরিত্রের আর্ক বা মূল আখ্যানে স্বাভাবিকভাবে মিশে যায় নি। বেশ কিছু দৃশ্য অতিরঞ্জিত লেগেছে।
Shah Rukh Khan: শাহরুখ-কে চড় মেরেছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা! সামনে এল বিরাট বড় সত্যি..
তবুও কান্থার প্রযুক্তিগত দিক নিঃসন্দেহে অসাধারণ। ড্যানি সানচেজ লোপেজের স্নায়ু-কাঁপানো চিত্রগ্রহণ, লেভেলিন গনসালভেজের ধারালো সম্পাদনা, আলোক-ছায়ার অপূর্ব ব্যবহার এবং সুনিপুণ দৃশ্য নির্মাণ চলচ্চিত্রটিকে ভিজ্যুয়ালভাবে অনন্য করে তুলেছে। রঙ ও একরঙা টোনের স্মার্ট ব্যবহার, যুগের প্রতি সূক্ষ্ম শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং নিখুঁত সাউন্ড ডিজাইন ছবিকে আরও সমৃদ্ধ করে।
অভিনয়ের ক্ষেত্রেও ছবিটি সফল। দুলকার সালমান ৫০-এর দশকের তারকা-ব্যক্তিত্বকে সূক্ষ্মতা ও মেলোড্রামার মিশেলে দুর্দান্তভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সামুথিরাকানি- স্তরযুক্ত, সংযত অভিনয় দিয়ে আয়ার চরিত্রকে শক্তিশালী করেছেন। ভাগ্যশ্রী বোর্সে উজ্জ্বল, বিশেষত সান্থার দৃশ্যগুলোতে। সব মিলিয়ে কান্থা হল চমৎকার অভিনয় ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে ভরপুর একটি চলচ্চিত্র, যা পরিণামে দুর্বল গল্প বলার কারণে প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে না।
- ছবিঃ কান্থা
- অভিনয়েঃ দুলকার সালমান, সামুথিরাকানি, ভাগ্যশ্রী বোরসে, রানা দাগ্গুবাতি, রবীন্দ্র বিজয়, বাগবতী পেরুমাল, নিঝালগল রবি কান্থা
চলচ্চিত্র - পরিচালক: সেলভামণি সেলভারাজ কান্থা
- রেটিংঃ ৩/৫
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us