/indian-express-bangla/media/media_files/2025/04/17/zHLj4cUlnLFQYVpC3rWI.jpg)
যা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে... Photograph: (Instagram)
বলিউডের অন্যতম সফল সিনে-নির্মাতা করণ জোহর আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তার শুরুটা ছিল একেবারেই ভিন্ন পথে। পরিচালকের আসনে বসার অনেক আগে, ১৯৯৫ সালের কালজয়ী ছবি ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’-র সেটে তিনি কাজ করেছিলেন সহকারী হিসেবে, তাও আবার পোশাক বিভাগের সহযোগী হিসাবে। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আজও তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে করণ জানান, সেই শুরুর দিনগুলোতে কিংবদন্তি কোরিওগ্রাফার সরোজ খানের সঙ্গে কাজ করা, তাঁর জন্য ছিল বেশ ভয়ের অভিজ্ঞতা। তাঁর কথায়, “আমি সত্যিই আঘাত পেয়েছিলাম। তখন মনে হতো, তিনি আমার জীবনটাই নরক করে তুলেছিলেন।”
দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে করণ ‘মেহেন্দি লাগা কে রাখনা’ গানের শুটিংয়ের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন। ওই গানের পোশাক মূলত ডিজাইন করেছিলেন মণীশ মালহোত্রা এবং আদিত্য চোপড়ার মা পামেলা চোপড়া। তবে সেটে সবকিছু ঠিকঠাকভাবে পরিচালনার দায়িত্ব ছিল করণের উপর। তিনি বলেন, “সেই সময় পোশাক দাদা আমার সবচেয়ে বড় সহযোগী ছিলেন। মণীশ সকালে এসে জামাকাপড় দিয়ে চলে যেতেন। পাম আন্টি সবকিছু দেখভাল করতেন, আর আমি তাঁকে সাহায্য করতাম।”
Don 3: ‘ডন ৩’ ছাড়তেই রণবীরের কাছে ৪০ কোটির দাবি! তীব্র বিতর্ক
সমস্যা শুরু হয় শেষ মুহূর্তে নৃত্যশিল্পীদের জন্য লাল স্কার্ফের দাবি উঠলে। করণের ভাষায়, “আমাদের কাছে যথেষ্ট কাপড় ছিল না। যে সামান্য লাল কাপড় পেয়েছিলাম, তা দিয়ে এক হাতের স্কার্ফই বানানো সম্ভব ছিল।” তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে, তিনি সরোজ খানের সহকারীকে একটি কৌশলী প্রস্তাব দেন- নৃত্যশিল্পীরা এক হাত পকেটে রেখে অন্য হাতে স্কার্ফ ধরলে তা স্টাইলিশ লাগবে। সহকারী প্রথমে সেটি মেনে নিলেও, সরোজ খান বিষয়টি জানতে পেরে রেগে যান।
করণ সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে বলেন, “তিনি আমাকে ধরে ধাক্কা দিয়ে বললেন, ‘যাও, গোরেগাঁও থেকে লাল কাপড় এনে দাও, নইলে শুটিং হবে না।’ আমি রাস্তায় দৌড়াচ্ছিলাম, ভয়ে কাঁপছিলাম। সত্যিই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম।” তবে এই অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও, করণ সরোজ খানের প্রতিভার প্রশংসা করতে ভোলেননি। তাঁর কথায়, “তিনি ভয়ঙ্কর ছিলেন, কিন্তু তিনি সেরাদের তালিকায় একজন ছিলেন। তাঁর প্রতিভা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।”
Rupa Ganguly: “চড় মারলে কাজ মেলে না” - ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে তীব্র মন্তব্য রূপার
করণ আরও জানান, শুটিংয়ের সময় তিনি প্রায়ই অযাচিত মতামত দিয়ে ফেলতেন, যা সরোজ খানকে বিরক্ত করত। এমনকি আদিত্য চোপড়াও মাঝে মাঝে তাঁকে কড়া দৃষ্টিতে তাকিয়ে বোঝাতেন, বেশি কথা না বলাই ভালো। করণ হেসে বলেন, “তখন আমি বুঝতাম না, কখন কথা বলা উচিত আর কখন নয়।” এই স্মৃতিচারণা করণের ক্যারিয়ারের শুরুর কঠিন কিন্তু শিক্ষণীয় দিনগুলোর এক ঝলক তুলে ধরে, যা তাঁকে আজকের সফল চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলেছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)

Follow Us